তুমি রবে নীরবে – দ্বিতীয় পর্ব—–

মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট ২০১৯ | ৫:৩৫ অপরাহ্ণ |

তুমি রবে নীরবে – দ্বিতীয় পর্ব—–
এর পরের র্পবের জন্য আমাদের সাথে থাকুন.......

তুমি রবে নীরবে
দ্বিতীয় পর্ব

লেখক-দীপান্বিতা গাঙ্গুলী




( রাইয়ের প্রবেশ)
রাই — তুমি কি এসেছো ?
একি দক্ষিণের দরজা খোলা আছে দেখছি,
অবাক কান্ড।
উফ্ প্রচণ্ড গরম আজ ,
বিরক্তিকর ঘ্যনঘ্যনে গরম পড়েছে।
বেনীর মা এক গ্লাস জল দিতে পারো ,
দাদাবাবু ঠিকমতো খেয়ে বেড়িয়েছিলো ?
না — এসিটা অন করতে হবে
দেখছি।
এসিটা চালাও বেনীর মা,

বেনীর মা —-আইতাছি বৌদীগো
ঠান্ডা ম্যসুনডা শ্চালাইয়া।

রাই — উফ্—–(বেশ কিছুটা মাথা ঝাঁকিয়ে)
বাঁচলাম,

(মনে মনে গান ধরলো রাই)
“আমার মন কেমন করে আমার মন করে
কেজানে কেজানে কে জানে কাহার তরে “।

বেনীর মা —-এই নাও জল ,
ও পাড়ার শ্রীকান্ত দাদাবাবু এয়েচিলেন তোমার ঐ ফাংশনের কতা কইতে ,
(সন্ধ্যায়) সনদায় আবারও কিন্তু আসপে কয়ে রাকলুম,
আর শোন বৌদী আমাগো বাগানের মালীদাদা এয়েচিলো বললেন–
হঠাৎ নাকি কুড়ি এয়েচে বেলীর বাগানে ,
আমি কত্ত বোঝালুম এখনতো ফুল ফোডনের সময় আর তাতে তোমার এতো কতা ক্যান বাপু।
সেতো কথা বলা আরম্ভ করলি শেষ করতি চায়নাগো —–তাই আমিও হার মানলুম।
উফ্ —-বৌদীগো তোমার ফোনডা দেহি বাজ্জাই চলতাছে , ধরো দেহিনি আর পারিনে মাগো।
তবে আমি চলি ,
ফোনডা ধরো দেহি শান্ত হোউক বাড়িডা।

( ফোনটা বেজেই চলল রাই আড়ষ্ট বিরক্তিতে বললো )

রাই— ফোনটা নিয়ে এসো বেনীর মা দাও — দাওতো ফোনটা,

বেনীর মা —এই নাওগো – বৌদীদিদি।

হ্যালো — হ্যালো,হ্যালো- কে বলছেন ?
উফ্– কোন উত্তর দিচ্ছেনা যে
জাস্ট ডিসগাস্টিং
(বিরক্তর সাথে ফোন রাখতে গেলো হঠাৎ চমকে উঠে )

রাই— কার- কার গলার আওয়াজ —

কে – কে ?

দেব —আপনি রাই,

রাই –ও – দেব – হ্যাঁ

দেব—-কেমন আছো রাই ?

রাই—কোন প্রয়োজনে, এই অসময়ে ফোন ।

দেব —–না একটু যদি কথা বলার সুযোগ দাও
রাই ।
(মাথায় তখন রাইয়ের ভীসুভিয়াসের অগ্নি প্রবাহ ,ঘৃণায় গা রিরি করছে তবুও নিজেকে সামলে কথা বললো রাই )

রাই—- ও-কে,
কেনো আমায় ফোন করে উত্তক্ত করো ?
না —- আমি এবার তোমার নাম্বারটা ব্লক করে দেবো।
আমি আর তোমার অত্যাচারটা নিতে পারছিনা
দিনের পর দিন যে যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছ–
ভেবে দেখো দেব,
যন্ত্রণাটার মাত্রা হারিয়েছে ,
আমি কিন্তু কিচ্ছুটি বলিনি আগে তবে শোন আজ কিন্তু বলব ,
(বিরক্তির সাথে)আর চুপ করে থাকবোনা ।
কেনো লোকে তোমাকে এতো খারাপ কথা বলে
সেই কথাগুলো একলা মনে আত্মস্থ হয়ে ভাবো,
নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করো ,
নিশ্চয়ই চলার পথে ভুল আছে তোমার।
যে মহিলাকে জড়িয়ে তোমার সাথে নানা প্রকার কুকথা হচ্ছে সে কথার সবটা সত্যি না হলেও কিছুতো সত্যি ,সেটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস ,
যাক, আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি এরপর যদি ফোন করো তবে আমি তোমার নাম্বারটা ব্লক করে দিতে বাধ্যই হবো।

দেব — ইস্ রাই, এতো বিস্রি করে কথা বলছো,
এমন করে আর বলোনা ।

রাই — আবার নাটক শুরু।

দেব—দূরে আকাশের দিকে চেয়ে দেখো রাই আকাশ লাল হয়ে আসছে ,
সুস্থ করে তুলেছে মন।
ঝাপসা হয়ে আসছে আমার চোখ।
এই রাই শোন—
তোমার গলার কি অবস্থাগো ?
আমিযে খুব চিন্তায় আছি ,
উত্তর দিচ্ছোনা কেনো ?
এই বোকা মেয়েটা ,
বুঝি অভিমান করেছে ?

