সহিংস উগ্রবাদের বিস্তারের কারণ ও প্রতিকার- লেখক: সুজন শর্মা

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯ | ৪:০১ অপরাহ্ণ |

সহিংস উগ্রবাদের বিস্তারের কারণ ও প্রতিকার- লেখক: সুজন শর্মা
ফাইল ছবি

ভূমিকা:
আমাদের দেশে উগ্রবাদের এর ফলে প্রায় সারাদেশের অর্ধাংশ মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সর্বপ্রথম বলতে গেলে আমাদের পরিবেশ এর ভারসাম্য রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসবাদের কারণে একটি সুনীল পরিবেশ সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। আর এ কারণেই মূলত এই পরিবেশে একজন সৃজনশীল মেধার মানুষ তার সৃজনশীলতাকে বিকশিত করতে পারে না।

সহিংস উগ্রবাদের কারণঃ
সহিংস উগ্রবাদের কারণ পর্যবেক্ষণ করলে আমরা সর্বপ্রথম দেখতে পাই,ধর্মীয় বৈষম্যতা। ধর্মীয় বৈষম্যের কারণে ধর্মের প্রতি সম্মান জানানোর আদর্শ ভুলে গেছে সহিংস উগ্রবাদরা।তবে এখানে এ কথাটাও বাস্তব যে তারা নিজ ধর্মের উপর সঠিক জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়নি। কারণ আমরা সকলেই জানি পৃথিবীর কোন ধর্মই সহিংস উগ্রবাদের শিক্ষা দেয় না। মূলত সহিংস উগ্রবাদ কারা? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে উঠে আসবে যারা নিজ ধর্মের উপর বিশ্বাসী নয়। মহান সৃষ্টিকর্তার উপর যাদের কোন প্রকার আজ তাও ভয় নেই।
উগ্রবাদের আরো একটি প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আত্মগোপন অবস্থায় থাকা, ধর্মের ভুল বাণী প্রকাশ করা একদল কুচক্র মহল। যাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো এদেশের তরুণ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রকার কৌশলে আকৃষ্ট করে, তাদের দলে নিয়ে কিছু অভিনব কায়দায় ধর্মের ভুল জ্ঞান দিয়ে জঙ্গিবাদ সহিংস উগ্রবাদের শিক্ষা দেওয়া। আমাদের দেশের তরুণ সমাজের বিশেষ করে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালায় এই একদল কুচক্র মহল।

সহিংস উগ্রবাদের সবচেয়ে জটিল যে কারণ তা হল সাইবার জগত। তথ্যপ্রযুক্তির দেশে আমরা যেমন অতি দ্রæত আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পাদন করতে পারি। এবং কি বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করি, এর বিপরীতে এই তথ্য প্রযুক্তির এক বিশাল ক্ষতিও রয়েছে।এই ক্ষতির দিকটিকেই কাজে লাগিয়ে দিন দিন বেড়ে চলেছে সহিংস উগ্রবাদ।সাইবার জগতের ডিপ এবং ড্রাগ ওয়েব রয়েছে যা আসলে আমরা অনেকেই জানিনা। সাইবার জগতের প্রায় ৯৫% হল ডিপ এবং ড্রাগ ওয়েব। তার অর্থ হলো সার্ভার জগতের ১০০% এর মধ্যে আমরা শুধুমাত্র ৫% ব্যবহার করতে পারি। আর এই ৫% সার্ফেস ওয়েব নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।এখন আমরা সাধারণ ভাবে চিন্তা করলেই বুঝতে পারব বাকি ৯৫ শতাংশ ইন্টারনেট জগত কারা ব্যবহার করে? এ প্রশ্নের উত্তরে আমরা পাব-

