আমাজনের আগুন মানুষের দেওয়া!

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ৪:১৯ অপরাহ্ণ |

আমাজনের আগুন মানুষের দেওয়া!
প্রতি বছরই কম-বেশি ভয়াবহ আগুন লাগে আমাজনের অরণ্যে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে আমাজনে চলতে থাকা একটানা অগ্নিকাণ্ডের শিউরে ওঠা কারণ জানা গেল স্যাটেলাইটের চিত্রে। যাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, মানুষই আগুন লাগিয়েছে আমাজনে! স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গল কেটে সাফ করে মাটির চিত্রই বদলে ফেলা হয়েছে। ভেজা ঘাসে ভরে থাকা জমি একেবারে ফাঁকা ও শুকনো হয়ে গিয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে আরও ধরা পড়েছে, এই কাণ্ড করতে গিয়ে অরণ্যের গভীরে চলছে ট্রাক্টরও! উপড়ে ফেলে শুকনো হচ্ছে মাটি। ফলে আলগা হচ্ছে গাছের শিকড়, এমনিই মরে যাচ্ছে অনেক গাছ। সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি হারিয়ে যাচ্ছে এই চিরসবুজ অরণ্য থেকে।

আমাজনের এই পরিস্থিতির জন্য ইতিমধ্যেই আঙুল উঠেছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টে বোলসোনারোর দিকে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেআইনি জমিনীতি নিয়েছে রাষ্ট্র। এই নীতিতে আমাজনের জঙ্গলের জমিতে কৃষিকাজ বা খননের কড়াকড়ি অনেকটাই আলগা হয়েছে। এবং সেই কারণেই জমি ও খনি মাফিয়ারা এই জঙ্গলকে যেমন-তেমন ভাবে ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অরণ্য ধ্বংস হয়ে যেতে শুরু করার পরে আলোচনায় উঠে এসেছে এই অরণ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং হয়েছে হ্যাশট্যাগ প্রে ফর আমাজন। অভিযোগ উঠেছে ষড়যন্ত্রের। মনে করা হয়েছে, কোনও মুনাফার বশবর্তী হয়ে ইচ্ছে করে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে আমাজনের রেইনফরেস্ট। সেই রেইনফরেস্ট, যা পৃথিবীর মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অক্সিজেনের জোগান দেয়, যাকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।


যড়যন্ত্রের ইঙ্গিত আগেই মিলে থাকলেও, প্রমাণ ছিল না কিছু। এই দাবানল যে প্রাকৃতিক নয়, ইচ্ছাকৃত ভাবে ঘটানো, তার সপক্ষে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু এবার স্যাটেলাইটের পাঠানো ছবি ভাল করে খুঁটিয়ে দেখে পরিবেশবিজ্ঞানীরা অনেকটাই নিশ্চিত হলেন এই দাবানল শুধুই প্রাকৃতিক নয় মোটেই। মানুষের হাত ছাড়া এত বড় মাপের দাবানল কার্যত অসম্ভব। উপগ্রহ চিত্রগুলো দেখে রীতিমতো শিহরিত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বলিভিয়ার সুপার ট্যাঙ্কার আগুন নেভাতে শুরু করার পরে বড় আগুন অনেকটা স্তিমিত হলেও, এখনও অন্তত আড়াই হাজারটি ‘পকেট ফায়ার’ রয়েছে গোটা অরণ্যে। অর্থাৎ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, জ্বলছে এখনও। এই অবস্থায় চিন্তিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও। আসন্ন জি-৭ সামিটে এই আমাজন-বিপর্যয় প্রসঙ্গে জরুরি আলোচনার প্রস্তাব রেখেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দাবি, চাষযোগ্য জমি তৈরির জন্য এবং খনিজ সম্পদের লোভে নির্বিচারে গাছ নষ্ট করার জন্য আগুন লাগানো হয়েছে। তাতেই সম্ভবত এমন দুর্দশার মুখে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর ফুসফুস। তথ্য বলছে, ২০০৩ সালেও এক বার এমনই সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল আমাজনের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায়। সে সময়ে ব্রাজিলের মাতো গ্রোসো এলাকা ছেয়ে গিয়েছিল প্রবল দূষণ, কালো ধোঁয়ায়। এই বারে ঠিক এমন দশা হয়েছে আমাজন থেকে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের শহর সাও পাওলো-তে। সূত্র: খবর দ্য ওয়াল

মন্তব্য করতে পারেন...

comments



ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com