একজন তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মাহমুদুর রহমানের সাতকাহন

বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮ | ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ |

একজন তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মাহমুদুর রহমানের সাতকাহন

মাহমুদুর রহমান। যার বর্তমান পরিচয় হচ্ছে, তিনি বিতর্কিত ‘আমার দেশ’ নামক একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক। প্রসঙ্গত, এই পত্রিকাটির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হচ্ছে একাধিক বার বিভিন্ন ধরণের বানোয়াট ও ভিত্তিহীন উস্কানিমূলক খবর প্রকাশ করে দেশে ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টি করা। এছাড়াও পর্দার আড়ালে মাহমুদুর রহমানের আরো কিছু পরিচয় হচ্ছে, তিনি বিএনপি জামায়াত জোটের তথাকথিত একজন বুদ্ধিজীবী ও জোটের নীতিনির্ধারকদের একজন, তিনি কুখ্যাত রাজাকার এবং বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী হারুন অর রশীদ খান মুন্নুর মেয়ের জামাই।

মাহমুদুর রহমানের জন্ম ১৯৫৩ সালে কুমিল্লায়। প্রকৌশলের ছাত্র মাহমুদুরের পেশাজীবনের উত্তরণ ঘটে দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপ বেক্সিমকোর মাধ্যমে। পরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়। বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর সিরামিকস থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিতাড়িত হওয়ার পর মুন্নুর মেয়ের জামাই হওয়ার সুবাধে মাহমুদুর রহমান যোগ দেন তার শ্বশুরের মালিকানাধীন মুন্নু সিরামিকস কোম্পানিতে। কিন্তু সেখানেও টাকার লোভের কারণে নিজ শ্বশুরের সাথেই তার দ্বন্দ্ব শুরু হলে মুন্নু সিরামিকস থেকেও তাকে অপমান করে বের করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে তারেকের সাথে তার ভালো সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি কেড়ে নেন নিজ শ্বশুরের দপ্তর বিহীন মন্ত্রীত্ব।

বিএনপি সরকারের শেষভাগে এসে কিছুদিনের জন্য প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান। উপদেষ্টা থাকার দিনগুলোতেও বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য বহুবার সংবাদপত্রের শিরোনামে আসেন মাহমুদুর রহমান।

২০০৬ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে পুলিশসহ জনপ্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে গেলে বৈঠকে যোগ দেওয়া অনেক কর্মকর্তা মুখ ঢেকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত জোটকে আবারো ক্ষমতায় বসাতেই ওই গোপন বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন মাহমুদুর। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোড়িত, সমালোচিত হয়।

সাংবদিকতার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও ২০০৮ সালে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন মাহমুদুর রহমান। এরপর থেকেই মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে পুরোপুরি হলুদ সাংবাদিকতার যুগে প্রবেশ করে ‘আমার দেশ’। ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন সময় পত্রিকায় মাহমুদুর রহমানের বিভিন্ন বক্তব্য এবং আমার দেশের সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়।

২০১২ সালের শেষ দিকে ব্রাসেলস ভিত্তিক আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান নিজামুল হকের কথিত স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ করে দৈনিক আমার দেশ। এর মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

কথিত ওই ব্যক্তিগত কথোপকথন পত্রিকায় প্রকাশের ঘটনায় উল্লেখিত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শাহীনুর রহমান তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন, যার আসামী হিসাবে গ্রেপ্তার করা হয় মাহমুদুর রহমানকে।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে রাজাকারদের বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরণের মিথ্যা, বানোয়াট ও উস্কানিমূলক খবর প্রকাশ করে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেন মাহমুদুর রহমান। তখন তার পত্রিকায় প্রকাশিত উস্কানিমূলক খবর গুলো উগ্রপন্থীদের উদ্বুদ্ধ করে নাস্তিক নিধনের নামে ব্লগারদের হত্যা করতে।

সমগ্র মুসলিম বিশ্ব যেই কাবা শরীফকে সামনে রেখে মহান আল্লাহর দরবারে সেজদাহ করে, সেই কাবা শরীফকে নিয়েও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল মাহমুদুর রহমান। ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি কাবা শরীফের গিলাফ পরিবর্তনের একটি ছবিকে ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে সেটিকে সাঈদীসহ যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মানববন্ধন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছিল মাহমুদুর রহমানের ‘আমার দেশ’ পত্রিকা।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীলতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কোনোভাবেই উস্কানিমূলক খবর ছড়িয়ে দেশে দাঙ্গা সৃষ্টি করার চেষ্টা করাটা যৌক্তিক নয়। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে গণহত্যায় ভূমিকা রাখার অপরাধে ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর ‘নুরেমবার্গ ট্রায়ালে’ Der Sturmer নামের পত্রিকার সম্পাদক জুলিয়াস স্ট্রেচারকে (Juluis Streichar) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে কুষ্টিয়াতে দায়ের করা মামলায় সম্প্রতি জামিন চাইতে গেলে সেখানে জনরোষের শিকার হন মাহমুদুর রহমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায় তার নামে কুষ্টিয়ার আদালতে মামলা হওয়ার কারণে কুষ্টিয়াবাসীকে দিল্লির কুকুর বলে গালি দেন মাহমুদুর রহমান। ফলশ্রুতিতে উপস্থিত জনতার রোষের শিকার হন তিনি, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে চাইলে তিনি পুলিশকেও হাসিনার পা চাটা কুকুর বলে গালি দিয়ে তাদের সাথে নিরাপদ স্থানে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

মূলত মাহমুদুর রহমানের নিজের কারণে ঘটে যাওয়া এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে ফায়দা লুটার জন্যই পুলিশের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। এমনটাই মনে করেন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

কলেজপাড়া,মাজার রোড,ঠাকুরগাঁও-৫১০০, বার্তা বিভাগ-01763234375, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com