ঠাকুরগাঁওয়ে চা-শিল্পের প্রেক্ষাপট,ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং করনীয় নিয়ে গ্রীন ফিল্ড টি ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর সাংবাদিক সম্মেলন

রবিবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪:৫৯ অপরাহ্ণ |

ঠাকুরগাঁওয়ে চা-শিল্পের প্রেক্ষাপট,ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং করনীয় নিয়ে গ্রীন ফিল্ড টি ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর সাংবাদিক সম্মেলন

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শাহবাজপুরের গ্রীন ফিল্ড টি ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড যাহার ব্রেন্ডিং নাম সুলতান টি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল ইসলাম (হিরু) ঠাকুরগাঁওয়ের চা-শিল্পের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং করনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরতে আজ রবিবার সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেছেন, ২০১১ ইং সাল হতে ঠাকুরগাঁও জেলা তথা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাসহ পার্শ্ববতী এলাকা সমূহের চা-চাষের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যত উপলব্ধি করে তিনি প্রথমে নিজেই একটি চা বাগান শুরু করেন।পরে বৃহৎ আকারে চা চাষ এবং কারখানা স্থাপনের জন্য বেশ কিছু কৃষক ভাইদের নিয়ে চুক্তি ভিত্তিক চা চাষ শুরু করেন।


এলাকার চা চাষীদের সাথে চুক্তি ভিত্তিক সুদমুক্ত প্রায় ৮০ (আশি লক্ষ) টাকা বিনিয়োগ করে এবং তিন বছর পরে সরবরাহকৃত কাঁচা চা পাতার মূল্য থেকে ১০% – ২০% হারে কর্তন সাপেক্ষে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০১৭ – ২০১৮ ইং সালে চট্টগ্রাম নিলাম বাজারে বাজার মূল্য ভালো থাকায় তিনি সুনামের সাথে পরিচালনা করে থাকে।

বলাবাহুল্য যে, তার কোম্পানীর সাথে চা চাষীদের চুক্তি অনুযায়ী তিন পাতা এক কুড়ি কচি চা পাতা সরবরাহ না করে চা তৈরির অনুপযুক্ত ৮ থেকে ১০ পাতা সরবরাহ করায় এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তার কোম্পানীকে বিশাল অংকের অর্থের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এ বছরের শুরুতে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানী উচ্চমূল্যে কাঁচা চা পাতা ক্রয় করে।কিন্তু চট্টগ্রাম নিলাম বাজারে গত ৩০ শে এপ্রিল প্রথম নিলাম বাজার হতে এযাবৎ ১৫টি নিলামে মারাত্মক দরপতন হয়েছে। এর ফলে তার কোম্পানী বিশাল অংকের অর্থের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি চা চাষীদের সঠিক মানের তিন পাতা একটি কুড়ি কচি কাঁচা চা পাতা সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেন। এই মানের পাতা দিয়ে ভালোমানের চা বানানো যায় যাহা নিলাম বাজারে ব্যপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চা চাষীরা টি বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম না মেনে যথারিতি পূর্বের ন্যায় নিন্ম মানের ৮ -১০ কাঁচা চা পাতা সরবরাহ করায় তিনি তা গ্রহন না করিলে একটি কুচক্রী  মহল বিভিন্নভাবে তার কোম্পানীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এতে তার চা শিল্প কারখানার সূনাম ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র করায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

উল্লেখ্য যে, এ বছরের শুরু থেকে ভারত হতে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে চা প্রবেশ কারার কারণে নিলাম বাজার খারাপ হওয়ায় দেশীয় তথা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার তৈরীকৃত চা কোনভাবেই নিলাম বাজারে বিক্রি না হওয়ার ফলে কারখানার মালিকবৃন্দ ও চা চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য তিনি উদ্দ্যোগ গ্রহন করে। তা হলো- হাত দিয়ে ৮-১০ দিন পর পর চা পাতা তোলার নিয়ম থাকলেও চা চাষীরা নিয়ম না মেনে কাঁচি দিয়ে চা পাতা ৪০-৪৫ দিন পর পর কর্তন করে সরবরাহ করে যা ভালো মানের চা উৎপাদনে অনুপযোগী। নিলাম বাজারে এসব চা পাতার কোন চাহিদা নেই। তাই সকল চা চাষীদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করার আহব্বান জানান।

তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চা চাষী ভাইদের অবগতির জন্য জানান যে, বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কাঁচা চা পাতা সরবরাহ করে উপযুক্ত বাজার মূল্য গ্রহন করুন এবং দেশ ও চাষী ভাইদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা করুন।
তিনি বলেছেন, জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ বেশ কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত হয় চোরাপথে ঢুকছে নিম্নমানের চা, হুমকিতে দেশীয় চা শিল্প।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত এপ্রিলে সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার হয়ে আসা প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কেজি নিম্নমানের চা পাতা আটক করেছে। গত বছরের আগস্টে পঞ্চগড় সীমান্তে বিজিবির হাতে ধরা পড়ে পাচার করা আরও প্রায় ১ হাজার কেজি চা পাতা।দেশের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে ভারতীয় চা পাতা বাংলাদেশে আসছে। বৃহত্তর রংপুরের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের কয়েকটি সীমান্ত ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ চা পাতা দেশে আসছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় চা চাষী ও চা শিল্প কারখানা। নিম্নমানের চা পাচারের কারণে দেশের এই উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে দেশীয় চা শিল্পের সংশ্লিষ্টরা।

এপর্যন্ত চট্টগ্রামের চা নিলাম বাজারে ১৫টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি নিলামে মারাত্মকভাবে দরপতন হয়েছে। ফলে নিলামে উঠানো দেশীয় চা অবিক্রীত রয়েছে। ইদানীং বিনা শুল্কে বর্ডার হাটকে কেন্দ্র করে কিছু মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী অবাধে কম মূল্যের নিম্নমানের চা বাংলাদেশে পাচার করে। পার্শ্ববর্তী দেশের প্যাকেটজাত ও বস্তাভর্তি খোলা চা অবাধে বিক্রির সংবাদ পাওয়া গেছে।এতে দেশের চা চাষী ও চা শিল্পের বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

পাচারকৃত নিম্নমানের কম দামের চা অবাধে বাজারে বিক্রি হওয়ায় দেশে উৎপাদিত চায়ের চাহিদা ও দাম কমে গেছে।চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাচার হওয়া নিম্নমানের চা দেশের চা শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অবাধে নিম্নমানের চা যাতে দেশে অবৈধভাবে ঢুকতে না পারে সে জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্থ্যক্ষেপ কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী ও সাধারণ সম্পাদক লুত্‍ফর রহমান মিঠুসহ জেলা এবং বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।

  • সঞ্চালনায় ছিলেন আলোর কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম রুবেল।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments



ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com