“একটি স্বপ্নের গল্প” শেষ পর্ব

কবি ফারজানা আহমেদ রচিত “একটি স্বপ্নের গল্প” শেষ পর্ব পড়ুন

শনিবার, ০৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ |

কবি ফারজানা আহমেদ রচিত  “একটি স্বপ্নের গল্প” শেষ পর্ব পড়ুন
“একটি স্বপ্নের গল্প” শেষ পর্ব
গল্প
“একটি স্বপ্নের গল্প”
(শেষ পর্ব)
লেখক: ফারজানা আহমেদ
স্কুলের সব স্যার ম্যাডামরাই  মাইনুল স্যারকে শ্রদ্ধা করে।উনার ব্যাক্তিত্ব ওনার কথা বলার ধরণ সবাইকে মুগ্ধ করে।
মাইনুল স্যার আর আমার প্রতিদিন স্কুলে ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে কথা চলছিল।এভাবে কথা বললে সবার সন্দেহ হবারই কথা।বেশ কিছুদিন টিচার আর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ফুসুরফুসুর আর হাসি ঠাট্টা চলচ্ছিল।
একদিন প্রিন্সিপাল ম্যাডামও জানলেন এবং মাইনুল স্যারকে আর আমার গার্ডিয়ানকে  ডাকা হলো।সব কিছু ফাঁস হয়ে গেল।মাইনুল স্যার কিছুই লুকালেন না।সত্যি কথাই শিকার করলেন।
আমাকে প্রিন্সিপাল জিঙ্গাসা করতেই,আমি বললাম – আমি উনাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসি।
আমার বাবা মা আমাকে ওখানেই মারতে উঠলেন।
প্রিন্সিপাল বললেন, আপনারা আপনাদের মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে শাসন করুন। এখানে আমাকে ওদের বিচার করতে দিন।
আমার বাবা মা চুপ হয়ে গেলেন।
মাইনুল স্যারকে প্রিন্সিপাল বললেন, আপনার ঘরে বউ দুটি বাচ্চা আছে। আপনি কিভাবে এতোটুকু মেয়ের সাথে জড়ালেন!আমিতো আশ্চর্য হয়েছি – আপনার মতো এমন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি এমন কাজ করতে পারে!যা হয়েছে ভুলে যান।আজকের পর থেকে ছাত্রী শিক্ষকের সম্পর্ককে নোংরা করবেন না প্লিজ।আর আমাকে প্রিন্সিপাল বললেন, তুমি আর এমন কাজ করবেনা। ভাল ছাত্রী বলে মাফ নেই।
প্রিন্সিপাল বললেন, আজই যেন এই ঘটনার শেষ দিন হয়।এরপর এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে, আমার কাছে রিপোট এলে আমি মাইনুল স্যার আপনাকে আর আয়শাকে স্কুল থেকে বের করে দিতে বাধ্য হবো।অতএব ঠিক ভাবে চলুন। এবার আপনারা যান।
এরপর আমরা স্কুলে না, বাইরে দেখা করতে লাগলাম।স্যারের স্কুলের ক্লাশ অথবা বাসার কোচিং মাঝে মাঝে বাদ যেতে লাগলো।গার্ডিয়ানরা স্যারের উপর বিরক্ত হচ্ছিল।স্যারের বউ ভীষণ কান্নাকাঠি করচ্ছিল – কিন্তু তখন আমাদের আর কিছু করবার নেই।আমরা একে অপরকে না দেখে থাকতে পারচ্ছি না।
আমার অংক কোচিং বাদ দেওয়া হল।স্কুলে মা দিয়ে আসছে আবার নিয়ে আসছে। স্কুল থেকে বের হওয়া আর হয়ে উঠছে না।
একদিন স্কুলে প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়লাম।তারপর যা হবার তাই হলো।স্যারের চাকরি গেল আর আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেল।মা বাবা আমার সাথে কথা বলেনা।পাড়া প্রতিবেশিরা ঘৃণার চোখে দেখে।
এরমধ্যে বেশ কিছুদিন কেটে গেল।পালিয়ে স্যারের সাথে দেখা করবার প্লান করচ্ছি।
প্রায় একমাস কেঁটে গেল কিছুতেই বাড়ির বের হতে পারচ্ছিনা।সামনেই এস এস সি পরীক্ষা,মাকে বললাম মা সামনেই পরীক্ষা কিছু জিনিস কিনতে হবে আর সাথীর কাছে কিছু নোট আছে ওগুলো আনতে হবে। নোটগুলো খুব ভাল, কোচিং যখন করতাম ও বলেছিল।মা কি যেন ভাবলেন, তারপর বললেন ঠিক আছে যাও। আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি, তুমি সব কিনে এনো।