১। হ্যাকার
২। জঙ্গিবাদ
৩। সহিংস উগ্রবাদ
সহ আরো অনেক গোপন ওয়েবসাইটের এডমিনরা উপরোক্ত ডিপ ও ড্রাগ, তথা ইন্টারনেট জগতের ৯৫% ব্যবহার করে। মূলত এই ডিপ এবং ড্রাগ ওয়েব এর ভিতর জঙ্গিবাদ ,সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস উগ্রবাদের যোগাযোগ স্থাপনের মূল ঠিকানা লুকিয়ে থাকে।এই ডিপ এবং ড্রাগ ওয়েব সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের দেশে সহিংস উগ্রবাদরা দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদের কারণে আমাদের সমাজের যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য সাধারণ মানুষের জীবন যাপনে অনিরাপত্তা। এখন প্রায় প্রতিটি শহরের অলিতে গলিতে সন্ত্রাসবাদের আখড়া বসেছে। সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে রাত দশটার পর এই শহরের যে কোন রাস্তায় নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে না। বিশেষ করে যারা শহরে দোকান-পাট ও ব্যবসার সাথে জড়িত তাদেরকে মূলত রাত বারোটার পরে বাসায় ফিরতে হয় এবং কি সাথে কিছু টাকা পয়সাও নিয়ে ঘুরতে হয়। কারণ মূলধনী হল ব্যবসা তথা কারবারের মূল চালিকাশক্তি।

কিন্তু‘ প্রশ্ন হল এই ব্যবসায়ীরা কি নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা কার্য সম্পাদন করতে পারছে? রাতের আঁধারে তারা বুকে কতটুকু সাহস নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছে? বাংলাদেশ প্রশাসন মূলত নানা কার্যক্রম হাতে নিয়ে সন্ত্রাস দমনে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও সন্ত্রাসবাদের সামান্যতম গোপন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসবাদ এখনো পর্যন্ত আমাদের এই প্রাণের বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্ম ধারাকে নানাভাবে ব্যাহত করে যাচ্ছে।

পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্র গুলোর তুলনায় সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশে যে সমন্ত অভিযান কার্যসূচী পরিচালনা করে তা অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর কোন অংশে কম নয়। তবে দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ বাংলাদেশের গড় মানুষের তুলনায় বেশি হয় সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সন্ত্রাসের কারণে মূলত সমাজের অনেক সাধারণ মা বোনকে যৌন হয়রানি, জীবনের ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

উগ্রবাদের মূল কারণগুলোর প্রধান কারণ সমূহ:

১. পারিবারিক শাসনের অভাব।
২. অসচেতন বাবা মা।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব।
৪. দুষ্টু প্রকৃতির বন্ধু বান্ধব।
৫. তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার ।
৬. সাইবার জগত সর্ম্পকে সটিক ধারনা না থাকা।
৭. তরুণদের মানসিক অবস্থা ও হতাশা।
৮. খেলাধুলার সুযোগ না থাকা।

প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে উগ্রবাদের প্রভাব বৃদ্ধি হয়েছে বলে আমরা শিক্ষার্থীরা মনে করছি। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে সাইবার জগতে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে কিছু ভুয়া তথ্যের কারণে উগ্রবাদের বৃদ্ধি হচ্ছে।
আমরা সারফেস ওয়েবের যে ৫% ব্যবহার করি এগুলো সাধারণত গুগল ক্রোম অথবা মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার দিয়েই ইউজ করা যায়। কিন্তু উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদীরা ইন্টারনেট জগতের বাকি ৯৫ শতাংশ কাজে লাগিয়ে গুগল ক্রোম বা মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার ইউজ না করে টর ব্রাউজার ইউজ করে সম্পূর্ণ গোপন ভাবে উগ্রবাদ এর যোগাযোগ স্থাপন করে যাচ্ছে। উগ্রবাদের আ বা সন্ত্রাসীরা গুগল ক্রোম এবং মজিলা ফায়ারফক্স ব্যবহার করে না এ কারণে যে, ডিপ এবং ড্রাগ ওয়েব এতটাই গোপনীয় যে গুগল ক্রোম এবং মজিলা ফায়ারফক্স ডিপ এবং ড্রাগ ওয়েব এর সন্ধান দিতে সক্ষম হয় না।সন্ত্রাসীরা তথা উগ্রবাদীরা নিশ্চয়ই তাদের পিতা-মাতার কোন আদেশ নির্দেশ মেনে চলে না।কারণ আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে সকল সন্তান তাদের পিতা মাতার আদর্শে বড় হয় তারা কখনোই উগ্রবাদের সাথে জড়িত থাকতে পারে না। তাহলে উপরোক্ত বিষয় বস্তুু হতে আমরা এটা বুঝতে পারছি যে পরিবার কর্তৃক সঠিক আদর্শ ও সঠিক শাসনের অভাবে একজন সন্তান সহিংস উগ্রবাদের দলের একজন হতেই পারে। কারণ পরিবারের সঠিক শাসনের অভাবে সন্তানেরা অধিক সময় হাতে পায। বিশেষ করে যে সমন্ত সন্তান বিত্তবান পরিবেশে বড় হয়- তাদের হাতে সব সময় টাকা পয়সা থাকে। প্রতিনিয়ত বাবা-মাকে বিভিন্ন প্রকার ইস্যু দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় এ সমস্ত সন্তান।

