নোয়াখালীতে সরকারি চাল সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ…

সোমবার, ০১ জুলাই ২০১৯ | ৬:১৯ অপরাহ্ণ |

নোয়াখালীতে সরকারি চাল সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ…
প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ডেস্ক রিপোর্ট

নোয়াখালীতে সরকারি খাদ্যগুদামে ন্যায্য মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের পর রাইচমিল মালিকদের নিকট হতে চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

প্রকৃত কৃষকদের আড়াল করে অসাধু ব্যবসায়ী ও দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও গুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মোটা অংকের উৎকোচ আদায়ের মাধ্যমে সরকারি বিধিমালা না মেনে কম মূল্যে নিন্মমানের চাল সংগ্রহ করেছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) একেএম আবু সাঈদ চৌধুরী।


এতে জেলার কৃষকরা সরকারি গুদামে চাল বিক্রি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিজ পছন্দের অটো রাইচমিল মালিকদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে নিন্মমানের চাল সংগ্রহ করায় জেলার অটো রাইচমিল ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত মঙ্গলবার দুপুরে চট্রগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান হঠাৎ নোয়াখালীর সেনবাগ খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে আসেন। এসময় গুদামে নিন্মমানের চাল দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে ওই নিন্মমানের চাল ফেরত দিয়ে নির্দেশনা মেনে ভালো মানের নতুন চাল সংগ্রহ করতে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবদুল করিমকে নির্দেশ দেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলার ৯টি উপজেলায় সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ শুরু হয়। এ চাল সংগ্রহ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। জেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা কেজি ধরে ৭ হাজার ৩’শ ৬৯ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৩৫ টাকা কেজি ধরে ১ হাজার ৬’শ ২৭ মেট্রিক টন। এরই মধ্যে জেলায় ৭০ভাগ চাল সংগ্রহ হয়েছে বলে জানা যায়।

জেলার ৯টি উপজেলায় চাল সরবরাহের জন্য ৩৪টি চালকলের (রাইচমিল) সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়। খাদ্য গুদামের চাল সরবরাহের নীতিমালা অনুযায়ী, চলমান রাইসমিল এবং মিলে আলাদা চাতাল ও গুদামঘর আছে কি না, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃক তা যাচাই- বাছাই করে রাইচমিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করার কথা থাকলেও তা এ জেলায় উপেক্ষা করা হয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব রাইচমিলের সঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস চুক্তি করেছে সেগুলোর অধিকাংশই পরিত্যক্ত এবং বন্ধ রয়েছে। বেশিরভাগ রাইচমিলের নেই কোন বয়লার। যেগুলোর বয়লার আছে অধিকাংশই লাইন্সেস নবায়ন নেই। আবার বেশ কিছু রাইচমিলের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে ধান থেকে চাল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ওই মিলগুলোতে। বেগমগঞ্জের এবি অটো রাইচমিল-১ এর কার্যক্রম চালু থাকলে এবি অটো রাইচমিল-২ কোন অস্তিত্ব নেই। তার পরও ওই রাইচমিলের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়। অভিযোগ রয়েছে সুবর্ণচরের কাশেম অটো রাইচমিলের তিনটি ইউনিটের মধ্যে একটির কার্যক্রম চালু রয়েছে। সদর উপজেলায় কোন রাইচমিল না থাকায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম আবু সাঈদ চৌধুরী সরবরাহ করতে কাশেম অটো রাইচমিলের তিনটি ইউনিটের সাথে চুক্তি দেখিয়ে মিল মালিক থেকে প্রতি টন চালে এক হাজার টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেন। আবার প্রতি টন চাল সরবরাহ করতে গুদাম কর্মকর্তা নিচ্ছেন এক হাজার টাকা। সেই এক হাজার টাকা থেকেও আবু সাঈদ চৌধুরী ভাগ পায় ৪’শ টাকা। একইভাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে কবিরহাটের চাল সরবরাহ করছেন একে অটো রাইচমিল। শুধু সদর-কবিরহাট নয়, পুরো জেলায় চাল সংগ্রহ কার্যক্রমেই টন প্রতি ১৪’শ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন ওই কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একাধিক মিল মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দূর্নীতির মাধ্যমে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিশেষ সুবিধা নিয়ে পরিত্যক্ত, বয়লার নেই অথবা বয়লারের লাইন্সেস নবায়ন নেই এমন অটো রাইচমিল মালিকদের কাছ থেকে কমদামের নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করছেন। জেলায় মোট ৮ হাজার ৯’শ ৯৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহে প্রতি টন চালে ১ হাজার ৪ শত টাকা করে ১ কোটি ২৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪ শত টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অংক কষছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম আবু সাঈদ চৌধুরী।

সেনবাগ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবদুল করিম জানান মান যাচাই-বাচাই করেই চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার পরও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে চালগুলোর মান নিয়ন্ত্রনের জন্য কারিগরি পরিদর্শকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন ধান ক্রয়ের বিষয়ে তিনি জানলেও চাল ক্রয়ের ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাকে কিছুই অবগত করেননি।

নোয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম আবু সাঈদ চৌধুরী অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সঠিক নিয়মে রাইচমিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং চুক্তিবদ্ধ রাইচমিল মালিকদের কাছ থেকেই চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন নায্যমূল্যে সরকারি চাল সংগ্রহে কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments



ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন,,,

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com