আমি এমপি দবিরুলের কথা বলতেছি॥

শনিবার, ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ | ৪:১৪ অপরাহ্ণ | 1599 বার

আমি এমপি দবিরুলের কথা বলতেছি॥
ছবি- এমপি দবিরুল

আমি এমপি দবিরুলের কথা বলতেছি॥”

এম. ওমর হাসনাত।

বিখ্যাত ব্যক্তি এপিজে আব্দুল কালামের অতি পরিচিত সেই উক্তিটি- “যে স্বপ্ন তুমি ঘুমিয়ে দেখ সেটা স্বপ্ন নয়, আর যে স্বপ্ন তোমাকে ঘুমাতে দেয় না সেটাই হলো আসল স্বপ্ন।” আর হ্যা সেই স্ফপ্ন নিয়েই যেন ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাধীন বড়বাড়ী গ্রামের লতিফুন্নেসার গর্ভ থেকে এক সুতীব্র চিৎকারে জন্ম নিয়েছিলেন একটি শিশু। সে দিনটির কথা হয়েতো কারো জানা ছিল না। যে শিশুটি প্রতিদিন মায়ের কোলে অঝোর শব্দে মা মা বলে কেঁদে উঠতো। সেই শিশুটির নাম দবিরুল। যিনি সেই নিভৃত ছায়াঘেরা বড়বাড়ী গ্রামে ধুলামাখানো দেহেই বেড়ে উঠেছে অতি হাঁসি আনন্দে।

প্রাথমিকের গন্ডি পার হলো গ্রামের সেই বড়বাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই।এবার ভর্তি হলেন বালিয়াডাঙ্গীর প্রাচীণ বিদ্যাপীঠ লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিশোর দবিরুল যে প্রতিবাদী ও এক সাহসী চেতনার মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠবে তা এখানেই জানা গেল। লাহিড়ী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধাণ শিক্ষকের বিভিন্ন অপকর্ম কিশোর দবিরুলকে ভাবিয়ে তোলে।

এতে কিশোর দবিরুল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোস্টারিং সহ ধর্মঘট ও আন্দোলন গড়ে তোলেন। এবার স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হলো কিশোর দবিরুল কে। তিনি যেন কোনো স্কুলেই ভর্তি হতে না পারেন এজন্য তার চারিত্রিক সনদপত্রে লাল কালি দিয়ে Not Good লিখে দেওয়া হলো। এতে তিনি ভর্তি হওয়ার জন্য অনেক স্কুলের গেটেই পা রাখলেন কিন্তু কোনো স্কুলেই তাকে ভর্তি নেওয়া হলো না। এরপর তিনি ভর্তি হতে গেলেন বিরল উচ্চ বিদ্যালয়ে। অবশেষে সেখানকার প্রধান শিক্ষকের সুপারিশক্রমেই লাহিড়ী স্কুলে তাকে আবার ভর্তি নেওয়া হলো।

বিনোদনপ্রেমী ও বইপ্রেমী এই দবিরুল তখন তার নিজস্ব সংগৃহীত বই দিয়ে লাহিড়ীতে প্রতিষ্ঠা করেন নবারুন মিলন সংঘ ও পাঠাগার। ১৯৬৫ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করার পর ভর্তি হলেন ঠাকুরগাঁও কলেজে। আর ঠাকুরগাঁও কলেজের ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় তিনি “দৈনিক সংবাদ” পত্রিকার নিজস্ব সংবাদদাতা ও ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তরুণ দবিরুল যে মানবপ্রেমী ও একজন নেতা হিসেবে গড়ে উঠবে তার প্রমাণ মিলে ছাত্রজীবনেই। তা একটা টুকরো ঘটনার মধ্যে দিয়েই বোঝা যায়, পাড়িয়া গ্রামে একবার ডাকাত দল প্রবেশ করেছিল।

নন্দ মেম্বারের ছেলে নরেন চন্দ্র ডাকাত কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়। তখন তরুণ দবিরুল আহত নরেন কে ঢাকায় নিয়ে যান এবং চিকিৎসার সব টাকা নিজেই বহন করেন। এভাবেই বিভিন্ন মানবপ্রেমী কাজ করে দবিরুল মানুষের প্রিয় মুখ হয়ে উঠেন। ঠাকুরগাঁও কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে স্নাতক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর করেন।

তৎকালীন ইকবাল হলে থাকাকালীন অবস্থায় দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক আলী আকসাদের সান্নিধ্যে আসেন। পরে তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সহ সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন। এরপর দবিরুলকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। নিজ এলাকার মানুষের সমর্থন নিয়ে নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।

১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনে দু বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভ মুগ্ধ হয়ে তাকে এক নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। এরপর আওয়ামীলীগ থেকে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালে আবার এমপি নির্বাচিত হন।এভাবেই অনেক চরাই উৎরায় পেরিয়ে কিশোর দবিরুল আজ ঠাকুরগাঁওয়ের বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

কারাগারে ৩টি পত্রিকা ও একটি চ্যানেল দেখার সুযোগ পাবেন খালেদা

পৌর এলাকা, গোয়ালপাড়া, ঠাকুরগাওঁ শহর, ইমেইল- sujonshorma109@gmail.com

Development by: webnewsdesign.com