মুন্সীগঞ্জের

মিরকাদিমে বেড়েছে কাঠের গুড়ির দাম ও কামারের ব্যস্ততা…

শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০১৯ | ৪:৪৮ পিএম |

মিরকাদিমে বেড়েছে কাঠের গুড়ির দাম ও কামারের ব্যস্ততা…
প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ডেস্ক রিপোর্ট

দু’দিন পরেই কোরবানির ঈদ বা পবিত্র ঈদুল আযহা। ইতোমধ্যে অনেকেই কোরবানির পশু কিনে ফেলেছেন। এখন প্রয়োজন গোস্ত বা মাংস কাটার জন্য কাঠের গুড়ি, ছুরি-চাকু, দা, চাটাইসহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র।

মিরকাদিম রিকাবী বাজার আর এঞ্চি মাঠ সংলগ্ন এখন এসব পণ্যের কেনাবেচা জমজমাট। সীমান্তবর্তী মিরকাদিম সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব পণ্যের অস্থায়ী দোকান। কেউ কেউ অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি এসব পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মৌসুমি এ ব্যবসায় আয়-রোজগারও বেশ।


একাধিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাছের গুড়িঁ বানাতে তেতুঁল গাছের প্রয়োজন। তবে তা আগের মতো আর নেই। কোন বাড়িতে তেতুঁল গাছ পাওয়া গেলেও দুই থেকে তিনগুন বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। মাংস বানাতে শক্ত গাছের গুড়ির দরকার। তাই তেতুঁল গাছের চাহিদাও এখন বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস টুকরো করতে ধারালো অস্ত্রই একমাত্র ভরসা। এজন্য এগুলো তৈরি এবং পুরানো দারালো অস্ত্রগুলোতে শান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কামার শিল্পের কারিগররা।তাই কাজের ধুম পড়েছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম প্রতিটি কামারের দোকানে। দিন রাত পরিশ্রম করছেন কামার শিল্পের শ্রমিকরা। আথচ বছরের অধিকাংশ সময়ই এই শিল্পের লোকজন বলতে গেলে প্রায় বেকার সময় পার করেন।

উপজেলার কামার শিল্পিদের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাপাতি, দা, বঁটি,চাকু তৈরী এবং পুরানো দেশীয় দারালো অস্ত্রে শান দিতে তারা এখন দারুন ব্যস্ত। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের মৌসুমে তাদের ব্যবসা জমে উঠে। সদর উপজেলার মিরকাদিম রিকাবী বাজারের কামার মাদব মন্ডল, প্রেমামন্ডল, ও আকাস মন্ডল, শাওয়ান মন্ডল, সহ কর্মকার জানান, আগের থেকে লোহার দাম এখন বেড়ে গেছে।

শ্রমিকদের মজুরি কয়েকগুন বেড়েছে। বছর জুড়ে এ শিল্পে মন্দা ভাব থাকলেও প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে এদের কদর বাড়ে অত্যাধিক। এ ছাড়া ধান কাটার মৌসুমে কাচিঁ তৈরিতে কিছুটা ব্যস্ততা বাড়ে জানিয়ে মাদব মন্ডল, ও প্রেমামন্ডল, নামে কামার শিল্পি জানান, দিন কী দিন সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সে হারে আমাদের শিল্পের মান কমছে। আগে ৪০-৫০ টাকায় এক বস্তা কাঠ কয়লা পাওয়া যেতো। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৫০-৩০০ টাকায়। কামার শিল্পের কারিগর, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতি বছর এক ঈদ মৌসুমেই যতো কেনা বেচার ধুম আর এ থেকে অর্জিত টাকাই সারা বছরের খেরাক যোগায়। কাজের ব্যস্ততায় সময় কাটছে কামারদের।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গাছের গুড়ির ব্যাপক চাহিদায় উপজেলার মিরকাদিম স’মিল গুলাতেও গুড়ি কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। কেবল কাঠের গুড়ি-ই নয়, বিক্রি হচ্ছে খেজুর বা খোগলা পাতার পাটি, রামদা, বটি, ছুরি ও চাকুও। প্রতিটি খোগলা বা খেজুর পাতার পাটির দাম পড়ছে ১২০থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া রামদা ও বড় ছুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, মাঝারি ছুরি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছোট ছুরি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ও পাতলা ছোট ছুরি প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় বেচাবিক্রিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments



ত্রিশালে প্রাইভেটকার উল্টে পুলিশের এএসআই আমিনুল ইসলাম ও তার শ্যালক নিহত…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com