টাকা হাতিয়ে় নেওয়ার পর তারা তাদের খারাপ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মিশে উগ্রবাদ সম্পর্কে জেনে যায়। এর পরবর্তীতে উগ্রবাদের কুফল সম্পর্কে না জেনেও তারা উগ্রবাদ এর ভুল ধারণায় নিজেদের চালনা করতে থাকে। এদিকে পারিপারিক কোন শাসনের সম্মুখীন না।এরপরে একটি সন্তান যখন ঐ উগ্রবাদের দলে প্রবেশ করে তখন উগ্রবাদ এরা বিভিন্ন প্রকার গোপন ট্রেনিং এর মাধ্যমে তাদের যোগাযোগের মাধ্যম গুলো সম্পর্কে শিখিয়ে দেয় এবং তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কিভাবে সহিংস উগ্রবাদ কার্য ক্রিয়া সক্রিয় রাখতে হয় এ বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা পেয়ে যায় ওই সন্তানটি।

উপরোক্ত পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক আমাদের দেশের মেধাবী সন্তানরা উগ্রবাদের চক্ররে ফেঁসে যাচ্ছে। একের পর এক নষ্ট হচ্ছে আমাদের দেশে সুনিল পরিবেশে বড় হওয়া সরল মা-বাবার আশা-ভরসার সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানটি। ভিডিও গেমও জঙ্গিবাদকে প্রভাবিত করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অস্ত্র চালানো এবং পরবর্তী সময়ে বাস্তবে অস্ত্র চালাতে আগ্রহী হয়ে উঠে তরুণরা। সাইবার স্পেস বা ইন্টারনেট রেডিকালাইজেশনের জন্য বড় প্লাটফর্ম। কেউ জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে কিনা তখনি বুঝবেন, যখন তার আচার-ব্যবহারে পরিবর্তন আসবে। অধিকাংশ সময় একা থাকবে, নতুন নতুন বন্ধু বানিয়ে তাদের সঙ্গে অধিক সময় ব্যয় করবে। পুরাতন বন্ধুদের সঙ্গে দুরত্ব তৈরি করবে। বাড়ির কাছে মসজিদ রেখে দূরে কোনো নির্দিষ্ট মসজিদে নামাজ পড়তে যাবে।ধর্মের জায়গায় আমাদের সবার দুর্বলতা রয়েছে। আমরা কোনো কিছু সঠিকভাবে না জেনে অন্ধের মত বিশ্বাস করি। তাতে আমরা সহজে বিপদে চলে যাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মটিভেট করতে হবে। ইন্টারনেটের অধিক ব্যবহার, তরুণদের মানসিক অবস্থা ও হতাশা উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।

খেলাধুলা ও বিনোদনের অভাব:

খেলাধুলা ও বিনোদনের অভাব জন্ম দেয় উগ্রবাদ;
আমাদের দেশের মেধাবীদের নিয়ে করে ওরা বাজিঁমাত

খেলাধুলা এর সুযোগ না পাওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী সহিংস উগ্রবাদের দৃষ্টিগোচর হয়। মোটকথা খেলাধুলার আনন্দ না পাওয়ায় উগ্রবাদের জন্ম দেয়। আমরা দেখেছি অধিকাংশ শিক্ষার্থী খেলাধুলার সুযোগ না পাওয়ায় তাদের মানসিক মেধা বিকাশ হায় না। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীদের মনের অভ্যন্তর লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন হতাশা আস্তে আস্তে জটিল তর রূপ ধারণ করে শুধুমাত্র খেলাধুলার অভাবে। অনেক সময় দেখা যায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী তার পিতা-মাতারা বিনোদন ও খেলাধুলা থেকে দূরে রাখে এতে করে নিজের সস্তানের ভবিষ্যৎ পিতা-মাতারা নিজ হাতেই অন্ধকার করে দেয়। কারণ খেলাধুলা ও বিনোদন ব্যতীত একজন শিক্ষার্থী কখনো সময়ের জন্য সঠিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে না। এক্ষেত্রে তার মনে সহিংস উগ্রবাদের রূপকথা ভেসে ওঠে। এবং শেষ পরিণাম এ ঐ সন্তানটি সহিংস উগ্রবাদের দলের একজন হয়ে যায়।

