ক্রস-ফায়ারের ভয় দেখিয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে বিয়ে করল এসআই

সোমবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪:৪৫ অপরাহ্ণ |

ক্রস-ফায়ারের ভয় দেখিয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে বিয়ে করল  এসআই
প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ডেস্ক রিপোর্ট

এস,আই ফরিদ ক্ষমতার অপব্যবহার, নিরীহ মাসুষকে হয়রানি মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের সঙ্গে সক্ষতা গড়ে তোলা
ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগে গতকাল উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে তাদেরবে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

 


জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টহলরত অবস্থায় থানার শরুলিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে মাদক বিক্রেতা জনৈক মন্টু ও প্রকাশ ঘোষকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ আটক করে।

 

এরপর গভীর রাতে দেন-দরবার শেষে টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি পুলিশের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কর্ণগোচর হলে গতকাল দুপুরে বিতর্কিত পুলিশের কর্মকর্তা হলেন এস,আই ফরিদ এ,এস,আই সুজিত ও গাড়ি চালক
বিল্লালকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

 

এ ছাড়া দীর্ঘ দিন যাবৎ এস,আই ফরিদ  বিরুদ্ধে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের সাথে সম্পক  গড়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

পাটকেলঘাটার থানার অফিসার্স ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান গত ১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টহলরত অবস্থায় থানার শরুলিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে মাদক বিক্রেতা জনৈক মন্টু ও প্রকাশকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ আটক করে।

 

এরপর গভীর রাতে দেন-দরবার শেষে টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি পুলিশের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কর্ণগোচর হলে গতকাল দুপুরে বিতর্কিত পুলিশের কর্মকর্তা হলেন এস,আই ফরিদ এ,এস,আই সুজিত ও গাড়ি চালক  বিল্লালকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

অপরদিকে গণধর্ষণের বিচার না করে স্বামীকে তা’লাক দিয়ে ধ’র্ষকের সঙ্গে গৃহবধুর বিয়ে দিলো পুলিশ এক গৃহবধু কে
দলবেঁধে ধর্ষণের পর অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছে। মামলা না নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম’ধ্যস্থতায়
থানায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পুলিশ। পাবনা সদর থানায় গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

গৃহবধুর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার দাপুনিয়া ই’উনিয়নের সাহাপুর যশোদল গ্রামে ওই নারী স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।

 

২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে ওই নারীকে
অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে গৃহবধধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা।

গৃহবধূ কৌশলে পালিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে ৫ সেপ্টেম্বর পাবনা জে’নারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে গৃহবধ‚ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে রাসেলকে আ’টক করে পুলিশ।

তবে বিষয়টি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত না করে স্থানীয় একটি চক্রের মধ্যস্থতায় স্বামীকে তা’লাক দিয়ে ধ’র্ষক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ঘটনার নি’ষ্পত্তির চেষ্টা করে পুলিশ। গৃহবধুর বাবা জানান, আমার মেয়ে অ’পহৃত হওয়ার কয়েকদিন পর তাকে খুঁজে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনে থানায় অভিযোগ দেই।

 

পুলিশ আমাদের অভিযোগটি মা’মলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে মেয়েকে থানা হেফাজতে রেখে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে জানতে পারি থানায় রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বামী সন্তান থাকা অবস্থায় রাসেলের সঙ্গে তাকে কীভাবে বিয়ে দেয়া সম্ভব তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ ঘটনায় আমরা সামাজিকভাবে অ’পদস্থ হয়েছি। আমরা ধ’র্ষণের বিচার চাই।

 

দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দৌলত আলী বলেন, ধ’র্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আ’টক করে নিয়ে যান সদর থানার
এসআই একরামুল হক।

পরে শুনি থা’নায় তাদের বিয়ে হয়েছে। এ বিয়ে কোনোভাবেই শরিয়তসম্মত নয়। এলাকাবাসী জানান, স্বামী ও
তিন সন্তান থাকা অবস্থায় কি করে একই সময়ে তালাক ও বিয়ে দিল পুলিশ। পাঁচজন ধ’র্ষণের অভিযোগে অ’ভিযুক্ত হলেও একজনেরসঙ্গে কীভাবে বিয়ে হলো?

ধর্ষণের ঘটনা ত’দন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই আমরা। এ বিষয়ে নির্যাতিত গৃহবধ‚ বলেন, রাসেলকে
আটক করে আনার পর ওসি নিজেই থানায় কাজি ডেকে এনে আমাদের বিয়ে দিয়েছেন।

 

অভিযুক্ত রাসেল আহমেদ বলেন, আমি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নই, আমাকে পুলিশ মিথ্যা অভিযোগে আটক করে মামলা ও রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে জোরপ‚র্বক বিয়ে দিয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। থানায় আমাদের বিয়ের সময় এসআই একরাম আমাদের ছবিও তুলে রেখেছেন।

 

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি বলেন, ধ’র্ষণের বিচার না করে, ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া সামাজিক মীমাংসার নামে প্রহসন। থানায় এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি উভয়ের সম্মতিতেও এ বিয়ে হয়, তবুও তা ধ’র্ষককে উৎসাহিত করার সামিল।

 

যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তম‚লক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তবে বিষয়টি অস্বীকার
করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক বলেন, গৃহবধ‚ প্রথমে ধ’র্ষণের অভিযোগ দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।

 

ওই দিন রাতে তাদের বিয়ের কথা শুনেছি। থানায় কোনো বিয়ের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ এর সঙ্গে জড়িত থাকার
প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, থানায় বিয়ের বি’ষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ত’দন্ত
সাপেক্ষে এ বি’ষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

দিকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে জোর করে বিয়ে করলো পুলিশের এসআই রূপগঞ্জ উপজেলার
বাগবেড় সিডি মার্কেট এলাকার কদম ভইয়ার কিশোরী কন্যা ও স্থানীয় কর্ডোভা প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বন্যা আক্তারকে (১৩) নিয়ে কক্সবাজার রয়েছেন একই গ্রামে আব্দুল মালেক ওরফে সাদ্দামের ছেলে তুরাগ থানার এসআই মাহামুদুল হাসান সবুজ (৩৬)।

 

গত ১৯ জুলাই ভ’য়ভীতি দেখিয়ে সবুজ ওই কিশোরীকে বিয়ে করে। এমন সংবাদ পেয়ে বিয়ের ৩দিন আগে
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাল্যবিয়ে বন্ধ ও কন্যার পরিবারকে ভয়ভীতি না দেখানোর জন্য এসআই মাহামুদুল হাসান সবুজকে বলা হয়।

ওই নিষেধ অমান্য করে বিয়ে করে কিশোরীকে নিয়ে কক্সবাজার চলে যান সে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক  আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগবেড় সিডি মার্কেট এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও বাগবেড় সিডি মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান সবুজ একই গ্রামের কদম ভুঁইয়ার কিশোরী কন্যা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বন্যা আক্তারকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।

 

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বন্যা আক্তারের পরিবারের লোকজনকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে অবশেষে সবুজের কাছে বিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়। বন্যার একাধিক বান্ধবী জানান, সরকার বাল্য বিয়ে বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় প্রতিরোধ করা হলেও পুলিশের এসআই মাহামুদুল হাসান সবুজ নিজেই বাল্য বিয়ে করেছেন।

 

তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কে?

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বাল্য বিয়ের ব্যাপারে সরকার কঠোর।

তবে ওই বিয়ে বন্ধের জন্য তুরাগ থানার এসআই মাহামুদুল হাসান সবুজকে নিষেধ করা হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কিশোরী বন্যা আক্তারের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গোপনে বিয়েকরে বেশি অন্যায় করেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments



ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com