কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সাব-রেজিষ্টার অফিসে দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

বুধবার, ০৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ১:৪০ পূর্বাহ্ণ |

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সাব-রেজিষ্টার অফিসে দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সাব-রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা, দলিল প্রতি মোটা অংকের ঘুষ নেয়াসহ নানা দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাজনা খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও দলিল প্রতি মোটা অংকের উৎকোচ না দিলে সাব- রেজিষ্টার দলিল স্বাক্ষর করছেন না বলে খোদ দলিল লেখক ও দাতা গ্রহীতারা অভিযোগ করেছেন। তাছাড়া কর্মস্থলে যোগদানের পর সাব-রেজিষ্টার সপ্তাহে ৩ দিনের বেশি অফিস করেন না বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন। এ নিয়ে অফিস চত্বরে হর-হামেশা উচ্চবাচ্য ও হট্টোগোলের ঘটনা ঘটছে।
অন্যদিকে দ্বিগুন উৎকোচের বিনিময়ে জাল কাগজপত্র দিয়েই দলিল পাড় করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে সাব-রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় যে সকল গ্রহীতা উৎকোচ দিতে অনিচ্ছুক তারা দিনের পর দিন হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। আর যারা বাধ্য হয়ে উৎকোচ দিচ্ছেন তারা সীমাহীন ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে সাব-রেজিষ্টার অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দাতা গ্রহীতাদের মধ্যে যারা সাব-রেজিষ্টার কর্তৃক দলিল প্রতি নির্ধারিত উৎকোচ জমা দিচ্ছেন তাদের দলিলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে এজলাসে দাখিল করা হচ্ছে। আর যারা উৎকোচ দিচ্ছেন না তাদের কাগজ পত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার ফুলবাড়ী সাব- রেজিষ্টার অফিসে ১০ শতক জমি বিক্রয়ের দলিল সম্পাদন করেন চন্দ্রখানা গ্রামের দীন মোহাম্মদের স্ত্রী রাশেদা বেগম। তার বিক্রিত জমির দলিল নম্বর ৩৮০৯, তারিখ-১৯/১২/১৭, দলিল লেখক ৫৪/০৮ নং লাইসেন্সধারী তাজুল ইসলাম। ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা মূল্যের এই দলিলের গ্রহীতা তারই আপন জা জেবুন্নেছা বেগম।
দীন মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, উৎকোচ না দেয়ায় কাগজের ত্রুটি দেখিয়ে গত সপ্তাহে তাদের দলিলটি ফেরত দেওয়া হয়। সাতদিন হয়রানীর পর মঙ্গলবার অফিসের মোহরার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ১ হাজার ৩ শ টাকা ঘুষ দিলে দলিল জমা নেয়া হয়।
৩৮১০ নম্বর দলিলের গ্রহীতা মুক্তা আক্তার জানান, তার কাছ থেকেও ১ হাজার ৩শ টাকা ঘুষ নেয়া হয়েছে।
ফুলবাড়ী সাব-রেজিষ্টার অফিসের অপর দলিল লেখক ১/৭৬ নং লাইসেন্সধারী আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, বর্তমান রেজিষ্টার সাইফুল আলম যোগদানের পর থেকে সাব কবলা দলিল প্রতি ১৩০০ টাকা, হেবার ঘোষনা দলিল প্রতি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা প্রকাশ্যে ঘুষ নিচ্ছেন। আর কাগজের ত্রুটি থাকলে আরও অতিরিক্ত ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় কয়েকজন দলিল লেখককে তিনি অপমান করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন। অফিস সহকারী শ্যামল চন্দ্র ও মোহরার জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে তিনি এই ঘুষের টাকা নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি গোলজার হোসেন বলেন, ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে-অর্ডার বাদে ২% টাকা হাতে নেয়ার নিয়ম আছে। এ ছাড়া আর কোন টাকা নগদ নেয়ার নিয়ম নাই। কিন্তু আমরা অফিসারদের কাছে জিম্মি।
এ ব্যাপারে উপজেলা সাব-রেজিষ্টার সাইফুল আলম বলেন, জেলা রেজিষ্টারকে অবগত করেই তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। আর ঘুষ নেয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

webnewsdesign.com
ঠাকুরগাঁওয়ে হোটেল শ্রমিকের মাঝে সেচ্ছাসেবকলীগের  ঈদসামগ্রী বিতরণ…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com