সহিংস উগ্রবাদের উপযুক্ত কারণ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রতিকারের উপায় বর্ণনা
করা হলো:

পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি:
পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সহিংস উগ্রবাদ দমন করার যাবে। এ রচনা আর উপরিভাগে আমরা দেখেছি একটি পরিবারের সঠিক শাসনের অভাবে একটি শিক্ষার্থী কিভাবে উগ্রবাদ এর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। শুধুমাত্র একটি পরিবার এই পারে-একটি দক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে।কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবার কে হার মানিয়ে একজন শিক্ষার্থী সহিংস উগ্রবাদ এর উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে জানা যাবে একটি পরিবারের সামান্যতম ঘাটতির কারণে একটি সন্তান সহিংস উগ্রবাদ হয়েছে। মূলত একটি পরিবার একজন সন্তানকে যা কিছু দেওয়া দরকার, যেমন ধরি একজন সন্তানের মৌলিক চাহিদা। এই মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে সক্ষম হতে না পারায় একজন পরিবারের সন্তান সহিংস উগ্রবাদ হতে পারে। শুধু তাই নয় একজন সন্তানের উপর সঠিক নজরদারির অভাবে উগ্রবাদের জন্ম দেয়। কেননা একজন সন্তান কখন প্রতিষ্ঠানে গিয়েছে, প্রতিষ্ঠান যথা টাইমে গিয়েছে কিনা, সবগুলো ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে কিনা, এবং প্রতিষ্ঠানের ছুটির সাথে সাথে বাড়িতে ফিরেছে কিনা,যদি প্রতিষ্ঠানের ছুটির সাথে সাথে বাড়িতে না ফিরে তাহলে ওই সন্তান ওই সময়ে কি করছিল, কোন প্রকার খারাপ কাজের সাথে জড়িত ছিল কিনা, এ বিষয়গুলো দেখাশুনার দায়িত্ব একমাত্র পরিবারের উপরে পড়ে। কিন্তু কিছু কিছু পরিবার সন্তান কে অধিক আদর যতেœ রাখার স্বার্থে উপরোক্ত বিষয়গুলো ভুলে, শাসন মুক্ত অবস্থায় সন্তাকে বড় করে তোলে। কিন্তু এরই ফাঁকে ওই সন্তানটি সহিংস উগ্রবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তাই এখান থেকে এটা নিশ্চিত যে পারিপারিক অসচেতনতার কারণে সহিংস উগ্রবাদ এর বিস্তার ঘটছে।মোটকথা একটি পরিবারের বাবা-মা যদি নিজের সন্তানের প্রতিটি মিনিটের খবর রাখে তবে তার সন্তান নিঃসন্দেহে একজন শিক্ষিত মানুষ তথা দেশ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে তৈরি হবে।

অসচেতন বাবা মা:
আমাদের সমাজে আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি কিছু অসচেতন বাবা-মার কারণে ওই অসচেতন বাবা-মার সন্তানটি সহিংস উগ্রবাদ প্রকৃতির হয়ে যায়। এই অসচেতন বাবা মা দুই প্রকৃতির হয়ে থাকে।

যেমন:
১. চাকরিজীবী / শিক্ষিত
২. অশিক্ষিত / দিনমজুর

চাকরিজীবী তথা শিক্ষিত বাবা-মায়েরা সাধারণত সন্তান নিয়ন্ত্রণ এর ক্ষেত্রে খুব বেশি সচেতন হয় নয়তো খুব বেশি অসচেতন হয়। এ কথাটি থেকে এটা বুঝা যায় যে ,একজন চাকরিজীবী তথা শিক্ষিত বাবা অথবা মা চাকরির নিমিত্তে দিনের প্রায় ১২ ঘন্টার মধ্যে ৬ ঘণ্টা বাইরে থাকে। যার ফলে সন্তান এই ৬ ঘন্টায় কি কি করেছে এ বিষয়ে সঠিক ধারণা পেতে চাকরিজীবী পিতা-মাতারা সক্ষম হয়ে উঠে না। শুধু তাই নয়, চাকরির নিমিত্তে ঐ সমন্ত বাবা-মাকে বড়ি়তে এসেও অফিসের বিভিন্ন প্রকার কাজে ব্যসÍ থাকতে হয়। যার ফলে সন্তান এর সঠিক খবর রাখতে এ সমস্ত বাবা-মা ব্যর্থ হয়। শুধু তাই নয় এ সমস্ত বাবা মা আরেকটি বিষয় ব্যর্থ হয় যা হল:

