কিশোরগঞ্জে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

রবিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ |

কিশোরগঞ্জে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: অনলাইন

কিশোরগঞ্জে ইউসুফ মনি (৪২) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এ হামলায় ইউসুফ মনির ছোট ভাই কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইয়াকুব সুমন (৩৬) গুরুতর আহত হন।

গত শুক্রবার রাতে জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র রথখোলা ঈশা খাঁ রোডের মাধবী প্লাজা এলাকায় শতাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এ ঘটনা ঘটায়। হামলার পর শহরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।

webnewsdesign.com

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ১০ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে রামদা-চাপাতিসহ ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায়ও বেশ কয়েকটি রামদা ও চাপাতি উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

নিহত ইউসুফ মনি শহরের আখড়া বাজার এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি বাসার কাছের আখড়াবাজার মোড়ে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চালাতেন। এ ছাড়া তিনি জেলা যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শহরের রথখোলা ঈশা খাঁ রোডে প্রাচীন অভিজাত হোটেল নিরালার আট শতাংশ জায়গার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দু’টি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে জায়গাটির দখলে থাকা আওলাদ হোসেনদের কাছ থেকে শহরের বয়লা এলাকার মো: আইনুল হক জায়গাটি কিনে নেন। মাস তিনেক আগে সেই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন আইনুল। কিন্তু জায়গাটির মালিকানার দাবিদার অপর পক্ষ শহরের আলোরমেলা এলাকার শেখ নাদির হোসেন দোলন বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান। এসব বিরোধের জের ধরে গত ২২ জানুয়ারি রাতে দোলনের লোকজন আইনুল হকের একটি মাটিবোঝাই ট্রাক ভাঙচুর করে। তখন আইনুল হকের পক্ষে স্থানীয় কাউন্সিলর ইয়াকুব সুমন অবস্থান নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। উত্তেজনা নিরসনে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সালিস অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই রাত পৌনে ৯টার দিকে রথখোলা ঈশা খাঁ রোডের মাধবী প্লাজার সামনে কাউন্সিলর ইয়াকুব সুমনের উপর হামলা চালায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে কাউন্সিলরের বড় ভাই ইউসুফ মনি সেখানে গেলে তার উপরও চড়াও হয় সন্ত্রাসীরা। এ সময় মনি দৌড়ে মাধবী প্লাজার চারতলার উপরে গিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে তাকে হামলা করে। চাপাতি-রামদা দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে তারা ক্ষতবিক্ষত করে মনিকে। পরে মুমূর্ষু মনিকে সেখানে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার সময় মার্কেটটির সামনে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর তাণ্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া মনি ও সুমনের আখড়াবাজারের বাসায় গিয়ে সেখানেও ভাঙচুর চালায় সন্ত্রাসীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অনেকে মুখোশ পরা ছিল। তারা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মনিকে মৃত ঘোষণা করেন। মনির ছোট ভাই কাউন্সিলর ইয়াকুব সুমনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো: আবুবকর সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি চাপাতি ও রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুনরায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও তার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে ইউসুফ মনির হত্যার প্রতিবাদে আখড়াবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সব দোকানপাট বন্ধ রাখে। আখড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাউছার আহম্মেদ টিটু বলেন, ইউসুফ মনিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু বলেন, মনি যুবলীগের একজন বলিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। প্রকাশ্যে পরিকল্পিত এই হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা মনিকে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com