এক গুচ্ছ কবিতা–দীপান্বিতা গাঙ্গুলী!

রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩:১৪ অপরাহ্ণ |

এক গুচ্ছ কবিতা–দীপান্বিতা গাঙ্গুলী!
প্রতিকী ছবি

নৈঃশব্দ্যের,

-দীপান্বিতা গাঙ্গুলী!

আমরা হেঁটে চলেছি শ্বেত গোলাপের বনে
না——?
সেখানে অজস্র মুক্ত আর রঙিন ঝিনুকের আলো
ফুটে আছে রূপোর রেকাবিতে
যেমনটি করে তাজমহলের
বুকে আছড়ে পরে নরম জ্যোৎস্নাসুখ ।
আজ নৈশভোজের আয়োজনে
তেমন কিছুই নেই
শুধু একটু অপেক্ষা
কথাকলির খেয়ায় বৈকালিক হাওয়া
নৈঃশব্দ্যের গভীরে!
শব্দ স্পষ্ট মেঘমল্লারের উদাসীনতা
তবুও,
দিনান্তের সুর
হয়ে ওঠে নীলকবিতা
সবুজ ভ্রমণের কথা ও কাহিনীতে।

শ্রাবন ছোঁয়া

-দীপান্বিতা গাঙ্গুলী
বাদল মাতন হাওয়ায়
মায়াময় শব্দ বৃষ্টি ফোঁটা,
নৈঃশব্দ্যের গভীরে
আজো ফাগুন দহন।
রাশি রাশি ফুল সাজ গুছিয়ে রাখি
অতি সন্তর্পণে।
মায়াপথের ডিঙা বেয়ে নামে তুমুল বৃষ্টি,
আল পথের পাশ দিয়ে ভেসে চলে
শ্রাবণ ছোঁয়া মন ।
দখিন বাতাস ডাক দিয়ে বলে
শ্রাবণকে আগলে রাখ
বিনি সুতোর বকুল লীলায়।
ব্যথার শব্দ মুক্তি পায়
নিশুত রাতের অশ্রু ধারায়।
মায়ার জলে প্রদীপ ভাসে
প্রহরান্তের অনুরাগে।
সবুজ আলোয় ভেসে ওঠে
বৃষ্টি আদর ডিঙাটি,
হাতের উপর হাত স্তব্ধ দুটি চোখ
ঠোঁটের গভীরে গোলাপ পাপড়ির দোল।
সময় তখন থমকে দাঁড়ায়
বলে ওগো ,
আকাশের বুকে দাও উড়িয়ে
গোপনের পাপড়ির দোল
দেখবে,
ভাসছে মায়াঘাট সন্ধ্যা স্নানে ।
আলতো হাতে ঢেকে নিলাম শ্রাবন ছোঁয়া
মায়ার ঘ্রাণে।

