কৃষি জমি জবর দখল করে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ

শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৩:৫০ অপরাহ্ণ |

কৃষি জমি জবর দখল করে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ
প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ডেস্ক রিপোর্ট

চন্দ্রগঞ্জ থানার হাজির পাড়া ইউনিয়নের আলাদপুর ,ও বরমপুর গ্রামের এলাকায় মাটি কেটে নেয়ায় ফসলি জমিতে গর্তের সৃষ্ট হয়েছে। লক্ষীপুর সদর উপজেলার হাজির পাড়া ইউনিয়ন মিরিকপুর এলাকায় ভাগিনা মিজানুর রহমান , ভাতিজা আবির ও চরচামিতা এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আবদুল্যাহ আল মামুন, আব্দুল রহমান ,বাদল,মাসুম সমর্থকের নেতৃত্বে ৩০- ৫০ জন কৃষকের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাটি কেটে নেয়া এসব জমিতে কয়েক বছর ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

মাটি কাটার ঘটনায় জড়িত ওই ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান । তাঁর বাড়ি কুমিল্লা জিলার লাকসাম উপজেলার বাতাখালী এলাকায়।
তাঁর সঙ্গে জেলার সরকারিদলীয় কয়েকজন বড় নেতার সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি জানা গেছে।

webnewsdesign.com

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ১৫ দিন ধরে মাসুমের নেতৃত্বে আট -দশ জন শ্রমিক নিয়োগ করে জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা প্রতিদিন ১০-১৫ ট্রাক মাটি বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। এসব মাটি রাস্তা ভরাট, বসতঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, হাসানপুর এলাকার মেঘার বাড়ি দক্ষিণ পশ্চিমে বরমপুর মৌজার এলাকায় ১ একর ফসলি জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে জমির বিভিন্ন স্থানে ২-৩ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

মিরিকপুর গ্রামের কৃষক আবদুল ওয়াদুদ অভিযোগ করেন, মিজানুর রহমান, আবির ,মাসুম ,আবদুল্যা আল মামুন তাঁর ৭০-থেকে ৮০শতাংশ জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছেন। তাতে তাঁর জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জমির মধ্যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তিনি এবার জমিতে কোনো ফসল চাষ করতে পারেননি।

মাটি কাটতে অনেক নিষেধ করা হলেও আব্দুল্যা আল মামুন ও মাসুম তা শোনেননি। বাধা দিতে গেলে তারা (আবদুল্যা আল মামুনের ) বাহিনী দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।

মিরিকপুর গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, তাঁর ৫ বিঘা জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। মাটি তুলে বিক্রি করে দেয়ায় প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও তাঁর জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এবার তিনি ওইসব জমিতে কোনো চাষাবাদ করতে পারেননি।
মিরিকপুর মৌজার নেয়াজ উদ্দিন পাটওয়ারী বাড়ির মনোয়ারা বেগম বলেন, আবদুল ওয়াদুদ থেকে ২৫ শতাংশ কৃষিজমি ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ১০ বছরের জন্য চাষাবাদের জন্য কট নিয়। স্বামী হারা মনোয়ারা বেগম আরো বলেন গত কয়েক দিন যাবত বেকু দিয়ে আমার কৃষি ফসল উৎপাদিত ২৫ শতাংশ জমিন থেকে আমাকে না জানিয়ে জোর করে ভূমিদস্যুরা মাটি কেটে বিক্রি করছেন। জমি তাঁর হলেও ভূমিদস্যুরা ঐ জমি দাবি করে মাটি কেটে বিক্রি করছেন।

বাধা দিতে গেলে তারা নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে তিনিও ওইসব জমিতে এবার কোনো চাষাবাদ করতে পারেননি।

অন্যের জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, যে সব জমি থেকে মাটি বিক্রয় করা হচ্ছে ঐ জমির,দাতা আমি । জমির অনেক মালিকও মাটি বিক্রি করছেন। শুধু আমিই বিক্রি করছি, এটা ঠিক না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সাথে আমার ভাল সর্ম্পক রয়েছে।

উপরিক্ত বিষয়ে আবদুল্যা আল মামুন বলেন আমি একজন সাধারন ব্যবসায়ী, মাটি ক্রয় করি নিচ্ছি। আড়াই ফুট গভীর থেকে মাটি ক্রয় করার চুক্তি হয় সফিক উল্ল্যাহ চৌধুরীর সাথে।

লক্ষীপুর উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর খামার বাড়ি,মো:বেলাল হোসেন,বুধবার বলেন, ‘কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলায় এর উবরতা হারিয়ে যায়। তবে ভূমিদস্যুরা যেভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে, তাতে ওই সব এলাকার কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ ছাড়া ওই এলাকার কৃষি ফসল উৎপাদন আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com