সন্তানকে সঠিক ইস্যুতে অর্থ প্রদান-

কিছু কিছু বাবা মা সন্তান টাকা চাইলেই দিয়ে দেয়, জানতে চায় না তার সন্তান এটা টাকা দিয়ে় আসলে কি করবে। এ সমন্ত পরিবারের অনেক সন্তান বাবা মাকে বিভিন্ন প্রকার অজুহাত দেখিয়ে টাকা নিয়ে সে সমস্ত টাকার অপব্যবহার করে। এবং একটি সময়ে ওই সন্তানটি সহিংস উগ্রবাদ এর উদাহরণ হয়ে যায়। তাই আমাদের সমাজের প্রতিটি চাকরিজীবী তথা শিক্ষিত বাবা মায়েদেও নিজের সন্তানের প্রতি আরো বেশি যতœবান হতে হবে। সন্তানের প্রতি টি ইভেন্ট ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ এর মাধ্যমে নিজেদের সম্মুখে রাখতে হবে। কখনোই সন্তানকে নিজের চোখের আড়াল করা যাবে না। বিভিন্ন প্রকার কৌশল খাটিয়ে সন্তান সারাদিনে কি করেছে বা কি করছে এ বিষয়ে সব সময় সচেষ্ট থাকতে হবে। একজন চাকরিজীবী তো তার শিক্ষিত সচেতন বাবা মা উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাস্তব প্রভাব খাটিয়ে সহিংস উগ্রবাদের পতন ঘটাতে পারে।

অশিক্ষিত তথা গ্রামের দিনমজুর পিতা-মাতা-সন্তান তৈরিতে অনেক বেশি সচেষ্ট থাকে-তবে দুঃখজনক হলেও সত্য এসমস্ত বাবা মাকে ফাঁকি দিয়ে অনেক সময় অনেক শিক্ষার্থী সহিংস উগ্রবাদের নিজেদের নাম লেখায়।

এর কারণ খুঁজতে গেলে আমরা খুঁজে পাবো:

একটি অশিক্ষিত দিনমজুর পরিবারের পিতা-মাতারা প্রতিদিন সকাল হলেই মুজুরী কাজে বেরিয়ে যায়। সন্তানকে সকালের খাবার সহ দুপুরের খাবার পর্যন্ত ব্যবস্থা করে দিয়ে তারা অন্যের বাড়িতে মজুরিতে কাজ করে। তবে এই পরিবারগুলোর পিতামাতাদের সব সময় একটি প্রচেষ্টা থাকে। আর এই প্রচেষ্টা হলো সন্তানকে যে করে হোক বড় করে তোলা। তাই রোদ ,বৃষ্টি ,ঝড়ে প্রচুর পরিমাণ পরিশ্রম করে সন্তানের জন্য অর্থ উপার্জন করে এবং পরিবার পরিচালনা করে। সন্তানের প্রতিটি চাহিদা পূরণের জন্য এ সমস্ত বাবা-মা অনেক বেশি পরিশ্রম করে যা প্রকাশ করা বাহুল্য। আমাদের দেশে অনেক এরকম গরিব পরিবার থেকে সন্তানরা জীবনের সর্বোচ্চ তম স্বপ্নটাকে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর এই সক্ষমতা রয়েছে তাদের দিনমজুর পিতা মাতার অপরিসীম ভূমিকা। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই দিনমজুর পিতা মাতার সন্তান এরা সহিংস উগ্রবাদ প্রকৃতির হয়ে থাকে। সহিংস উগ্রবাদ এর কারণগুলো থেকে আমরা যেটুকু বুঝতে পেরেছি তা হল সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের যথেষ্ট বিশ্বাস। এক্ষেত্রে দিনমজুর অশিক্ষিত পিতামাতাদের সন্তানের প্রতি অগাধ বিশ্বাস সন্তানকে সহিংস উগ্রবাদ প্রকৃতির তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই সহিংস উগ্রবাদ প্রতিকার করতে হলে এ সমস্ত দিনমজুর পিতামাতাদের নিজেদের সন্তানের উপর বিশ্বাস কম রেখে ,বাস্তবতার সাথে মিল রেখে, সন্তানদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। সন্তানের কোন প্রকার অজুহাত এ কান না দিয়ে বাস্তবতার সাথে মিল করে সন্তানের চাহিদা পূরণ করতে হবে। এবং সন্তানের প্রতি সর্বদা খেয়াল রেখতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষেত্রে সহিংস উগ্রবাদের কুফল সম্পর্কে ধারণা দিয়ে সহিংস উগ্রবাদ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রতিটি বিদ্যাপীঠে যদি সহিংস উগ্রবাদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সহিংস উগ্রবাদ এর কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট ধারণা দেয়া হয়, এতে করে সহিংস উগ্রবাদ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। শুধু তাই নয় সারাদেশে একযোগে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংস উগ্রবাদ
বিস্তারের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে শিক্ষা সপ্তাহ পরিচালনা করে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিকার করা সম্ভব।

