জয় চায় আ’লীগ, পুনরুদ্ধারে বিএনপি, সক্রিয় জাতীয় পার্টি

শুক্রবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ |

জয় চায় আ’লীগ, পুনরুদ্ধারে বিএনপি, সক্রিয় জাতীয় পার্টি
(ছবিতে উপরে বাম থেকে) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক সাংসদ রায়হানুল হক রায়হান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু, (ছবিতে নীচে বাম থেকে) জেলা বিএনপির সহসভাপতি বজলুর রহমান, চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নূরুজ্জামান খান মানিক।

রাজশাহী প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও রাজনৈতিক বিরোধী দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশ তৎপর। তবে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত না হলেও আওয়ামী লীগ থেকে শাহরিয়ার আলমের মনোনয়ন পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। তারপরও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ রায়হানুল হক রায়হান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে দেনদরবার ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ চায় জয়। আর বিএনপি চায় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টিও রয়েছে সক্রিয়।

webnewsdesign.com

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি নূরুজ্জামান খান মানিক, চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শিল্পপতি বজলুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেস দত্ত ও দেবাশীষ রায় মধু।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ আসন দুইজন মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। বাঘা-চারঘাটে জাতীয় পাটির সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই মজবুত। গণসংযোগ করছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন রিন্টু ও আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন।

বাঘা-চারঘাটে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর তেমন কোন কার্যক্রম নেই। তবে বর্তমানে বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জিন্নাত আলী এবং চারঘাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নাজমুল হক দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তারা এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে জামায়াতের কোনো নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বাঘা ও চারঘাট উপজেলা মিলে রাজশাহী-৬ আসন গঠিত। এ দুইটি উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। এরমধ্যে বাঘা উপজেলায় সাতটি ও চারঘাট উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন। এছাড়া বাঘা উপজেলায় দুইটি পৌরসভা (বাঘা ও আড়ানী) এবং চারঘাট উপজেলায় একটি পৌরসভা (চারঘাট) রয়েছে।

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. আলাউদ্দিনকে (নৌকা প্রতীক) পরাজিত করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজিজুর রহমান (ধানের শীষ প্রতীক) নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মরহুম আজিজুর রহমান (ধানের শীষ প্রতীক) সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আরেকটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম ডা. আলাউদ্দীন আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন। তবে তিনি বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে পরে আবার আওয়ামী লীগে ফিরে যান এবং আওয়ামী লীগের ঐকমত্যের সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন।

এর কিছু দিন পরে ডা. আলাউদ্দিনের মৃত্যু হলে শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রায়হানুল হক রায়হান নির্বাচিত হন। আর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম (নৌকা প্রতীক) নিয়ে পরাজিত হন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রায়হানুল হককে পরাজিত করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট কবির হোসেন (ধানের শীষ প্রতীক) নির্বাচিত হন।

ধারাবাহিকভাবে বিএনপির এই বিজয় অর্জিত হতে থাকলেও এর ছেদ ঘটে ২০০৮ সালের নির্বাচনে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহরিয়ার আলম নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আবারো নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহরিয়ার আলম। পরে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মনোনীত হন।

অবশ্য এর আগে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. আলাউদ্দিনকে (নৌকা প্রতীক) পরাজিত করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোকসেদ আলী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. আলাউদ্দিনকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পাটির প্রার্থী নূরুন্নবী চাঁদ। জাতীয় পাটির নূরুন্নবী চাঁদের সময়ে বাঘা-চারঘাটে যে উন্নয়ন হয়েছে, বিগত সময়ে কেউ এমন উন্নয়ন করতে পারেনি। ফলে জাতীয় পার্টির সময় ভালো ছিল বলে সাধারণ ভোটারা জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, মনোনয়ন নিয়ে ভাবছি না। শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। সেটা ভেবেই কাজ করছি। আগামী নির্বাচনের আগে বাঘা-চারঘাট এলাকায় ১০০ ভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা, এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বাঘা পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণি ও আড়ানী পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নতি করা হয়েছে। দুইটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের রাস্তা পাকাকরণ, বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তিনটি পৌরসভায় দুই বছরে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত নয় বছরে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে থেকেছি।

অভ্যন্তরীন বিরোধের বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, বিরোধীতা তারাই করেন মূলতঃ যারা নৌকার ভোট করে নি। সাধারণ মানুষ অতিতের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। আর আওয়ামী লীগ প্রেমিরা পুরো বিষয়টা জানেন এবং বোঝেন। যারা খারাপ কাজ করে তাদের ভৎষণা করি।

আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান শাহীদ বলেন, শাহরিয়ার আলম দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ এলাকাবাসীর সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখেন, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ান। ফলে তৃণমূলে শাহরিয়ার আলম একজন ভালো মানুষ এই বিষয়ে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তিনি বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িত নন। তাই শাহরিয়ার আলমের মতো জনপ্রিয় নেতাকে দিয়ে এ আসন ধরে রাখার সম্ভব। এছাড়া বিগত সময়ে বাঘা-চারঘাটে সমস্ত এমপি-মন্ত্রী মিলে যে, উন্নয়ন করেছেন শাহরিয়ার আলম গত ৯ বছরে তার চেয়ে বেশি উন্নয়ন করেছেন।

উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মহিদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পাটি বর্তমানে আগামী নির্বাচন নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। জাতীয় পাটিকে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এককভাবে নির্বাচন করলে সন্তোষ্টজনক ভোট পাবে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, এলাকার উন্নয়ন করতে হলে যোগ্য নেতার প্রয়োজন। আমি ১৯৯১ সালে সাবেক সাংসদ মরহুম আজিজুর রহমান ও ২০০১ সালে সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট কবীর হোসেনের পক্ষের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করি বাঘা এলাকায়। এছাড়া আড়ানী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চক্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। আড়ানী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চক্র এক সময়ের উত্তর বঙ্গের শ্রেষ্ঠতম ক্লাব হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। এছাড়া আমি জয়গুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জার্মান ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত রোদশী ফ্রি মেডিকেল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিচালক। এলাকার মানুষ আমার সঙ্গে আছেন। আমি আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

বাঘা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক জাহঙ্গীর হোসেন, সদস্য সচিব আশরাফুদৌলা, যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে এবং যোগ্য ও ত্যাগী নেতা হিসেবে প্রার্থী মনোনয়ন করা হলে এ আসন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

 

রিজভী/রাজশাহী

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com