ধারাবাহিক বিশেষ গল্প “একটি স্বপ্নের গল্প”

মঙ্গলবার, ০৩ এপ্রিল ২০১৮ | ৭:২২ অপরাহ্ণ |

ধারাবাহিক বিশেষ গল্প “একটি স্বপ্নের গল্প”
(প্রথম পর্ব)
“একটি স্বপ্নের গল্প”
  ফারজানা আহমেদ 
আমার দেহটা এখানে,সাদা কাফনে ঢাকা।আশে পাশে অনেকে।কেউ কেউ কাঁদছে।যার কাঁদবার কথা ছিল সে নিরব।এবার পেয়ারা গাছে প্রচুর পেয়ারা ধরেছে।কয়েকটি ছেলে পেয়ারা গাছে উঠে পেয়ারা পাড়ছে।আমি এখানে কি করছি!ওপাশে পাপিয়া কি যেন লুকাচ্ছে শাড়ির আড়ালে!আমার ঘরে ঢুকতেই দেখলাম,আমার প্রিয় আলমারিটা খুলে ওরা কি কি যেন বের করছে।কেয়া বেশ সন্তর্পনে আমার গহনার বাক্সটি লুকিয়ে ফেললো। একি!এরা সব কি করছে! মৃত ব্যক্তিকে এখনও কবরে দেওয়া হয়নি।এরই মধ্যে তার সব জিনিস লুটপাট!
গত সেপ্টেম্বরে এইতো চল্লিশে পড়ল বয়স। কিবা বয়স, এরই মধ্যে মৃত্যু। মৃত্যুকে আমি বারবার ভয় পেয়েছি।কি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।মরার পর আর কোন ভয় নেই।কেমন যেন একটা শীতল ভাব।আমার লাশ বের করছে, দুইভাই আর ভাইদের ছেলেরা ধরেছে।আমিও চলেছি ওদের পিছু পিছু।আমার বড়ভাবী আমার চাচাতো ভাবীকে বলছে, এইতো আর কয়দিন, কিছুদিন পরই মেয়ে দেখে বিয়ে করবে।পুরুষ মানুষ একা থাকতে পারেনা।আমি থমকে দাড়ালাম।আবার লাশের পিছু পিছু হাঁটতে লাগলাম।
কেউ শব্দ করে আমার জন্য কাঁদছে না।ওতো একবারও কাঁদলো না।মরে গিয়েও কি ওর করুণা পেলাম না।এতোগুলো বছর একসাথে ঘর করলাম, ওর তাতেও কি এতটুকু মায়া হয়নি আমার জন্য।আমি না হয় সুন্দরী না।অন্য বউদের মতো সুণিপুন গৃহিণী না।একটা কুকুর পুশলেওতো  মানুষের তার জন্য মায়া হয়।আমি কি কুকুরের চেয়েও অবহেলিত,নিকৃষ্ট?!আমার দেবর,ননদ এসেছে।ভাইয়ের সাথে চাপা গলায় কি সব বলছে।ওদের চোখ দিয়ে একফোটাও জলও পড়েনি।আমার শশুড় শাশুড়ী যখন মারা যান, তখন দেখেছি – আমার স্বামী আর তার ভাইবোনের সেকি কান্না।
সবার সাথে হেঁটে চলেছি – আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই।দুঃখ বেদনা নেই।রোগ শোক নেই।শুধুই দেখে যাওয়া।কেমন একটা নিরবতা বিরাজ করছে।মাঝে মাঝে এরই মাঝে দু একটা কথা হচ্ছে।আমাকে কবরে শোয়ানো মাটি চাপা দেওয়া পর্যন্ত ওদের মুখে তেমন কথা ছিলনা।আমার দেহটা মাটি চাপা দেবার পরই ওদের কথা আরম্ভ হল।
গত রোজার ঈদে শখ করে বেশ কিছু শাড়ি কিনেছিলাম।জামদানি, কাতান,সুতি। আমার ননদ আমার স্বামীকে বলছে, ভাইয়া ভাবীর গত ঈদের যে শাড়িগুলো কিনেছিল, সেগুলো আমাকে দেবে।ভাবীর শাড়ীগুলো আমি পড়বো।মনে হবে ভাবী আমার সাথে আছে।এই ননদটি আমায় ভীষণ জালিয়েছে।ওর তখন বিয়ে হয়নি।আমি নতুন বিয়ে হয়ে যাবার পর থেকেই ও আমার পেছনে লেগেছে।যাক, আমার শাড়িগুলো নিয়ে নিক।আমার আর ওসবের দরকার নেই।আমার মরা মুখটা একমাত্র মেয়ে দেখতে পেলনা এটাই কষ্ট।আমার স্বামী সাহেদ কিছুতেই ঘরে রাখতে দিলনা আমার লাশ।ওর এক কথা মেয়ে অত দূর দেশে থাকে, আসতে সময় লাগবে।এতো সময় লাশ ফেলে রাখা ঠিক না।আর আমার মেয়ে মেয়ের জামাইয়ের কি একটা ভিশা সমস্যা হচ্ছে।যাক মরা মুখ দেখেই বা কি হবে।
আমার মেয়েটি ভীষণ ইমোশনাল। আমার মৃত্যুর খবর পেয়ে না জানি কি অবস্থা হল।জামাইটি আবার বেশ শক্ত সামর্থ, সহজে ভাঙ্গবার পাত্র নয়।বিয়ের আগে কথা শুনে বুঝেছি, এই ছেলেই আমার মেয়েকে সামলে রাখতে পারবে।একমাত্র মেয়ে – এই মেয়েকে নিয়েই আমাদের যত সুখ দুঃখ।
চারিদিকে অন্ধকার সবাই চলে গেছে।আমি একা এখানে।অনেকগুলো কবর পুরানো, অবার অনেক কবর নতুন, আবার কোনটা মনে হচ্ছে আজই কবর দেওয়া হয়েছে।
একটা কবর থেকে একটি মেয়ে বের হয়ে এলো!
মেয়েটি বললো, আজই আপনার কবর হলো?
আমি বললাম, হ্যাঁ। আপনার?
মেয়েটি বললো,আমার তিন মাস হয়েছে।
আমি বললাম, আপনার বয়সতো অনেক কম!এতো তাড়াতাড়ি মরে গেলেন কিভাবে? (গল্প চলমান)
আগামী শনিবার পড়বেন এই গল্পের ২য পর্ব

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

প্রিজাইডিং অফিসারকে বিবস্ত্র করেও  বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে অপরাধীরা…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com