সহিংস উগ্রবাদ এর কুফল সম্পর্কে বিশেষ নাটক, গান, বাংলাদেশ এর প্রতিটি টিভি চ্যানেলে প্রচারের মাধ্যমে জনসমাজে সহিংস উগ্রবাদ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংস উগ্রবাদ সম্পর্কে নাটক নাটিকা তৈরীর মাধ্যমে, এবং কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে নাটক নাটিকা উপস্থাপন সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের সঠিক ভূমিকায় পারে সহিংস উগ্রবাদ
সম্পর্কে জনসমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে।

সহিংস উগ্রবাদ এর কুফল সম্পর্কে বিশেষ লিফলেট তৈরি করে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দিয়ে ও অনেকাংশেই সহিংস উগ্রবাদ কমিয়ে আনা সম্ভব। এবং প্রতিটি গ্রামে শিক্ষার্থীদের মাঝে একজন করে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিকারক প্রতিনিধি তৈরি করে সহিংস উগ্রবাদ কমানো যেতে পারে।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা বৃদ্ধি:
রচনা আর উপরিভাগে আমরা দেখেছি প্রযুক্তি সহিংস উগ্রবাদ বিস্তারের প্রধান কারণ। তাই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জনসম্মুখে উন্মোচন না করা পর্যন্ত সহিংস উগ্রবাদ কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সমাজের প্রতিটি মানুষের জানাতে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

এই বিশেষ অভিযানে অবশ্যই বাংলাদেশ সরকার কিছু আনকমন পদক্ষেপ গ্রহণ করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে।প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার এর অভিযান এর বিভিন্ন পদক্ষেপ সমূহ:

১. শিক্ষার্থীরা রাত বারোটার পরে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে না।
২. ইন্টারনেট জগতের সার্ফেস ওয়েব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট ধারণা দেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহায়িকা বই এর ব্যবস্থা ।
৩. ডিপ এবং ড্রাগ ওয়েব দ্বারা সহিংস উগ্রবাদ এরা কি কি কাজ সম্পাদন করে এ বিষয়ে ধারণা প্রদান।
৪. সকল শিক্ষার্থীদের মোবাইল পর্যালোচনা এর ব্যবস্থা।
৫. সহিংস উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন করা।
৬. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংস উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণ কমিটি এর শাখা প্রদান করা।
৭. বিনোদন এর সু-ব্যবস্থা করা।

উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে বাংলাদেশ সরকার প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সহিংস উগ্রবাদ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। তরুনদের মানসিক অবস্থা ও হতাশা সহিংস উগ্রবাদের একটি অন্যতম কারণ:

