নিষিদ্ধ পলিথিন পেয়ারার আধুনিক ফ্রুটব্যাগ,হুমকির মুখে পরিবেশ

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ |

নিষিদ্ধ পলিথিন পেয়ারার আধুনিক ফ্রুটব্যাগ,হুমকির মুখে পরিবেশ
রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মামুনুর রশিদ বলেন, তারা শুধু পলিথিনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি দেখভাল করছেন। কৃষিতে পলিথিনের ব্যবহার বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন তারাও। তিনি বলেন, কৃষি দফতরের সঙ্গে আলাপ করে করণীয় ঠিক করা হবে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের পেয়ারার বাগান গুলোতে ফ্রুটব্যাগ হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। পেয়ারায় ব্যবহৃত নিষিদ্ধ পলিথিন যত্রতত্র ফেলে দেয়ায় প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ছে দুষণ, নোংরা হচ্ছে পরিবেশ। পেয়ারা চাষে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। ফ্রুটব্যাগ পলিথিন পেয়ারার সাথে সাথে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। এমনকি বাজার গুলোতে নিষিদ্ধ পলিথিন মোড়ানো আকর্ষণীয় রঙের পেয়ারা বিক্রি হতে দেখা যায়। এতে করে সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে ক্রেতারা, বিক্রিও হচ্ছে ভাল।

পলিথিন ফ্রুটব্যাগ হিসাবে ব্যবহার করায় ফ্রুটফ্লাইসহ বিভিন্ন ছত্রাক আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে পেয়ারা চাষীরা। পাশাপাশি পেয়ারার রং আকর্ষণীয়, মান ও ফলন ভাল পাচ্ছে। রাসায়নিকের ব্যবহার কম হচ্ছে। যার ফলে পেয়ারা চাষিরা পেয়ারা বাগানে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পলিথিন অবাধে ব্যবহার করছে। পেয়ারার কুঁড়ি আসার প্রায় ১০-১৫ দিন পর ফ্রুটব্যাগ হিসাবে পরানো হয় পলিথিন। এতে রাসায়নিকের ব্যবহার কমলেও পরিবেশের ক্ষতি হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। পরিবেশ রক্ষায় এর বিকল্প ভাবছেন ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে পলিথিন নষ্ট হয় না। অথচ পেয়ারায় ব্যবহারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ পলিব্যাগ ছড়িয়ে পড়ছে প্রকৃতিতে। লাভজনক হওয়ায় পেয়ারা বাগানগুলোতে দিন দিন বাড়ছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার। দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে উৎপাদিত পলিথিন ছড়িয়ে পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে। তাই ফ্রুটব্যাগ হিসাবে ব্যবহৃত পলেথিনের বিকল্প এখোনি ভাবতে হবে।

রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, পাঁচ বছরে এ অঞ্চলে ২২ লাখ ৬০৭ টন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। এতে ফ্রুটব্যাগ হিসেবে ৮২৩ কোটি পিস পলিব্যাগ ব্যবহার হয়েছে। এর মধ্যে এ মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি পলিব্যাগ ব্যবহার হয়েছে। পাঁচ বছরে রাজশাহীতে পেয়ারা চাষ বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪১০ হেক্টর, নওগাঁয় ১১৬ হেক্টর এবং নাটোরে ১৪২ হেক্টর পেয়ারা চাষ বেড়েছে। লাভজনক হওয়ায় পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষে ঝুঁকছেন এ অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি হেক্টর জমির পেয়ারা গাছে প্রাায় ৯০ হাজার পলিথিন ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার করা হয়। মাঠ থেকে পেয়ারার সঙ্গে অধিকাংশ পলিথিন বাজারে চলে যায়। কয়েকজন পেয়ারা চাষীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১ বিঘা জমিতে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ টি পেয়ারা গাছ লাগানো হয়। কুঁড়ি আসার প্রায় ১০-১৫ দিন পর পলিথিনের ফ্রুটব্যাগ পরানো হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি করে প্রতিবারে পলিথিনের ফ্রুটব্যাগ পরানো হয়। প্রায় তিন মাস পর পেয়ারা বাজারজাত করা কয়। ফ্রুটব্যাগ হিসাবে ব্যবহারে সস্তায় হাতের নাগালে পলিথিন পাওয়ায় এ ব্যাগ তারা ব্যবহার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পেয়ারা চাষি বলেন, কৃষি দফতরের পরামর্শে তার তিন একরের পেয়ারা বাগানে তিনি পেয়ারায় ফ্রুটব্যাগ হিসেবে পলিথিন ব্যবহার করেছেন। পলিথিন ফ্রুটব্যাগ ব্যবহারে চাষীদের পরামর্শ দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি।

তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে পেয়ারায় পলিথিন ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার করছেন চাষীরা। এতে ভালো ফল পাচ্ছেন তারা। তবে, এ ব্যাগ ব্যবহারের ফলে রাসায়নিকের ব্যবহার কমে গেছে। পলিব্যাগে পরিবেশের যে ক্ষতি তা রাসায়নিকের ক্ষতির চেয়ে অনেক কম। তিনি বলেন, ক্ষেত থেকে পলিথিন ফ্রুটব্যাগ চলে যাচ্ছে বাজারে। মূলত তা নষ্ট করার দায়িত্ব বিক্রেতারা ও ভোক্তাদের।

তবে পলিথিনের বিকল্প ফ্রুটব্যাগ নিয়ে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন। তিনি বলেন, পলিথিনের বিকল্প বাজারে যে ফ্রুটব্যাগ রয়েছে তাতে পেয়ারার রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে। নষ্ট হতে পারে গুণগত মানও। তাই বিকল্প ভাবা হচ্ছে।

রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মামুনুর রশিদ বলেন, তারা শুধু পলিথিনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি দেখভাল করছেন। কৃষিতে পলিথিনের ব্যবহার বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন তারাও। তিনি বলেন, কৃষি দফতরের সঙ্গে আলাপ করে করণীয় ঠিক করা হবে।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে পেয়ারা চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৪২৭ হেক্টর। এতে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭৮ টন পেয়ারা। এর মধ্যে রাজশাহীর ৫ হাজার ৬০ দশমিক ৫ হেক্টরে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৩৩ টন, নওগাঁয় ৩৫৭ হেক্টরে ২ হাজার ৫৭৯ দশমিক ৫ টন, নাটোরে ৪৬৪ হেক্টরে ৫ হাজার ১৬২ টন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ১০ হেক্টরে ৬ হাজার ৯০৪ টন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

ঠাকুরগাঁও ১ আসনে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ

কলেজপাড়া,মাজার রোড,ঠাকুরগাঁও-৫১০০, বার্তা বিভাগ-01763234375, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com