‘জীবনতরী পাঠশালা’- হতদরিদ্রদের জীবন গড়ার কারখানা

শনিবার, ০৬ জুলাই ২০১৯ | ৫:০২ অপরাহ্ণ |

‘জীবনতরী পাঠশালা’- হতদরিদ্রদের জীবন গড়ার কারখানা
প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ডেস্ক রিপোর্ট

চলো আঁধার করি দূর সামনে আলোর ভোর।
আলোকিত সমাজ গড়ার অঙ্গিকার এই আমাদের সকলের প্রত্যয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করন, অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করে বিদ্যালয়মূখীকরন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চত করনের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়ানো ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন জীবনতরী পাঠশালার সদস্যরা।

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার, জলঢাকা পৌরসভাধীন দুন্দিবাড়ি ১নং ওয়ার্ড (মাইজালীপা­ড়া) নামক গ্রাম থেকে ২০১৮ ইং সালে স্ব-উদ্দ্যোগে সামাজিক দায়বোধ থেকে এ যাত্রা শুরু করেন মোঃ অপিজার রহমান, আমিনুর রহমান, আল-আমিন ইসলাম স্বপন, হাসিদুল ইসলাম, আঃ হান্নান, আরিফুজ্জামান বাবু, মাসুম বিল্লা,মিলন, লিটন,সেলিম ইসলাম,সুমন,জিকরুল, সবুজ,রুবেল,রানুসহ আরো অনেকে।


প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের ঝড়ে পড়া রোধ করতে, বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করে বিদ্যালয়মুখী করন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করনে অবিভাবক সমাবেশ,এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জীবনতরী পাঠশালা একটি ব্যতিক্রমি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন হিসেবে আলো ছড়িয়ে দেওয়া।

গ্রামের পিছিয়ে পড়া সুবিধা বঞ্চিত পিতা-মাতাহীন ও -দরিদ্র পরিবারের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় এবং অর্থের অভাবে যেন কারো লেখাপড়া বন্ধ হয়ে না যায় সে ব্যাপারে জীবনতরী পাঠশালার সদস্যরা সদা জাগ্রত।
জীবনতরী পাঠশালায় যে সমস্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হয় সে সমস্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাধারণত অশিক্ষিত হওয়ার ফলে তারা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ের পড়াগুলো বাড়িতে ভালো করে বুঝিয়ে দিতে পারে না, কিংবা অর্থের অভাবে ভালো প্রাইভেট পড়াতে পারে না।

এতে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের থেকে তারা লেখাপড়ায় তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। সময় মত ঐ সকল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী খাতা, কলম ইত্যাদি) ব্যবস্থা করে দিতে পারে না। এই সব কারণে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া হতে অনেক পিছিয়ে পড়ে ও অমনোযোগী হয়, দেখা যায় একসময় তারা লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রথম শ্রেণিতে পঠন দক্ষতায় দূর্বল শিশু চতুর্থ শ্রেণির পাঠ শেষে দূর্বল পড়ার সম্ভবনা শতকরা ৯০ ভাগ।

জীবনতরী পাঠশালার মূল লক্ষ্য হলো ঐ সমস্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার আলো থেকে ঝড়ে না পড়ে তাদের পঠন দক্ষতা ও লিখন দক্ষতা বৃদ্ধি করে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে সহযোগিতা করা।
বর্তমানে সংগঠনটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২জন। প্রতিদিন বিকাল ৩ থেকে ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত পড়ানো হয়। প্রতিদিন রাতে পাঠশালার শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পড়ালেখার বিষয়ে তদারকি করা হয়।

জীবনতরী পাঠশালায় প্রতিদিন যে সকল শিক্ষার্থী পড়তে আসে তারা সকলেই স্থানীয় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায় থেকে ঝড়ে পড়া রোধ করতে, হত-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অভিভাবকগণ খুশি হয়ে সন্তাদের প্রতি অধিক নজর দিচ্ছে এবং হত-দরিদ্র অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখছে।

দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী মনিফা,দিনমজুরের কন্যা, তার স্বপ্ন বড় হয়ে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে নিজেকে একজন ডাক্তার হিসেবে তৈরি করতে চায়। বড় হয়ে সারা জীবন মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যেতে চায়। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল ইসলামের স্বপ্ন বড় নিজেকে একজন বড় পুলিশ হবে। তাদের এই স্বপ্নের কথা প্রকাশ করে জীবনতরী পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ অপিজার রহমান এবং সদস্য ও শিক্ষকদের কাছে। তাদের এই আকাশ ছোয়াঁ স্বপ্ন পুরনের লক্ষ্যে স্বপ্নের শিখরে পৌছে দিতে সামাজিক সংগঠন জীবনতরী পাঠশালায় বিনামূল্যে পাঠদান ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়।
জীবনতরী পাঠশালায় শুধু মনিফা,আশরাফুল নয়, লামিয়া, নুরী, রহমত আলী, জান্নাতি,আলিফসহ আরো অর্ধশতাধিক দিনমজুর পরিবারের শিক্ষার্থী আছেন, তাদেরও রয়েছে অনেক স্বপ্ন। এসব শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পুরনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জীবনতরী পাঠশালার সদস্যরা

জীবনতরী পাঠশালা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার পাশাপাশি আরো বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করে থাকে যেমন- বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা,রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক আলোচনা সভা করা হয়।

নীলফামারী জেলা পরিষদ,জলঢাকা উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় সংসদ সদস্য এবং গ্রামের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ সংগঠনটিকে উৎসাহ প্রদানে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করলে উপজেলার একটি ব্যতিক্রমি মডেল স্বেচ্ছাসেবী সমাজিক সংগঠন হিসেবে আলোর মুখ দেখাতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments



ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com