নড়াইলের মহিলা কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে: অধ্যক্ষের দু’কোটি টাকার অর্থ বাণীজ্য বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

শনিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২:২২ অপরাহ্ণ |

নড়াইলের মহিলা কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে: অধ্যক্ষের দু’কোটি টাকার অর্থ বাণীজ্য বিচারের দাবীতে মানববন্ধন
নড়াইলের লক্ষীপাশা মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতার কারনে তার অপসারণসহ বিচারের দাবীতে সকাল ১১টায় উপজেলা কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নড়াইলের লক্ষীপাশা মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতার কারনে তার অপসারণসহ বিচারের দাবীতে সকাল ১১টায় উপজেলা কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার সভাপতি খোদ নড়াইল জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনজুমান আরা মহোদয়। এ সময় এতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সরদার আব্দুল হাই,দপ্তর সম্পাদক শরীফুল ইসলাম সরু, পৌর কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া,সৈয়দ শাহজাহান সিরাজ বিদ্যুত, অভিভাবক মো:বাবন শেখ, বিএম লিয়াকত হোসেন, গাজী লিয়াকাত হাসান,সোলায়মান মোল্যা পান্নু, ইউসুফ মোল্যা ও এসএম সাহেদ মাহমুদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য গত রাতে অধ্যক্ষের অপসারণ ও দুর্নীতির খন্ড চিত্রের ফিরিস্তি তুলে ধরে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এলাকাবাসীর ব্যানারে ব্যাপক পোষ্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। খোজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলাম পূর্বে সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন যশোর জেলার তালবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজে। সেখানে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতার কারনে চাকুরীচ্যুত হয়। পরে তৎকালিন জোট সরকারের আমলে অর্থের জোরে নিয়োগ বিধি লংঘন করে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পান লক্ষীপাশা অদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজে। যোগদানের পর ২০১২ সালে ডিগ্রি অর্জনের অজুহাতে প্রায় দু’বছর কলেজে অনুপস্থিত থেকে বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। বাড়িতে বসে ডিগ্রি অর্জন করলেও কলেজের বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দু’কোটি টাকার বাণীজ্য করেন তিনি। সমপ্রতি একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি ফি ১ হাজার টাকার স্থলে ২হাজার ৫’শ, এইচ এসসি ও বিএ ফর্ম পূরণে প্রায় দশলক্ষ টাকা অতিরিক্ত আদায়। ২০১৭,১৮,১৯ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫০হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন।


এ ছাড়াও কলেজ তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা এবং সরকারী তহবিল হইতে ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাতসহ চিত্র-বিচিত্র অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয় পোষ্টার ও লিফলেটে অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি ঢাকাতে রয়েছেন, শুনেছেন তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসি মানববন্ধন,পোষ্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি। এ ব্যাপারে যার সভাপতি খোদ নড়াইল জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনজুমান আরা মহোদয় বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও পোষ্টার-লিফলেট বিতরণের বিষয়টি শুনেছেন,তবে লিখিত অভিযোগ পায়নী। তিনি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।

এছাড়াও নড়াইলের বিভিন্ন মাদরাসা থেকে ছেলে-মেয়েদের এতিম সাজিয়ে উপস্থাপনসাংবাদিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এবার সন্ধান পেলো এতিমখানা ভুয়া এতিম: যার সভাপতি খোদ ডিসি মহোদয়: ছাগলের খামারের দেখাশুনা করে এতিম বালিকারা: ভুয়া এতিম সাজিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের জমজমাট ব্যবসা চলছে নড়াইলে। এভাবে বছরের পর বছর এতিমের নামে সরকারি টাকা লুটে খাওয়া হচ্ছে জেলার অনেক এতিমখানায়। নড়াইলের অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাংবাদিকর জাতির বিবেকরা এবার এমন এতিমখানার সন্ধান পেয়েছে যার সভাপতি খোদ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় আনজুমান আরা। এভাবে বছরের পর বছর ধরে লুটপাট চললেও খোজ রাখেন না তিনি সরকারি জেলা প্রশাসক জানেনই না তিনি আবার ওই এতিমখানার সভাপতি। জেলা প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর এতিমের টাকা লুট পাট হলেও সরকারি এতো বড় বরাদ্দ আত্মসাতের দেখার কেউ নেই। সব কিছুকেই অনিয়মে পরিণত করা হয়েছে।

যা আজ নড়াইল সদরের চন্ডিবরপুর ইউনিয়নে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানা ও লিলাহ বোর্ডিং’। ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে এতিম খানাটি সমাজ সেবা অধিদফতরের মাধ্যমে সরকারি অনুদান পায়। ১৯৮৫ সালে বেসরকারি সংস্থা কারিতাসের সহায়তাপ্রাপ্ত এই এতিমখানায় জেলা পরিষদ থেকেও অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। কয়েক দফা সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে বেশিরভাগ সময়ে এতিমখানাটি বন্ধ থাকে। দুটা বড় টিনশেড ভবন থাকলেও এতিমদের থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১১৪ জন এতিমের নামে প্রতিষ্ঠানটি মাসে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা হিসেবে বছরে মোট ১৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ পায়। কিন্তু সরেজমিনে সেখানে প্রকৃত এতিমের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্টানটিতে ৪/৫ জন থাকলেও তারা নিজেদের টাকায় থাকে, খায়। স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, এখানে (লিলাহ বোর্ডিং) রোজার সময় পাশের মাদরাসার কিছু ছাত্র থাকে, নামাজ পড়ে। তারা নিজেদের টাকায় খায়, আবার বাড়ি চলে যায়।

এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোদ জেলা প্রশাসক। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পরিচালনা কমিটির সদস্যরা এতিমখানা সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের দাওয়াত করে মেজবানি দেন। সে সময় বিভিন্ন মাদরাসা থেকে ছেলে-মেয়েদের এতিম সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়। জুন মাসে স্থানীয় সাংবাদিকরা এতিমখানা পরিদর্শন করার পর ৫ আগস্ট যথারীতি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দাওয়াত করে ভোজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউপির চেয়ারম্যানের নিজের নামে গড়া জেলার সবচেয়ে বড় বালিকা এতিমখানা ‘আজিজুর রহমান ভুঁইয়া বালিকা সমাজসেবা এতিমখানা’ বাড়ির পাশেই অবস্থিত। এই এতিমখানার সুপার রকিবুলের চাচা কাজী আব্দুল কাদের। ১২৭ জন বালিকা এতিমের জন্য এখানকার বার্ষিক বরাদ্দ ১৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এই এতিমখানার অবস্থাও প্রায় একই রকম। সরেজমিন গিয়ে ১৪ জন শিশুকে দেখা গেলেও তাদের সবার মুখে চছিল কর্তৃপক্ষের শেখানো মুখস্ত বুলি। তাদের সঙ্গে নানাভাবে কথা বলে জানা গেছে, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মেয়েরা এখানে থাকে আর মাদরাসায় পড়ে। বড়জোর ৪০ জন এতিমের তথ্য দিতে পারে কোমলমতি এসব শিশু। নামে ৪০ জন এতিম বালিকা থাকলেও তার মধ্যে মাত্র ২ জন প্রকৃত এতিমের সন্ধান পাওয়া গেছে।

চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভুইয়া নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত বালিকা এতিমখানার সভাপতি এবং সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানা ও লিল­াহ বোর্ডিয়ের সহ-সভাপতি। ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে ওই দুই এতিমখানার সুপারসহ অন্যরা বছরের পর বছর ধরে এতিমের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বালিকা এতিমখানার ব্যাপারে স্থানীয়দের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। এতিমখানার টাকায় গড়ে ওঠা ছাগলের খামারের দেখাশুনা করে এতিম বালিকারা। সুপার কাজী আব্দুল কাদের এবং তার স্বজনদের বাড়িতে এতিমদের কাজ করানো হয়। শুধু কাদেরের নিজের কাজেই ব্যবহার করা হয় ৫ এতিম শিশুকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো কয়েকজন স্বীকার করেন এসব কথা। তারা বলেন, সুপারের বাড়িতে মেহমান আসলে এতিমদের নিয়ে আপ্যায়ন করানো হয়। পাট বাছানো, জমির ফসল উঠলে গৃহস্থালীর কাজ করানো হয় এসব শিশুকে দিয়ে।

নড়াইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ৩ উপজেলায় মোট এতিমখানার সংখ্যা ৪৩টি। ছোট-বড় এসব এতিমখানায় মোট ১ হাজার ২৬৪ জন এতিমের জন্য মাসে মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বাৎসরিক বরাদ্দ দেড় কোটি টাকা। ক্যাপিটেশন গ্রান্ড পাবার শর্ত অনুযায়ী প্রত্যেকটি এতিমখানা নিজস্ব অর্থে যতজন এতিম পালন করে তার দ্বিগুণ এতিম থাকলেই কেবল অর্ধেকের জন্য অনুদান পায়। অনুদান প্রাপ্ত অধিকাংশ এতিমখানায় বছরের পর বছর এতিমদের নামে টাকা তুলে মালিক সেজে সুপার নিজের পকেট ভরছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক স্থানীয় কয়েকজন আলেম বলেন, যারা এতিমদের টাকা তুলে খাচ্ছেন তারা চরম গুনাহের কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। সকল ভুয়া এতিখানা বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন এই আলেমরা। সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানার সুপার কাজী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভাই যেসব অনিয়ম আছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সব ঠিক করা হবে। আপনি এরপর আসলে সব ঠিকঠাক দেখতে পাবেন। আর

ভুইয়া আজিজুর রহমান বালিকা এতিমখানার সুপার কাজী আব্দুল কাদের বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমাদের এতিমখানা চলছে। তবে শিশুদের বাড়িতে কাজ করানোর বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। অপরদিকে চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভুইয়ার সঙ্গে এতিমখানা প্রসঙ্গ কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে এড়িয়ে যান। পরে কিছু অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, এগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে। আর এতিম না থাকা প্রসঙ্গে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, দুইভাই একসঙ্গে বসলে সব ঠিক করা যাবে। নড়াইলের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মহোদয় আনজুমান আরা’র কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দুটো এতিমখানা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না উলে­খ করে বলেন, আগের কথা বলতে পারব না। তবে আমি এখানে আসার পর নির্দেশনা দিয়েছি ক্যাপিটেশন গ্রান্ড পেতে গেলে প্রকৃতপক্ষে যে কয়জন এতিম আছে তাদের হিসাব করেই দিতে হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments



ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com