দেশরত্নকে নিয়ে ”এমপি সেলিনা জাহান লিটা”র কিছু কথা

শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ২:৫৬ অপরাহ্ণ |

দেশরত্নকে নিয়ে ”এমপি সেলিনা জাহান লিটা”র কিছু কথা
প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার জন্মদিনে এমপি সেলিনা জাহান লিটা’র আবেগ-অনুভূতির বহি:প্রকাশের কিছু কথা

সংবাদ গ্যালারি ডেস্ক: প্রিয় নেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাদার অফ হিউম্যানিটি, গণতন্ত্রের মানষকন্যা -এরকম হাজারো উপাধি লিখে শেষ করা যাবে না জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে। আর সেই নেত্রীর ৭২তম জন্মদিন ছিল (২৮ সেপ্টেম্বর/১৮)।

প্রিয় নেত্রীর জন্মদিনকে ঘিরে সারা দেশে আনন্দ উল্লাস র‌্যালী, শোভাযাত্রা সহ অনেক মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। পিছিয়ে ছিলেন না ঠাকুরগাঁওয়ের নারী মুক্তির পথ প্রর্দশক, সংরক্ষিত আসন-৩০১ এর সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা এমপি।


তাইতো নিজের আবেগ-অনুভূতির বহি:প্রকাশ করেছেন তাঁর সুন্দর লেখনীর মাধ্যমে। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের টাইমলাইনে তা শেয়ারও করেছেন।

প্রিয় নেত্রীর জন্মদিনে কি ছিল সেই অনুভুতি, তা ”সংবাদ গ্যালারি” পাঠকদের জন্য তার টাইমলাইনের লেখাটি হুবহুতুলে ধরা হলো:


“একজন মেয়েকে মানুষ হয়ে উঠতে গেলে অনেক প্রতিকুলতার সম্মুখীন হতে হয়। এই সমাজ, সংসার , রাষ্ট্র সহজে কি জায়গা করে দিতে চায়! সারা পৃথিবীতো রয়েছেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই ভাবিনা কেন।” “ওরা কি ভেবেছিল সেই ছোট্ট মেয়েটি আজ বিশ্বনেত্রী হবে! না ওরা ভাবেনি। কারণ সে যে মেয়ে! তাইতো সেদিন (১৯৭৫) অবহেলা, অবজ্ঞায় তাঁকে হত্যা করেনি”।

১৯৪৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাবা বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমান, মা শেখ ফজিলাতুন নেসার কোল আলো করে টুঙ্গি পাড়ায় জন্ম নিয়েছিলেন বঙ্গকন্যা, দেশরত্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনা।


ধীরে ধীরে বড় হয়েছে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে। শৈশব কেটেছে তাঁর গ্রামে। তাইতো তিনি বুঝতে পারেন গ্রাম বাংলার মানুষের দুঃখ কষ্ট। তিনি শীতের সকালে মিষ্টি রোদে বাড়ির আঙিনায় বসে মুড়ি মাখা খেয়েছেন। গাভীর দুধ দোহাতে দেখেছেন। পাড়ার বন্ধুদের সাথে ফড়িং ধরেছেন। বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট্ট নদীতে মাঝে মাঝে পা ভিজিয়েছেন।

এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম করতে গিয়ে বার বার বাবাকে জেলে যেতে দেখেছেন। মা অনেক কষ্ট করে সংসার, দলের নেতা র্কমীদের কিভাবে আগলে রেখেছিলেন সে অভিজ্ঞতাও তিনি উপলব্ধি করেছেন।

অনেক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার নেতৃত্বে(১৯৭১ সালে) এদেশ স্বাধীন হল। মাত্র সাড়ে তিন বছর বঙ্গবন্ধুদেশ চালিয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুর্নগঠন করে তিনি মানুষের র্অথনৈতিক মুক্তির জন্য দেশকে যখন সোনার বাংলা গড়ার রূপরেখা দিলেন তখনই ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ট স্বপরিবারে র্নিমমভাবে হত্যা করল স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। (বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা) শুধু তাতে ক্ষান্ত হয়নি হায়েনার দল সামরিক জিয়ার সরকার কালো আইন (ইনডিমিনিটি অর্ডিন্যান্স) জারি করলো। বিচার পাওয়া থেকে তাঁর পরিবারকে বঞ্চিত করলো।

এর চেয়ে যন্ত্রণা দায়ক আর কি হতে পারে!?

