নারীরা এগিয়ে যাবে: বিশ্ব‍্যের বিশ্ব‍্যয়নে

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ |

নারীরা এগিয়ে যাবে: বিশ্ব‍্যের বিশ্ব‍্যয়নে
অনলাইন ছবি

দুটি উক্তির মাধ্যমে লিখবো আমি আমাদের নারী সমাজের চিরাচরিত কিছু সত্য কথামালা।যে কথাগুলো আমরা সকলেই জেনে থাকি,তবে সকলেই এর কার্যকারিতা তেমন ভাবে করে থাকিনা,তাদেরকে সমতুল্য ভেবেই আমাদের জীবন যাপন অতিবাহিত করা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করে থাকি।

“বিশ্বের নারী নেতারা নারীদের প্রতিনিধি নয়;
তারা সবাই রুগ্ন পিতৃতন্ত্রের প্রিয় সেবাদাসী ”


“সে যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না
“নারীরা ছিলো দাসী।”

নারী মুক্তির প্রশ্ন এবং শোষণ মুক্তির প্রশ্ন একসঙ্গে করতে না পারলে নারীমুক্তি সম্ভব হবে না। নারীর প্রত্যেকটা কাজের সামাজিক মূল্যায়ন করতে হবে ,নারী শুধু গৃহে কাজ করেন না, অনেক উৎপাদনশীল কাজও তাঁরা করেন৷ কিন্তু সবগুলো কাজকেই ধরা হয় সংসারের কাজ৷ সমাজও ঠিক সেইভাবেই দেখে৷ সমাজ মনে করে, নারী সংসার দেখেন, সন্তান সামলান – এটাই তাঁর কাজ৷ এর বাইরেও গ্রামের নারীরা কিন্তু গবাদি পশু দেখেন, বীজ সংরক্ষণ করেন – এমন হাজারো কাজ করেন তাঁরা৷ যেহেতু এ সব কাজেরও মূল্য নির্ধারণ করা নেই, তাই সমাজও মনে করে যে, এগুলো মূল্যহীন কাজ।
নারীদের নিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাবনার সত্যতা আজ প্রস্ফুটিত।পরিবার,সমাজ, রাষ্ট্র তথা দেশ এমনকি বহির্বিশ্বের সব ক্ষেত্রে নারীর সফল পদচারণা আজ লক্ষণীয়। নারীর ভেতরে সুপ্ত একধরনের শক্তি আছে।এই শক্তি জাগ্রত করার জন্য চাই গতি।এই গতির সঞ্চার করতে হবে নারীদের নিজেদেরকে নিজেকেই।আমাদের চারপাশের অসংখ্য নারী বিভিন্ন কাজে সফলতার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন।

আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিসরের প্রত্যেক ক্ষেত্রে নারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে। এসব থেকে নারী বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। মানুষ উৎপাদনের শারীরিক গুণ পুরুষের চেয়ে নারীকে উচ্চতর অবস্থায় নিয়ে গেছে। সেদিক থেকে পুরো মানবজাতিই যেন নারীর ওপর নির্ভরশীল। আর তাই তো ‘মাতৃত্ব’ ও ‘মা’কে মহিমান্বিত করার চর্চা আমাদের সমাজে রয়েছে।গ্রাম-শহর সবখানেই শ্রমজীবী নারীসহ অন্য নারীরা কেউই উৎপাদন বা উপার্জনমূলক কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়।গ্রামে কৃষক পরিবারে নারীরা নানাভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।অন্যদিকে শহুরে নারী বিভিন্ন রকম চাকরির মাধ্যমে উৎপাদনমূলক কাজে ভূমিকা পালন করেন।শহর বা গ্রাম সবখানেই শ্রমজীবী,চাকরিজীবী কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীরা বাইরের কাজের সঙ্গে সাংসারিক দায়িত্ব যথাযুক্তভাবে পালন করেন।নারীরা অনেক বেশি শৈল্পিক কাজ করে থাকেন; যেমন_ বাঁশ-বেতের কাজ,নকশিকাঁথা সেলাই। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বেলাতেও নারীকে প্রভাবহীন ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষত বয়স্ক নারীরা তো পরিবারে অনেক প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।নারী সত্যিকার অর্থেই আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও আজকে ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ কথা বেশি শোনা যায়। কিন্তু এ দেশের নারী তো বাস্তবিক অর্থেই সক্রিয়।
যেখানে বাংলাদেশের নারীরা পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্যভাবে সংযুক্ত, তাই সেখানে ‘নারী ক্ষমতায়নে’র কথা আলাদাভাবে জোর দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি। আসলে আমাদের জোর দিতে হবে নারীর মূল্যায়নের ওপর। নারী পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিসরে যে কাজগুলো করে তা মূল্যায়ন করতে হবে। সরাসরি না হলেও পারিবারিক ও সামাজিক কাজগুলোর পরোক্ষ অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। অর্থনৈতিক মানদণ্ড ছাড়াও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মানদণ্ড দিয়েও নারীর কাজকে উপযুক্ত হিসেবে মূল্য দিতে হবে। তবেই সর্বত্র বিরাজমান, সদা সক্রিয় এবং সর্বোপরি সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিসরে অবিচ্ছেদ্য নারীর ভূমিকা দৃশ্যমান হবে। শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবন্ধকতাই নতুন পথের সৃষ্টি করে এই বাক্য নারীদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রযোজ্য।যেসব নারীকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি, যাঁদের আদর্শ মানি এবং যাঁরা ইতিহাসে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন,তাঁদের প্রত্যেকের চলার পথ ছিল বন্ধুর।আমাদের বেগম রোকেয়া,সুফিয়া কামাল কারও চলার পথই মসৃণ ছিল না।

