ঠাকুরগাঁওয়ে হাটের জমি বেদখল, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ |

ঠাকুরগাঁওয়ে হাটের জমি বেদখল, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ঠাকুরগাঁওয়ে হাটের জমি বেদখল, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ৫নং বাচোর ইউপির কাতিহার হাট গরু-ছাগল কেনাবেচার জন্য বিখ্যাত। সপ্তাহের প্রতি শনিবার এ হাট বসে। হাটের জমির পরিমাণ ৯ একর ৭৩ শতাংশ। তবে সিংহভাগ জমি এখন বেদখল হয়ে গেছে। দখলকৃত জমিতে প্রভাবশালীরা পাকা, আধাপাকা, টিনশেড দোকানঘর, ব্যবসায়িক মিল, বাড়িঘর তৈরি করে ব্যবহার করছেন।

অন্যদিকে নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন কাতিহার হাট বাৎসরিক চুক্তিতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইজারা দিলেও ইজারাদারকে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ভাড়া নিয়ে গরু-ছাগল ও সাইকেলের হাট বসাতে হয়। হাটটির ৬০ শতাংশ রাজস্ব গরু ও ছাগল বিক্রির খাজনা থেকে আদায় হয়। হাটটি বাংলা ১৪২১ সনে এক বছরের জন্য ৬২ লাখ, ১৪২২ সনে ১ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ও ১৪২৩ সনে ৭৯ লাখ ২০০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। আগের বছরের অক্টোবর থেকে গেল বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী ইজারাদার রেজাউল ইসলাম ও এসএম রাজা হাটের নিজস্ব জায়গায় হাট বসাতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। গেল বছরের মার্চ মাসে কাতিহার হাট ১৪২৪ বাংলা সনের ১ বছর মেয়াদে ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী গোলাম আজম ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার পে-অর্ডার সংযুক্ত করে ইজারাপত্র দাখিল করেন।

webnewsdesign.com

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাট ইজারা নিতে চাইলেও নানা জটিলতার কারণে ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে একটি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ১৪২৪ বাংলা সনে খাস কালেকশন হিসেবে হাটটির ইজারা আদায় হচ্ছে। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মো. নাহিদ হাসান ইজারা আদায়কারী হিসেবে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতৈড় গ্রামের মৃত আলহাজ মহিউদ্দীনের ছেলে গোলাম আজমকে হাটপ্রতি ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬১৫ টাকার চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন। সরকার নির্ধারিত গরুর ইজারা ১৮০ টাকার পরিবর্তে ২২০ টাকা, ছাগলে ৮০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা করে নেওয়া হলেও ইজারা রশিদে সরকার নির্ধারিত টাকার পরিমাণই লেখা হয়। এ নিয়ে মাঝে মাঝে হাটে গরু-ছাগল কিনতে আসা মানুষের সঙ্গে ইজারাদারের লোকজনের ঝগড়াঝাটিও হয়। হাট ইজারা অদায়কারীর দাবি, ভাড়াকৃত জায়গায় হাট বসানোর কারণেই বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা নিতে হচ্ছে। এতে বছরে জনগণের কয়েক লাখ টাকা গচ্চা গেলেও সরকার এর ভাগ পায় না। সরেজমিন দেখা যায়, হাটের সরকারি নির্দিষ্ট জমির ওপর ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়িঘর, লেদ মেশিনের দোকান, হোটেল, ব্রয়লার মুরগির দোকান, সারের দোকান, স্টক ব্যবসার গুদাম ঘর,  হলুদভাঙ্গা ও ধান পেশানোর মিলসহ শতাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

এসব স্থাপনা থেকে থেকে সরকার কোনো রাজস্বই পায় না। হাটের নির্দিষ্ট জমির ওপর শুধু ধান, কাঁচামাল ও হাস-মুরগির ছোট ভ্রাম্যমাণ কাপড়ের দোকান বসে। হাটের জমি বেদখল থাকায় সাইকেল, গরু ও ছাগলের হাট বসাতে হয় অমূল্য রায়, সফির মেম্বার, হিরা লাল রায়, ইলিয়াস মাস্টারের কাছ থেকে ভাড়ায় নেওয়া জমির ওপর। হাটের জমি দখল করে তৈরি লেদ কারখানার ব্যবসায়ী উত্তম কুমার বলেন, ২০০৪ সালে তৎকালীন ইজারাদারের সহযোগিতায় দোকান ঘরটি তুলে এখন পর্যন্ত ব্যবসা করছি। হাটের ইজারা দেন না বলে তিনি স্বীকার করেন। একইভাবে হাটের জমি দখল করে গুদাম ঘর, মিলসহ শতাধিক স্থাপনা তৈরিকারী ব্যক্তিরা সরকারকে কোনো রাজস্ব দেন না।

৫নং বাচোর ইউপির চেয়ারম্যান জিতেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই হাটের জমি উদ্ধার হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মো. নাহিদ হাসান বলেন, হাটের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

ইউএস বাংলার অনিয়মে এজেন্সি মালিকদের ক্ষোভ…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com