আমার মনে তখন দক্ষিনা বাতাস বইছিল।আবার আমাদের দেখা হচ্ছে।কি যে আনন্দ। নীল রঙ্গের সুন্দর জমাটি পড়লাম, কপালে নীল টিপ পড়লাম খুব ছোট।আয়নায় নিজেকে ভীষণ সুন্দর লাগলো।স্যারের চোখে কি ওকে আজ পরমা সুন্দরী লাগবে?যাক আগে দেখা হওয়া দরকার।নিশ্চয় স্যারও ওর জন্য অস্থির হয়ে আছে।পাগলাটে মানুষটি না জানি ওর জন্য কতো কষ্টই না পাচ্ছে।ছোট্ট পার্সটা নিয়ে রওনা দিল স্যারের বাসার উদ্দেশ্যে আয়শা।
স্যারের বাসায় তালা দেওয়া।বাড়িওয়ালাকে জিঙ্গেস করাতে – উনি আমার দিকে ঘৃণা ভরে তাকালেন।পরে বললেন, লজ্জায় পালিয়েছে বউ বাচ্চা নিয়ে।বাসার ভাড়াও দিয়ে যায়নি চোর।আমি ক্লান্ত হয়ে ওখানে সিড়ির উপর বসে পড়লাম।আমার মাথা কাজ করছেনা।আমি শুধু এটুকুই বুঝলাম স্যারকে ছাড়া আমি বাঁচবো না।কোথায় গেলে স্যারকে পাবো তাই ভাবছিলাম।এক সময় রাস্তায় বের হলাম, গন্তব্য জানিনা।স্যারের দেশের বাড়ি বরিশাল শুধু এটুকু জানি কিন্তু বরিশালের কোথায় তা জানিনা।স্যার আমাকে না বলে কেন চলে গেল?স্যারের কোন বিপদ হলোনাতো?আমি হাইওয়ে দিয়ে চলছি।সামনে কিছুই চোখে পড়ছে না।চোখ বেয়ে শুধু জল গড়িয়ে পড়ছে। একটি ট্রাক সামনে দিয়ে খুব কাছ দিয়ে আসচ্ছিল।সরে যেতেই পেছন থেকে একটি গাড়ি আমাকে ধাক্কা দিল।আমি ছিটকে দূরে গিয়ে পড়লাম।তারপর আমার মৃত্যু হল।আয়শা বললো, আমার গল্প এখানেই শেষ আপু।
আমি আয়শার গল্প শুনতে শুনতে গল্পের ভেতর ঢুকে গিয়েছিলাম।চমকে ওর দিকে তাকাতেই দেখলসম ওর চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অঝোর ধারায় কান্না।আমি ওকে কি বলে সান্তনা দেব বুঝে উঠতে পারলাম না।আকাশে বিদ্যূৎ চমকাচ্ছে।প্রচন্ড জোরে বাতাস বইছে।আমরা দুজন দাড়িয়ে আছি একটি ছোট্ট গাছের পাশে।একটু পড়েই ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়তে লাগলো।আমরা বৃষ্টিতে ভিজলাম।হঠাৎ প্রচন্ড জোরে বিদ্যূৎ চমকালো, আমি ভয়ে কেঁপে উঠলাম।
আমি শুনতে পেলাম একটি চেনা সুর।অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে একটি পবিত্র মধুর ধ্বনি।আমি চোখ মেলে তাকালাম।দেখলাম আমি খাটে শুয়ে আছি।জানালার পর্দ্দা সরানো।দূর থেকে আজানের ধ্বনি শুনেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে।আমি উঠে বসলাম।মধুর আহব্বানের প্রতিটি শব্দ আমার বুকে গেঁথে গেল।আমি ওযু করে ফজরের নামাজ আদায় করলাম।মনটা চমৎকার প্রফুল্ল হয়ে উঠল।বারান্দায় এলাম,চারিদিকে এখনও অন্ধকার।নিস্তব্ধ আকাশ,ঠান্ডা বাতাস আমার মুখ কপাল সারা শরীরকে পরশ বুলিয়ে দিল।আমি বারান্দায় দাড়িয়ে।একটু পরে অল্প অল্প আলো ফুটতে লাগলো।একে একে মুসল্লিরা নামাজ পড়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে।সবাই সাদা পাঞ্জাবী পায়জামা সাদা টুপি।অপরূপ এক দৃশ্য।আমার মনটা ভরে গেল।
-সমাপ্তি-

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আজ সূর্যের পাশে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা দেখা গিয়েছে

কলেজপাড়া,মাজার রোড,ঠাকুরগাঁও-৫১০০, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

Development by: webnewsdesign.com