নড়াইল সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরূদ্ধে নিম্নমানের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয় বাণিজ্যের অভিযোগ

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ১:০৯ অপরাহ্ণ |

নড়াইল সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরূদ্ধে নিম্নমানের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয় বাণিজ্যের অভিযোগ
প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ডেস্ক রিপোর্ট

নড়াইল সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার অসিত বরণ পালের বিরূদ্ধে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয় বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তিনি সদরের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ডেকে হুমকি দিয়ে বায়োমেটিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ের জন্য সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। তিনি পছন্দের একজন ব্যবসায়ীর নিকট হতে একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থে সিন্ডিকেট করে নিম্নমানের বায়োমেটিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ে বাধ্য করছেন শিক্ষকদের।

আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের স্বাধীন ভাবে এ মেশিন ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। যেহেতু স্লিপ এর টাকা থেকে এ মেশিন ক্রয় করা হচ্ছে, সেহেতু এ মেশিন ক্রয় করার জন্য স্লিপ কমিটিই যথেষ্ট। প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে স্লিপ কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঘুষখোর উপজেলা শিক্ষা অফিসার,সহকারী শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষক নেতাদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি দামে ওই মেশিন কিনতে বাধ্য করছে।


নিম্নমানের ওই বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনের বাজার মূল্য ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা হলেও সিন্ডিকেটের ধার্যকৃত ২৩ হাজার টাকায় বায়োমেটিক হাজিরা মেশিন কেনানো হচ্ছে। অতিরিক্ত যে টাকা নিচ্ছেন দোকানদারের হাত ঘুরে তা ওই সিন্ডিকেটের নিকট পৌছে যাচ্ছে। সদর উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়ের সব গুলোতেই ২৩ হাজার টাকায় এই মেশিন ক্রয়ের বিল ভাউচার দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের বাধ্য করা হচ্ছে এই বিল ভাউচার সাক্ষর করতে ও মেশিন নেয়ার জন্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুষখোরদের এহেন বাটপারীতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। প্রকাশ্যে এতোবড় অনৈতিক কাজ করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা গত ২৫ জুন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়ে মেশিন ক্রয় আপাতত বন্ধ রেখেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে জেলার লোহাগড়া উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন কোম্পানীর মেশিন মাত্র ৯ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকায় (ভ্যাট সহ) ক্রয় করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ ৫ সদস্যের একটি ‘স্লিপ কমিটি’ এটি ক্রয় করবে। কিন্ত সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার অসিত বরণ পাল সদরের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে মেশিন ক্রয়ে নিজস্ব আইন প্রয়োগ করছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের জিম্মি করে তার বেধে দেয়া ২৩ হাজার টাকা দামে মেশিন কিনতে বাধ্য করছেন। ধুরন্ধর উপজেলা শিক্ষা অফিসার অসিত বরণ পাল তার অনুগত এক চাটুকার শিক্ষককে দিয়ে যশোরের এক আইটি প্রতিষ্ঠানের বিল ভাউচার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোর প্রধান শিক্ষকের নিকট পৌছে দিচ্ছেন। বিলে কোন টাকার কথা উলে­খ নেই। শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে ঘুষখোরদের এহেন বাটপারীতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। সৎ শিক্ষকবৃন্দ ঘুষখোর উপজেলা শিক্ষা অফিসার অসিত বরণ পাল ও তার সহযোগিদের বিরূদ্ধে ঝাড়ু মিছিল দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে গুঞ্জণ শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার অসিত বরণ পালের সাথে যোগযোগ করলে নিজের পান্ডিত্য জাহির করে সর্ব বিষয়ে পারদর্শিতা প্রকাশ করে বলেন, খুব ভালো মানের মেশিন কম দামে কিনে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের হাতে সময় কম, তারা বেশি দোকান ঘুরতে পারবে না। তাই তাদের যশোরের একটা ভালো দোকান দেখিয়ে দেয়া হয়েছে, ভালো মানের মেশিন কেনার জন্য। তাছাড়া এ মেশিন ক্রয়ের জন্য আলাদা করে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কেউ কোন দূর্ণীতি করতে পারছে না।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments



ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন,,,

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com