তরুণদের মানসিক অবস্থার উন্নতি ও হতাশা দূর করে ও সহিংস উগ্রবাদ দূরীকরণ করা যায়। তরুণদের মানসিক অবস্থা সাধারণত অনেক সময় বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। তাই তরুণদের মানসিক অবস্থার উন্নতি করার জন্য বিভিন্ন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তরুণদের অর্থ সংস্থানের হতাশা ও সহিংস উগ্রবাদের এ ধরনের কারণ। প্রতিটি তরুণকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে সহিংস উগ্রবাদ প্রায় এক শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। মোট কথা তরুণদের হতাশা কমিয়ে আনার উপায় হল কর্মসংস্থানের সুযোগ।আমাদের বাংলাদেশ অনেক মেধাবী তরুন কর্মসংস্থানের হতাশায় সময়ক্ষেপণ করতে করতে একটা সময় সহিংস উগ্রবাদের রাস্তায় পা ফেলে। এ সময় তরুণদের মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ থাকে। যার ফলে তারা নিরূপণ করতে পারে না সহিংস উগ্রবাদ একটি খারাপ পন্থা।

তরুণদের হতাশা দূর করে সহিংস উগ্রবাদ কমিয়ে আনা সম্ভব:
ইতিমধ্যেই আমরা আলোচনা করলাম সহিংস উগ্রবাদ বিস্তারের কারণ হলো তরুণদের মানসিক অবস্থা ও হতাশা।তরুণদের মানসিক অবস্থা ও হতাশা দূরীকরণে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা অপরিসীম।বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যে সমস্ত তরুন মেধাবী শিক্ষার্থী কর্মসংস্থানের আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। কিন্তু কোন চাকরিতে আত্মনিয়োগ করতে পারছেন না বা চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারছেন না।বাংলাদেশ সরকার এ সমস্ত তরুণদের নিয়ে একটি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে যদি তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয় তাহলে সহিংস উগ্রবাদ অন্তত তরুণদের মধ্যে থাকবে না। মোটকথা তরুণদের আত্ম কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে সহিংস উগ্রবাদ সমাজ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব।

বিনোদন ও খেলাধুলার মাধ্যমে সমাজ থেকে সহিংস উগ্রবাদ নির্মূল করা সম্ভব। উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা যেমন বলতে পারি তরুণদের হতাশাই সহিংস উগ্রবাদের জন্ম দেয়। ঠিক একইভাবে আমরা বলতে পারি খেলাধুলা ও বিনোদন সহিংস উগ্রবাদ নির্মূল করে। তাই উপরোক্ত আলোচনা কে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে খেলাধুলা সঠিক সুবিধা পেয়ে থাকে এ বিষয়ে সরকারের সঠিক নজরদারি দরকার। এবং কি খেলাধুলা বিষয়ে জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবিও বলা চলে।একজন শিক্ষার্থী যখন খেলাধুলা এবং বিনোদন এর মাঝে অনেক আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনের সময়গুলো অতিবাহিত করবে তখন কোনভাবেই একজন শিক্ষার্থীকে সহিংস উগ্রবাদ প্রবাহিত করতে পারবে না। পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। সব ধরনের গুজব মোকাবিলা করা। পরিশেষে বলা যায় খেলাধুলা এবং বিনোদন সহিংস উগ্রবাদ নির্মূলের অন্যতম উপায়।

উপসংহার:
পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষেত্রে সহিংস উগ্রবাদ নিয়ে আলোচনা, দুষ্টু প্রকৃতির বন্ধু-বান্ধব প্রত্যাহার, তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, সাইবার জগতের সঠিক জ্ঞান, খেলাধুলা- বিনোদন এবং তরুণদের মানসিক অবস্থা ও হতাশার উন্নতিকরণ করেই মূলত আমাদের এই সমাজ থেকে সহিংস উগ্রবাদ বিতাড়িত করা সম্ভব। তাই আসুন রচনা বৃত্তান্ত থেকে শিক্ষা লাভ কওে, নিজ নিজ মেধায় আমাদের সমাজ থেকে উগ্রবাদ প্রতিকারের উপায় বের করে উক্ত উপার গুলোর প্রয়োগ করে আমাদের এই সুনীল সমাজকে সহিংস উগ্রবাদ মুক্ত করি। এবং যৌথ কন্ঠে আওয়াজ তুলি…….

সহিংস উগ্রবাদের ঠাঁই দিব না আর সুনীল সমাজের চত্বরে-
আর একজন শিক্ষার্থী ও পরে না যেন সহিংস উগ্রবাদের খপ্পরে।

 

  • লেখক: সুজন শর্মা
  • বার্তা প্রধান/সংবাদ গ্যালারি

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদকসহ দুইজনকে কুপিয়ে জখম,আটক-১

কলেজপাড়া,মাজার রোড,ঠাকুরগাঁও-৫১০০, বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com
প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com