রাই—— শোন দেব ,
তোমার কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়জন আছে বলে মনে করিনা,
সিম্পল এই কারণে আমি উত্তর দিচ্ছিনা
বুঝলে ?

দেব—-দেখো রাই তোমার কষ্টের কারণটা কিন্তু আমি জানি,
এরজন্য কিছু সত্যি আমার করার নেই,
আমাকে তুমি নিত্যদিনের মতো পাবেনা ,
আমার একটা সংসার আছে
অবশ্য তোমারো আছে।
কলেজ পালানো স্টুডেন্ট আমারা নই,
আর সত্যি বলতে আমি রোজ তোমার লেখা পড়তেও পারবোনা রোজ ফোন করাও অসম্ভব ।
সময় করে কাজের ফাঁকে একটু মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে চেয়েছি এই দম বন্ধ হয়ে আসা
এক ঘেয়েমির জীবনে থেকে —
আমিতো তোমাকে আগেই বলেছিলাম রাই আমি হলাম সমুদ্রতটের বালি ,
আমাকে মুঠোয় বন্ধি করতে চেওনা
তাহলে আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে পরে যাবে
কিন্তু তুমিতো রাই তাই করলে ।
আমি যে অন্ধকার জগতে ছিলাম তার থেকেও আরো আরো গভীর অন্ধকারে আমাকে টেনে এনে ফেললে।
যেখানে মুক্তি নেই সেই আকাশে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।

রাই —– হ্যাঁ ,
বেশ করছি ।
তোমার কিছু করার আছে ?
আর নয়, অনেক হলো –
জেনে নাও আমার একটা লাইফ আছে
একটা চাওয়া পাওয়া আছে ,
আমি কিন্তু অসুস্থ হয়ে পরছি শুধুমাত্র তোমার জন্য
হ্যাঁ হ্যাঁ–তোমারই জন্যই
অনেক হলো আরব্য উপন্যাসের কল্পকাহিনী গড়া
এইবার স্টপ ,
জাস্ট স্টপ(বেশ জোরে) ।
দেব—-
বাবা ,
এতো রাগ ,
এতো রাগতো আগে দেখিনি,
হার মানছিতো ,
অন্যায় সব আমার,
একটু বোঝ সোনা,দেখবে আমাদের জানালায় আবার রোদ পড়েছে ।
পাখিরা আবার নতুন সুর তুলছে রোদের পাতায়—
আমি তখন পালে লাগা হাওয়া,
শান্ত হও বৃষ্টিতে ভেজা বুলবুলি আমার।

রাই—– সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে
একজন কবিকে ভালোবাসে ,
আর সব সময় এতো কাব্যও ভালো লাগেনা,
স্রেফ ন্যাকামো মনে হয়।
তুমি বলছো আমাকে শান্ত হওয়ার কথা
ভাবো ,
ভাবো দেব ভাবো—
বিগতো দিন গুলোর কথা ভাবো ,
দিনের পর দিন কতো অপেক্ষায় থেকেছি তোমার জন্য তুমি ভুল করেও ফিরে তাকাওনি আমার দিকে ।
আমি আর নিতেও পারছিনা এই কষ্টগুলোকে,
খুব অসহায় লাগে নিজেকে ;

দেব——– রাই আমরা মনে হয় দুজনেই ভুল করছি ,
এভাবে ছোটদের মতো অশান্তি করা মানায়না,
যথেষ্ট ম্যাচিওর আমরা
সেই পুরনো দিন গুলোর কথা ভাবো ,
আর রাগ করে থেকোনা ,
প্লিজ সোনা সেই আলোর উৎসবের দিনগুলো ফিরিয়ে নিয়ে এসো দেখবে এই দূরদেশ কোন দূর নয় ,
সে হয়ে উঠবে মাতাল ঝড়,
তখন তুমি আমার বাদল বাতাস ।
আমি অনাহারের দিনগুলো কাটিয়ে ঐশ্বর্যের প্রাসাদ গড়বো ।

রাই ——-উফ্ আর আমি নিতেও পারছিনা ,
মাগো—-,
দেব—তুমিতো আমার কল্পলতা
সবখানেই তোমার ছবি ,তোমার হাসি
আর মুক্তোর মতো চোখের জল ।
তুমি যে চপল হরিনী আমার।

রাই—- থামো , থামতো দেব,
আর কাব্য করোনা ।
ঝটপট কথা সারো আমার হাতে সময় খুব কম
তাছাড়া এখন বাড়িতে আমার অনেক লোক ,কথা বলার সময়ও নেই ।
তোমার এই কাল্পনিক মন ভোলানোর কথা আমি আর শুনতেও চাইনা
আর তাছাড়া নিজের প্রয়োজন ব্যতীত কোনদিনতো আর ফোন করোনি— হুঁ ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments



ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com