বৃষ্টিকথা
-দীপান্বিতা গাঙ্গুলী
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি এলো ,
এলো গোটা শহর কাঁপিয়ে ,
নিঃশ্বাসে সোঁদা মাটির গন্ধ ।
দাওয়ার পাশে মানিপ্লান্ট গাছটা দুলছে
দোদুল্যমান স্মৃতিতে ।
সত্যিই বলছি রঞ্জন
তুমি ব্যতীত এই বৃষ্টি সন্ধ্যা
বিষন্নতার মেঘযাত্রা ,
তাইতো উড়িয়ে দিলাম বৃষ্টিচিঠি মেঘেদের ডাকবাস্কে !
সেতো যাবে ওই তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে অনাবৃষ্টির দেশে ।
মনে পড়ে ?
গতবছর এমন বৃষ্টি সন্ধ্যায়
আমার মন খারাপের দিনগুলো
রেখে এসেছিলাম তোমার মায়ানদীর ঘাটে ,
তখন তুমি উতল বাতাস—–
মাঝরাতে এলো মিষ্টি একটা ফোন ,
“কেমন আছো আছো লাবণ্য
এমন ঘোর বরিষায় ?
চেয়ে দেখো একরাশ বৃষ্টি এনেছি
সকল আগল ডিঙিয়ে মুঠো ফোনের কানেকানে!
নিনতাল নদীর জল এখন ছলছল
সেখানে সমস্ত আকাশের গায়ে তুমি 
শুধু —- আমার তুমি।
একটা গান শোনাতে পারো বহুদিন হলো
তোমার কোন গান শুনিনি ,
তার ঘোর লাগানো কথা
রাখতেই হলো।
অবশেষে শুরু করলাম
“বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করছো দান”
আমি কিন্তু বেশ অবাক হচ্ছিলাম,
আচমকা প্রশ্নটাও করেও ফেললাম
এই তুমি কি বলছো কবি ?
ওই মরুরদেশে কোথায় তোমার নীল নদীর স্নান ?
কোথায়বা বৃষ্টিভেজা ঠোঁট চুঁইয়ে পরা
সুরের রিনিঝিনি ?
এ কেবল আমার রঞ্জনের
কল্পকথা আর গল্পকথা ।
আসলে সেতো কবি,
একটা পাখি উড়ে গেলেও সে বিস্ময়ে
তাকিয়ে দেখে দূরের ওই পাখিটার
সোনালী যাত্রা পথ।
আমিতো রঞ্জনকে এমন ভাবেই চিনি —
অচিনপুরের সবটুকু আমার বিস্ময়।
কতোকাল অনাহারে আছে সে —-
সে কেবল আমি জানি ,
সত্যিই বলতে—–
কতোদিন হলো,
ঠিক করে গুছিয়ে তোমার কুশল সংবাদটুকুও নেওয়া হয়নিগো——
ভুলটা ——-, কোথায় – যেনো ?
আমার অজান্তেই হৃদয়কে দ্বিখন্ড করে
দিব্বি দিয়ে বসেছিলাম,
তুমি আমাকে —
ফোন করবেনা, কোনদিন না
কখনই নয়—
“কেমন আছো” সৌজন্যটুকু দেখাবারও প্রয়জন বোধ করিনি সেদিন ,
এও জানি,
‘সে কেমন আছে জিজ্ঞেস করলে’
মিথ্যে বলবে চার অধ্যায়ের গল্পসল্পের কারণ ,
আমার কষ্ট পাওয়াটা তার কাছে বিষম দায় ।
এখন আমাদের জীবনটা বেশ অন্যরকম,
“ভেক সন্ন্যাস” যাত্রাপালার অংশবিশেষ।
আস্তে – আস্তে কেমন জোকার হয়ে গেলাম
এই জীবনটা আমার মনেহয় সমস্তটাই ভেক।
আমি বলি রঞ্জন ,
একি কোন কবির জীবন হলো ?
এযে কেবলি গৃহী জীবন নির্মাণ
ব্যর্থতার আঙ্গিকে,
অর্থহীন পথে মুখ লুকিয়ে রাখা।
তবে ,
প্লিজ এসো রঞ্জন
ভরে দাও শব্দ কবিতার পাতায়।
তোমার অক্ষরের নিবেদনে ভরে উঠুক
পরমের কথা ,
লেখো জীবনের বার্তা—
যাতে প্রাণ পায় মৃত সূর্যালোক।
ঘুমিয়ে থাকা অক্ষরগুলো জেগে উঠুক
আবার নতুন করে আমাদের ভালোবাসায়।
জীবন মুখি কবিতা লেখো
এই মুখর বরষায় ।
কদম বাতাস আনুক প্রাণের মাতন
জনপদের কল্যাণে ।
আমরাও হয়ে উঠবো অঝোর বৃষ্টি
এই মানবতীর্থে।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments



বেনাপোলে ধর্ষীতা তরুনী- সন্মান যাওয়ার ভয়ে আত্মহত্যা…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com