আবারও সেই স্বপ্নভঙ্গ !

শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ |

আবারও সেই স্বপ্নভঙ্গ !
ছবি: অনলাইন

সংবাদ গ্যালারি ডেস্ক: ম্যাচ শেষ হতেই দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ছুটল আতশবাজির ফোয়ারা। তাতে রাতের আকাশজুড়ে আলোর মিছিলেও অন্ধকার মুখ বাংলাদেশ দলের।

সে অন্ধকার আরেকবার এশিয়া কাপ ফাইনালে ট্রফির নাগাল পেতে পেতেও না পাওয়ার হতাশায়। আরেকবার মুষড়ে পড়া স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়। আরেকবার প্রবল প্রত্যাশার সঙ্গে অল্পের জন্য তাল মেলাতে না পারার বিষণ্নতায়। হতাশা, বেদনা আর বিষণ্নতার প্রতিশব্দ বনে যাওয়া ভারতের সামনে জিততে জিততেও হারে বিলীন হওয়ার নিঃসীম শূন্যতায়ই আরেকবার খুঁজে পাওয়া গেল মাশরাফি বিন মর্তুজাদের।

webnewsdesign.com

যে ম্যাচ অবলীলায় জেতার কথা ভারতের, তাতে তাদের উল্টো চেপে ধরে হারের চৌকাঠে এনেও দাঁড় করানো গিয়েছিল। ২২২ রানের পুঁজি নিয়েও জানবাজি রাখা সে লড়াইয়ে অগ্রযোদ্ধা কখনো রুবেল হোসেন, কখনো মুস্তাফিজুর রহমান, আবার কখনো অধিনায়ক মাশরাফি নিজে।

নিজের প্রথম ৮ ওভারে দুটো মেডেনসহ মাত্র ১৫ রান খরচায় রোহিত শর্মাকে তুলে নেওয়া রুবেল বোলিং কোটা শেষ করলেন মাত্র ৪ রান দিয়ে। সেই ৪৮তম ওভারেই ফেরান ভারতকে জয়ের তীরে পৌঁছে দিতে থাকা রবীন্দ্র জাদেজাকেও। জেতার জন্য ভারতের সমীকরণ এসে ঠেকে ১২ বলে ৯ রানে। হাতে ৪ উইকেট। পরের ওভারে আরেকটি কমান এর আগে মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রতিরোধ ভাঙা মুস্তাফিজুর রহমানও। ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের চতুর্থ ক্যাচ বানান ২১ রান করে ফেলা ভূবনেশ্বর কুমারকে। সেই সঙ্গে মাত্র ৩ রান দেওয়ায় চাপটা আরো বাড়ে ভারতের। তাদের সামনে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৬ বলে ৬ রানের।

সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই শেষ ওভার করতে আসা মাহমুদ উল্লাহ ম্যাচ নিয়ে যান একেবারে শেষ বল পর্যন্ত। শেষ বলে ১ রানের সেই প্রয়োজন মেটান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ব্যাটিং করতে থাকা কেদার যাদব। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে একবার বেরিয়ে গিয়েও দলের প্রয়োজনে আবার ফিরে আসা যাদবের ব্যাট থেকে জয়সূচক রান আসেনি অবশ্য, এসেছে ‘লেগবাই’ থেকে। তাই ধারণার চেয়েও অনেক কম রানে প্রতিপক্ষকে বেঁধে ফেলা ভারত ৩ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে সপ্তমবারের মতো উঁচিয়ে ধরল এশিয়া কাপের ট্রফি।

তাতে বাংলাদেশ শিবিরে অন্ধকার আরো বেশি ঘনাল এ জন্যই যে আরেকবার শিরোপার তীর দেখতে পেয়েও নাগাল না পাওয়ার দায় অন্য কারো নয়, নিজেদেরই। আরো কিছু রান করতে না পারার ব্যর্থতাও দুবাইয়ের মধ্যরাতে কম মনোবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়াল না। এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যেতে যেতেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালের মঞ্চে আসা মাশরাফিকে শেষ পর্যন্ত সেই সংসারের গৃহকর্তাই মনে হলো, যার এটা হয় তো ওটা হয় না।

