অর্থ সংকটে রাসিক

বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলনে দিশেহারা মেয়র

বুধবার, ১৩ জুন ২০১৮ | ৭:৫০ অপরাহ্ণ |

বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলনে দিশেহারা মেয়র
ফাইল ছবি

রাজশাহী প্রতিনিধি: তীব্র আর্থিক সংকটে নাজেহাল হয়ে পড়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। বেতন-ভাতা বকেয়া পড়েছে, ঠিকাদারদের বিলও পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যেই ঈদের আগে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কোমর বেঁধে আন্দোলন শুরু করেছেন কর্মচারীরা। ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে এসে এমন সংকটে দিশেহারে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
এদিকে সম্প্রতি রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্যের ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রাসিকের কাছে এই অর্থ হস্তান্তরও করা হয়ে গেছে।
রাসিকের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সিটি করপোরেশনে আর্থিক সংকট চলছে। পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ যে, গেলো ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির সপ্তদশ সাধারণ সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ওই সভায় স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্তদের বেতন-ভাতা সরকারের রাজস্ব খাত থেকে পরিশোধের অনুরোধ জানানোর সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এতোকিছুর পরেও সংকট পিছু ছাড়েনি।
গত বছর ৪০ লাখ টাকা বকেয়া পরিশোধের দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন থামাতে মেয়র বুলবুল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুতই এর সুরাহা করার। কিন্তু বছর ঘুরলেও বকেয়ার আবর্ত থেকে বেরুতে পারেনি সিটি করপোরেশন। এবারও প্রায় তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়লে গেলো মাসে আন্দোলনে নামে কর্মচারী ইউনিয়ন। এরপর ঈদের আগে এসে সেই কর্মসূচি আরো জোরেসোরে শুরু হয়েছে।
আন্দোলনের মুখে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধের সময় নিয়েছেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে সংসদ সদস্যের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ছাড় হওয়া অর্থ সাময়িকভাবে বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় করা যায় কি না তা নিয়ে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের কেউ কেউ মেয়রকে প্রকল্পের টাকা থেকে বেতন ভাতা পরিশোধ করে আপাতত সংকট নিরসনের পরামর্শও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সিটি করপোরেশনকে ৭ কোটি টাকা দিয়ে মন্ত্রণালয়ের লেখা চিঠি থেকে জানা গেছে, সংসদ সদস্যের প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে একুশের প্রথম শহীদ মিনারের স্থায়ী রূপ দেয়া, বধ্যভূমি সংস্কার, হযরত শাহমখদুমের (রহ.) দরগার উন্নয়ন কাজ, সাহেববাজার বড় মসজিদ ও ভেড়িপাড়া মসজিদ নির্মাণকাজ সম্পন্নকরণ, জেলা পরিষদ মিলনায়তনের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নকরণ এবং হরিজনপল্লি ও বস্তি উন্নয়ন। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জরুরি এসব উন্নয়ন কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এসব প্রকল্পের অর্থ অন্যখাতে ব্যয় করলে উন্নয়ন কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় তৈরি হবে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রকল্প আমি ছাড় করিয়ে এনেছি। এর প্রত্যেকটি কাজ জনগণ বুঝে নেবে। আর কেউ যদি এসব প্রকল্পের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করে, তাহলে সেটা সমিচীন হবে না। এসব প্রকল্পের একটি টাকাও অন্যখাতে খরচ করা হলে সে জন্য সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে বারবার চেষ্টা করা হলেও মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তার ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

webnewsdesign.com
জিংক ধান বিস্তারে কৃষি অফিসারদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com