পরিবারের সকলকে হারিয়ে বেঁচে থাকা যেখানে অসম্ভব সেই মানুষটি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার প্রিয় মানুষগুলোর ভালবাসায় বেঁচে আছেন। কারণ বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস, ভালবাসা এই দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের প্রতি। এদেশের মানুষের মুখের দিকে চেয়ে তিনি বুকে পাথর চেপে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শক্ত হাতে হাল ধরেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের। একে একে স্বৈর শাসকদের পতন হল। প্রথমে ১৯৯৬ সালে। তারপর পর পর টানা দু’বার (২০০৮ -২০১৪) ক্ষমতায়।

সূক্ষ্ম বুদ্ধি, দুরদৃষ্টি চিন্তা চেতনা, দক্ষ নেতৃত্ব, গভীর মমতা ও ভালবাসায় সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা করছেন। বিশ্ব মানবতা যখন মুখ ফিরিয়েছিল রোহিঙ্গাদের উপর থেকে তখন মানবতার মা আশ্রয় দিয়েছে তাদের। ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের খাবার ভাগ করে খাইয়েছেন তিনি। যে বাংলাদেশকে পশ্চিমা শক্তি তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অবজ্ঞা করেছিল সেই রাষ্ট্রকে আজ জননেত্রী শেখ হাসিনা রোল মডেল বানিয়েছেন।

স্বয়ং পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরাও এখন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে পাকিস্তানের শাসকদের অনুসরণ করতে পরার্মশ দেন। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা ভেবেই তিনি র্কম পরিকল্পনা করে একে একে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তিনি ভোরবেলা থেকে মধ্যরাত র্পযন্ত এদেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রিয় নেত্রীর এই পরিশ্রম আমাদের অনুপ্রেরণা।

অদম্য শক্তি, সাহস, মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে শুধুমাত্র বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এতসব কিছুর পরেও তাঁর শিশুসুলভ মনোভাব, মানবতা, গভীর মমতায় মাঝে মাঝে শিশুদের নিয়ে খেলতে ভালবাসেন। ছেলের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলেন। ছেলের জন্মদিনে নিজ হাতে রান্না করেন। নাতীর বায়না মিটাতে নিজ হাতে মজা করে মাছ রান্নাও করেন। দলের নারী র্কমীদের 

নিয়ে মাঝে মাঝেই হাসি ঠাট্টা করে কথা বলে অনুপ্রেরণা যোগান।

জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো দৃঢ় অথচ কোমল হৃদয়ের একজন দলীয় প্রধান, একজন প্রধানমন্ত্রী, একজন বিশ্বনেতার সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান।

প্রিয় নেত্রী“তুমি জন্ম না নিলে বাংলাদেশ কলংকমুক্ত হতোনা, বাঙ্গালি নারীরা লেখাপড়া, ক্রিড়া, সংস্কৃতিতে অবদান রাখতে পারতোনা, ভোট দেওয়ার অধিকার পেতোনা, জনপ্রতিনিধি হতে পারতোনা। সর্বোপরি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারতোনা। বাঙালী জাতি তোমার কাছে অনেক পেয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণ তোমার জন্মদিনে প্রাণভরে দোয়া, আশির্বাদ করছে। তুমি আরো শক্তি, সাহস,মনোবল নিয়ে আরো অনেক অনেক বছর আমাদের আগলে রাখো। “শুভ জন্মদিন দেশরত্ন”। সেলিনা জাহান লিটা-

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

প্রিজাইডিং অফিসারকে বিবস্ত্র করেও  বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে অপরাধীরা…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com