একটা টানাটানি লেগেই থাকে! লেগে থাকল এশিয়া কাপের গত চার আসরের মধ্যে বাংলাদেশের এই তৃতীয় ফাইনালেও। এক পাশ ভরলেও আরেক পাশ হয়ে গেল তলাবিহীন। ভরালেন এই আসরে পাঁচ ম্যাচ খেলেও দলকে ভালো শুরু দিতে না পারা লিটন কুমার দাশ। নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে তাঁর ভরিয়ে দেওয়ার দিনে আবার দলকে রিক্ত, নিঃস্ব আর অসহায় বলেও মনে করালেন কেউ কেউ। তাঁরা কারা?

দলকে ফাইনালে তোলার পথে বারবারই শুরুর ক্ষতি পুষিয়ে দিয়ে আসা মুশফিকুর রহিম-মাহমুদ উল্লাহরা। তাই ৮৭ বলে সেঞ্চুরি করা লিটন আর সবাইকে চমকে দিয়ে ওপেন করতে নেমে যাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজের ১২০ রানের দুরন্ত পার্টনারশিপে বাংলাদেশ যতখানি উঠল, তার চেয়ে বেশি নামলও। বিনা উইকেটে ১২০ থেকে ২২২ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর তা না বলে উপায় কী!

জেতার জন্য সৌরভ গাঙ্গুলী থেকে শুরু করে আরো সাবেক ক্রিকেটাররা যেখানে অন্তত ২৭০-২৮০ রানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছিলেন, সেখানে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের সামনে এ আর এমন কী! এই রানকেও যথেষ্ট বলে মনে করাতে বোলাররা কৃতিত্ব যেমন পাচ্ছেন, তেমনি ভর্ত্সনাও কিছু বরাদ্দ থাকছে ব্যাটসম্যানদের জন্য। অথচ ট্রফিটা বাংলাদেশের হাতেই দেখতে শুরু করে দিয়েছিলেন অনেকে।

বিশেষ করে দুবাইয়ের প্রেস বক্সে ভারতীয় সাংবাদিকরা গত বছর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতের পরিণতিও আগাম দেখতে শুরু করে দিয়েছিলেন। রবীন্দ জাদেজার বলে ৫৪ রানে থাকা লিটনের ক্যাচ চাহাল ফেলতেই এখানে ফিরে আসেন ফখর জামান। জসপ্রিত বুমরাহর নো বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়া ওই পাকিস্তানি ওপেনার শেষ পর্যন্ত করেছিলেন ১১৪ রান। লিটনও ৮৭ বলে করা তাঁর প্রথম সেঞ্চুরিকে নিয়ে গেলেন ১২১ রান পর্যন্ত।

তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আর এশিয়া কাপের ফাইনালে বিস্তর ফারাক। ওই ফাইনালে ফখর জামান একাই নন, কার্যকর আরো কিছু ইনিংসও পেয়েছিল পাকিস্তান। যে জায়গায় কাল সংকটে পড়ল বাংলাদেশ। লিটনের ১২১ রানের পর সর্বোচ্চ ইনিংস দুটো মাত্র ৩৩ (সৌম্য সরকার) ও ৩২ (মিরাজ) রানের!

তাই পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রানের বিশাল সংগ্রহেই প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পারলেও পারেনি বাংলাদেশ। যেটি পেরেছিল, তা এই পুঁজি নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে। যে লড়াই আরেকবার ব্যর্থ বাংলাদেশের ফাইনাল ভাগ্য বদলাতে। এ জন্যই আলোর মিছিলেও অন্ধকার ডুব বাংলাদেশের।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com