জঙ্গি ফাঁদে অভাবি পরিবারের ছাত্রীরা!

রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ১০:০৬ অপরাহ্ণ |

জঙ্গি ফাঁদে অভাবি পরিবারের ছাত্রীরা!
ছবি: অনলাইন

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ছাত্রী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থা আর কথিত ‘আবহ ফাউন্ডেশনে’র নামে এবার জঙ্গীকান্ড সম্প্রসারিত হচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলে। খুঁজে খুঁজে অভাবি ও দরিদ্র পরিবারের ছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে এ কাজে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। আর অর্থের লোভে পড়ে অভাবি পরিবারের ছাত্রীরা এ ফাঁদে পা দিচ্ছে।

গত বুধবার রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ছয় ঘাটি গ্রাম থেকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার একই পরিবারের ৬ নারী ও একজন পুরুষকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কাছে যেসব বৈশাখ ও বর্ষবরণ বিরোধী লিফলেট পাওয়া গেছে তা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার। তাদের কাছে আবহ ফাউন্ডেশনেরও লিফলেট পাওয়া যায়। পুলিশ কথিত আবহ ফাউন্ডেশনের কোনো অস্তিত্ব না পেলেও অপর লিফলেটটি ইসলামী ছাত্রী সংস্থার তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরমধ্যে ‘পহেলা বৈশাখের নির্দেশনা’ শিরোনামে প্রকাশিত বর্ষবরণ বিরোধী লিফলেট বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার। লিফলেটে তাদের পুরো নাম না থাকলেও সংক্ষিপ্তভাবে বা. ই. ছা. স ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ‘ঐতিহ্যের আহবানে শেকড়ের সন্ধানে’ শিরোনামে প্রকাশিত অপর লিফলেটগুলি আবহ ফাউন্ডেশনের। যদিও পুলিশ বলছে, এমন ফাউন্ডেশনের অস্তিত্ব নেয়। তবে এটিও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কোনো কৌশল হতে পারে। এ দুটি লিফলেটের ভাষা প্রায় একই ধরনের। পুলিশ ধারণা করছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ছাত্রী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নামে জঙ্গী তৎপরতার কৌশল হতে পারে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গ্রেফতার সন্দেহভাজন ছয় নারীসহ সাত ‘জঙ্গি’ একই পরিবারের। এরমধ্যে পাঁচজন কলেজছাত্রী। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সঙ্গেও জড়িত। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নামে তারা জঙ্গিবাদের কর্মকান্ড চালাচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ জানান, গত ১৪ এপ্রিল গোদাগাড়ী এলাকায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বিরোধী লিফলেট বিতরণ করা হয়। বেশ কয়েকজন নারী বোরখা পড়ে লিফলেটগুলো বিতরণ করে। এর সূত্র ধরে বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে দুইজন নারীকে সনাক্ত করে। এর পর বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে ছয় নারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের বাড়ি থেকে বেশ কিছু লিফলেট ও জিহাদী বই পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃত দুইজন জেএমবি ও পাঁচজন জামায়াতের ছাত্রী সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র সঙ্গে জড়িত। তারা জেএমবির নতুন সদস্য বলে জানান পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ জানান, গ্রেফতার সবাই গোদাগাড়ী উপজেলার ছয়ঘাটি গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে হাসান আলী ও সেফালী খাতুন একই উপজেলার নিভৃতগ্রাম বেনীপুর জঙ্গি হামলার ঘটনার মামলার পলাতক আসামী (মামলা নং ২৫, তারিখ- ১৩/০৫/১৭)। বেনিপুরের আস্তানায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে তাদের নাম আসে। বিশেষ করে বেনিপুরের আস্তানায় আত্মসমর্পণ করা সুমাইয়া জিজ্ঞাসাবাদে হাসান আলী ও সেফালীর নাম জানায়। এর পর থেকে পুলিশ তাদের খুঁজছিল।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আটক হাসান আলীর দুই মেয়ে এবং তার ভাই রেজাউল করিমের তিন মেয়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ফারিয়া খাতুন কনা গোদাগাড়ীর প্রেমতলি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, হানুফা খাতুন রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, ফারজানা আক্তার সুইটি প্রেমতিল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, নাদিয়া সুলতানা তিশা রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং রোজিনা সুলতানা কলি প্রেমতলি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ আরো জানান, গত পহেলা বৈশাখ গোদগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী স্কুলে দুইজন বোরখা পরা নারী লিফলেট বিতরণ করে পালিয়ে যায়। লিফলেটে ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি করাসহ পহেলা বৈশাখ পালন না করার জন্য আহবান জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে ওই দুজনকে চিহ্নিত করা না গেলেও, পরে তাদের সনাক্ত করা হয়। এরা হলেন ফারিহা খাতুন কনা ও ফারজানা আক্তার সুইটি। তাদের কাছে জিহাদি যে লিফলেট পাওয়া গেছে তাতে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নাম রয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ইসলামী ছাত্রী সংস্থাও এখন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে পুলিশের ওই সূত্রটি জানায়, গোদাগাড়ীতে গ্রেফতার পরিবারের দুইজন হাসান ও সেফালি আগে থেকেই জেএমবির সঙ্গে জড়িত। তদের পরিবারের অপর ৫ জন সবাই ছাত্রী। তাদের কাছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার লিফলেট পাওয়া গেছে। ফলে তারা নিসন্দেহে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্য, পাশাপাশি জেএমবির সঙ্গে সংশিষ্ট। একারণে ধারণা করা হচ্ছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার আড়ালেই এখন জঙ্গী তৎপরতা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া জঙ্গী পরিবারটি বেশ অভাবি। ওই পরিবারের ৫ জনই কলেজের ছাত্রী। প্রথমত, অভাবী ও দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তাদের দলে ভেড়ানো হয়েছে ছাত্রী সংস্থার নামে। পরে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন কাজে।

পুলিশ জানায়, এসব ছাত্রীদের কয়েকজন হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করে। তাদের আয়ের উৎস তেমন নাই। হয়তো ইসলামী ছাত্রী সংস্থা থেকেই তারা নিয়মিত অর্থ পেয়ে জঙ্গীবাদে পা দিতে পারে। তাদের অর্থের উৎসের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, এর আগে গোদাগাড়ী ও তানোরে জঙ্গি পরিবারের সন্ধান পাই পুলিশ। এদের মধ্যে তানোর থেকে একই পরিবারের সবাইকে গ্রেফতার করা গেলেও গোদাগাড়ির বেনীপুরে জঙ্গিরা স্বপরিবারে পুলিশের উপর আত্মঘাতি হামলা চালায়। এতে এক দমকল কর্মী নিহত হন। এছাড়াও আত্মঘাতি হামলায় নিহত হয় চারজন।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

সংবাদ গ্যালারির সম্পাদকের ভাই নূরনবী মিরন আর নেই…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com