আনলিমিটেড টকটাইম মন্ত্রী-সচিবরা পাবেন ৭৫ হাজার টাকার মোবাইল

মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ |

আনলিমিটেড টকটাইম মন্ত্রী-সচিবরা পাবেন ৭৫ হাজার টাকার মোবাইল

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিবদের জন্য সরকারি খরচে মোবাইল ফোনসেট কেনার অর্থের পরিমাণ পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তাঁদের ওই মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ এবং কথা বলার আনলিমিটেড মাসিক বিলও পরিশোধ করা হবে সরকারি কোষাগার থেকে। এসব বিধান রেখে  ‘সরকারি টেলিফোন, সেলুলার, ফ্যাক্স ও ইন্টারনেট নীতিমালা ২০১৮’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি নীতিমালা আগেও ছিল। ২০০৪ সালে তা সমন্বিতভাবে করা হয়। ২০১৭ সালে নতুন একটি খসড়া তৈরি হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেটাই আজ চূড়ান্ত করা হলো। আগের নীতিমালায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিবদের মোবাইল ফোন কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। এবার তা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব।

মন্ত্রিসভা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের টেলিফোন ব্যবহার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধানের জন্য আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা যুক্ত করে তাঁদেরও এই নীতিমালায় যুক্ত করার অনুশাসন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবরা মাসে তিন হাজার ৮০০ টাকা ফোন ভাতা পাবেন। এর মধ্যে এক হাজার ৫০০ টাকা মোবাইল ফোনের বিল। অবশিষ্ট দুই হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে তিনি বাসার ও অফিসের বিল পরিশোধ করবেন। উপসচিবরা দুই হাজার টাকার টেলিফোন বিল পাবেন। এর মধ্যে এক হাজার ২০০ টাকা মোবাইল ফোনের বিল। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তিনি বাসা ও অফিসের টেলিফোন বিল পরিশোধ করবেন। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরাও তাঁদের মর্যাদা অনুযায়ী টেলিফোন ও ইন্টারনেটের বিল পাবেন। এখন থেকে সরকারি টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিল কর্মকর্তাদের বেতনের সঙ্গে পরিশোধ করা হবে। তাঁরা তা অপারেটরকে ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ আগে টেলিফোন বিল সরকার বিটিসিএল অথবা প্রাইভেট অপারেটরকে পরিশোধ করত। এখন তা সরাসরি কর্মকর্তাদের পরিশোধ করা হবে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাধিকার না থাকলে সরকারি টেলিফোন ব্যবহার করা যাবে না। প্রাধিকার না থাকার পরও কেউ তা ব্যবহার করলে সরকারি অর্থের অপচয় করার দায়ে অভিযুক্ত হবেন। তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় নিয়োজিত কর্মচারী সরকারি টেলিফোন, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। বিষয়টি এসংক্রান্ত কমিটি নির্ধারণ করবে। প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওএসডি থাকলে তাঁর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তিনি যে মন্ত্রণালয় থেকে বেতন ওঠাবেন ওই মন্ত্রণালয় বিল পরিশোধ করবে। একজন প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজনীয় মডেম এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় পাবেন। সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদসচিব, মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সচিব ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং শ্রম অপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্যও কোনো ব্যয়সীমা থাকবে না। অধিদপ্তরের প্রধান, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপপুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য টেলিফোন, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যয়সীমা থাকবে না। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পিএস মাসিক এক হাজার ৬৫০ টাকা বিল পাবেন।

হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন অনুমোদন

গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকারি টেলিফোন নীতিমালা ছাড়াও ‘হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইমারতের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ উপকরণ-শিল্প এবং বসতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার ওপর কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, দেশজ নির্মাণ উপকরণের প্রাপ্যতা, উন্নয়ন ও ব্যবহারসহ পরিবেশবান্ধব নির্মাণ উপকরণের উন্নয়নে গবেষণা করবে। তা ছাড়া নির্মাণকাজের জন্য উপযোগী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহিত করা, ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ কৌশলের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গৃহায়ণ খাতে ভূমিকম্পসহ দুর্যোগসহনীয় নির্মাণ প্রযুক্তি, স্বল্প খরচে ইমারত নির্মাণের পরিকল্পনা ও ইমারত রক্ষণাবেক্ষণের আধুনিক কৌশল উন্নয়নে গবেষণা করবে এ ইনস্টিটিউট। পাশাপাশি সাশ্রয়ী ও টেকসই নতুন উপকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এসংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনসহ ইনস্টিটিউটের কর্মকাণ্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতির জন্য যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে বিকল্প নির্মাণসামগ্রী, প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণাসহ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, নির্মাণসংক্রান্ত কোড, নীতিমালা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করবে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন নিয়ে গবেষণা, কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ফেলোশিপ ও বৃত্তি প্রবর্তন করতে পারবে। এ ছাড়া এসংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান ও গ্রহণের জন্য দেশি-বিদেশি, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনে ইনস্টিটিউট পরিচালনা পরিষদ গঠনে ২২ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে এর চেয়ারম্যান, মহাপরিচালককে সদস্যসচিব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

ঠাকুরগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com