চামড়ার দামে সন্তষ্ট নয় রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা

শুক্রবার, ১০ আগস্ট ২০১৮ | ৭:০৭ অপরাহ্ণ |

চামড়ার দামে সন্তষ্ট নয় রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা
চামড়ার দামে সন্তষ্ট নয় রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা

রাজশাহী প্রতিনিধি: কোরবানির আগেই হঠাৎ করেই কমেছে চামড়ার দাম। তারপরে আবার সরকারের বেধে দেওয়া দামে আসন্ন কোরবানির চামড়া কেনা-বেচা নিয়ে অনেকটাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওয়ানা রয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। সবমিলে চামড়া ব্যবসায়ীরা রয়েছেন অনেকটাই আর্থিক সঙ্কটে।


তবে সরকারের নির্ধারিত দামে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনেন না বলে অভিযোগ করেছেন রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ। তিনি বলেন, চামড়ার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মলিকদের থেকে ২০১৫-১৭ সালের বকেয়া প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাবে। এছাড়া চামড়ার দাম নির্ধারণের পরেও সেই দামে ট্যানারি মালিকরা চামড়া না কেনায় বিপাকে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম হবে ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা। যা গত বছর ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা। তবে মহিষের চামড়ার দামের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
জানা গেছে, রাজশাহীতে প্রতি কোরবানি ঈদে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার গরু-মহিষ এবং ২০ হাজার ভেড়া, এক লাখ ছাগল কোরবানি হয়ে থাকে। রাজশাহী জেলায় প্রায় ৩৫-৪০টি আড়ৎ রয়েছে। এই আড়ৎগুলো থেকে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চামড়া কেনেন ট্যানারি মালিকরা।


রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারিভাবে প্রতি বছর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। তারপরেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ট্যানারি মালিকরা সেই দামে চামড়া নিতে চায় না। এসময় বাধ্য হয়ে চামড়া দিতে গেলে তেমন দাম পাওয়া যায় না। এছাড়া পরিবহন, শ্রমিক খরচ দিয়ে লোকসানের পাল্লা ভারি হয়ে যায়। তার উপরে রয়েছে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী। তারা দাম না বুঝে বেশি দামে চামড়া কেনে। বিক্রির সময় কিছু টাকা হয়। অনেক সময় তাদের লোকসানও হয়। বেশি টাকায় চামড়া কেনায় তাদেরও লোকসানে পড়তে হয়।

প্রতিবছর কোরবানির আগে চামড়া ব্যাবসয়ীদের টাকা দেয় ট্যানারি মালিকরা। ঢাকা হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে নতুন নতুন ট্যানারি মালিক হওয়ায় তারা ব্যবসায়ীদের আগে টাকা দিচ্ছেন না। এর ফলে চামড়া কিনতে হিমসিম খেতে হবে ব্যবসায়ীদের।


এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ বলেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে তা গত বছরের চেয়ে কম। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ হিসেব করতে গেলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি পড়ে চামড়ার দাম। বর্তমান সময়ে চামড়ার দাম কম। এই বছর শবেবরাতে ১৫’শ থেকে ১৮’শ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে চামড়া। তার ১৫ দিনের ব্যবধানে রোজার ঈদে নেমে আসে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। ঈদের কয়েক দিন পরে চামড়া বিক্রি করলে কি হবে এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, লবণ, পরিবহন ও শ্রমিকের খচর ধরলে দিগুন পড়বে চামড়ার দাম।

দেখা যাবে ছাগল-ভেড়ার চামড়ায় লবণের দাম উঠবে না। বর্তমানে লবণের ৬৫ কেজির বস্তার দাম ৮০০ টাকা। লবনের দাম বাড়লে চামড়ায় ব্যবসায়ীদের খরচ বেশি পড়বে বলে এই ব্যবসায়ী জানায়।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

বালিয়াডাঙ্গীতে কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে ২ বখাটের কারাদণ্ড…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com