প্রত্যেকের জীবন সংগ্রামের পেছনেই একটা ইতিহাস আছে।তবে সব পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।আজ নারীরা আকাশে বিমান ওড়াচ্ছেন সমুদ্রে সাবমেরিন ভাসাচ্ছেন,নিরাপত্তায় নারী,দেশ পরিচালনা করছেন নারী।পুরুষের পাশাপাশি নিজেদের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা।বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে সর্বত্র আজ নারীদের জয়জয়কার।লক্ষ্য ঠিক রেখে সাহসের সঙ্গে দৃঢ়তা ও মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।সফল নয়,জীবনে সার্থক হওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। প্রতিভা এক বিষয় আর দক্ষতা অন্য বিষয়।কেউ খুব ভালো পড়াশোনা করে আর্কিটেক্ট হলেন, আবার অন্য নারী সাঁতারে বিশ্ব জয় করে এলেন, কেউ ফুটবল,কেউ ভারোত্তোলনে ইতিহাস গড়লেন।নানা কিছু রয়েছে নিজেকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে পরিচয় করানোর।আমাদের মেয়েরা ফুটবল খেলে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে । কোনো বাঁধাকে বাঁধা না ভেবে নতুন পথের অনুসন্ধান করতে হবে।তাহলে নারীদের ভেতরকার শক্তি গতিপ্রাপ্ত হবে এবং সেই গতির গতিময়তায় এগিয়ে যাবে দেশ,এগিয়ে যাবে বিশ্ব। আমাদের সমাজেই অনেক সময় দেখা যায় যৌতুকের কারণে,নারীদের উত্যাক্ত করা হয়ে থাকে যার কারণে অনেক নারীদের আত্মহত্যা করতে দেখা যায়।কিন্তু গৃহনির্যাতনের কারণে কতভাগ নারী আত্মহত্যা করেন,সেটা সুনির্দিষ্ট করে বলা খুবই মুসকিল বলে মনে হয় আমার।তবে সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আমি বলবো আমাদের সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে আমাদের সকলকেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত ও এটা আমাদের কতব‍্য বলেই আমি মনে করে থাকি। আমার‌ এই নারীদের নিয়ে সামান্য লেখা যানিনা কতটুকু গ্ৰহণ করবেন আমাদের দেশের মানুষ ও পাঠকগণ,,আমি হয়তোবা সবকিছু তুলে ধরতে পারিনি,তবে আমার চেষ্টায় কোনো কমতি ছিলোনা,,তবে নারীরা যে আমাদের মা,এটাই হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।আমাদের সকলকেই মিলেমিশে একটা প্রচারা অভিজান শুরু করা প্রয়োজন,যার নাম হতে পারে “মর্যাদায় গড়ি সমতা’৷আমি মনে করি, নারীদেরকে মর্যাদা দিলে তাঁর প্রতি সহিংসতা অবশ্যই কমবে৷ বইকি বারবেনা।আমি”আপনি, আমরা সকলেই যে নারীদের সম্মান দিয়ে থাকি,নিশ্চয়ই ঐ সকল নারীদেরকে আমরা কেউ নির্যাতন করবোনা।তাঁদেরকে আমরা সমান ভাবে,সমান দৃষ্টিতে দেখবো সব সময় ।আমি মনে করি, নারীদের সম্মান আমাদের দেশের, সমাজের, ও রাষ্ট্রের পক্ষে বাড়াতে হবে৷ আর সেই বিষয়ে কীভাবে বাড়ানো যেতে পারে সে বিষয়ে আমাদেরকেই চিন্তা ভাবনা করতে হবে,আমাদেরকে সরকারের পক্ষের উচ্চপর্যায়ের লোকদের সাথে আলোচনা করতে হবে।সমাজে এখনও অনেক অবদান লক্ষ্য করা যায় যার যার অনেকঅংশে নারীদের অবদানই বেশী আছে। নারীদের বহুমুখী অবদান ও আমাদের সমাজে বহু বিদ‍্যমান রয়েছে। নারীদেরকে স্বীকৃতি দিতে হবে, সম্মান করতে হবে,মূল্যায়ন করতে হবে৷ কেননা সকল নারীরাই আমাদের কাউকে না কাউকে জন্ম দিয়েছেন। তাই আমরা ও সকলেই ঐ সকল নারীদের সন্তান হিসেবেই জন্মনিয়ে বেচেঁ আছি এই পৃথিবীতে।।

মো:ফিরোজ খান-(লেখক -সাংবাদিক)

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments



যোগ্যতাই যখন বড় অযোগ্যতা

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com