বরেন্দ্র অঞ্চলে ফের বাড়ছে গোখরার উৎপাত

রবিবার, ০৮ জুলাই ২০১৮ | ৭:০৭ অপরাহ্ণ |

বরেন্দ্র অঞ্চলে ফের বাড়ছে গোখরার উৎপাত
বরেন্দ্র অঞ্চলে ফের বাড়ছে গোখরার উৎপাত

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বাসা-বাড়িতে আবারো বিষধর সাপ গোখরার উৎপাত দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই বরেন্দ্র অঞ্চলের অনেক মাটির বাড়িতে দেখা মিলছে মাসহ গোখরার বাচ্চা। এক সপ্তাহে এ অঞ্চলে দুই কৃষকের বাড়ি মাটি খুঁড়ে মারা হয়েছে মা সাপসহ ৫৫ গোখরার বাচ্চা। এ দুই ঘটনায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে আবারো গোখরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বছর বর্ষা মৌসুমে রাজশাহী নগরী, তানোর, চারঘাট ও মান্দা উপজেলারসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তের বাসা-বাড়িতে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গিয়েছিল কয়েকশ গোখরার বাচ্চা। মাটির পুরনো বাড়িতে ইঁদুরের গর্তে আশ্রয় নিয়েছিল সাপগুলো। আতঙ্কিত গৃহকর্তারা সবগুলোই পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল।
গত বছর গোখরা সাপ মারার ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন তুলেছিল। সাপের ভয়ে রাজশাহীর অনেক জায়গায় গত বছর ধান কাটতে মাঠে নামার সাহস পাননি শ্রমিকেরা। তাদের ভয় ভাঙাতে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিছু গামবুট বিতরণ করে। সচেতনতা সৃষ্টিতে জনসংলাপেরও আয়োজন করা করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিজমি সম্প্রসারণের কারণে সাপের নিরাপদ আবাস নষ্ট হচ্ছে। সেচের কারণে মাটি ভেজা এবং প্রচুর বৃক্ষরোপণের কারণে পরিবেশ ছায়াসুশীতল থাকছে। ভূ-প্রকৃতির এই পরিবর্তনের কারণে সাপ খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য আবাসিক এলাকায় চলে আসছে। এরা কাঁচা ঘরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। বাড়ির ইঁদুরের গর্তে ডিম ফোটাচ্ছে।
আবারো বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে তানোর ও আমনুরা এলাকার দুই কৃষকের বাড়ি থেকে মা সাপ সহ ৫৫টি গোখরার বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। সবগুলোই মেরে ফেলা হয়েছে।
তানোর পৌর এলাকার গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক ইয়ার উদ্দীনের বাড়িতে শুক্রবার দিবাগত রাতে গোখরা মা সাপ ও তার ৩০টি বাচ্চা মারা হয়েছে। ঘরের মেঝের একপাশে ওই সাপ বাসা বেঁধে ছিল। মাটি খুঁড়ে সাপগুলি বের করা হয়।
কৃষক ইয়ার উদ্দীন জানান, নিজ ঘরের মেঝের একপাশে গোখরা সাপ দেখতে পান। সাপ ঘরের মধ্যে একটি গর্তে লুকিয়ে যায়। এরপর পরিবারের লোকজন মাটি খুঁড়তে শুরু করেন। এ সময় গর্ত থেকে একে একে বেরিয়ে আসে সাপসহ ৩০টি বাচ্চা। পরে সবগুলোকেই পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আমনুরা ঝিলিম বাজারের কলেজ পাড়াই কৃষক সাইফুলের বাড়ির সোয়ার ঘরের মেঝে খুঁড়ে এক সপ্তাহ আগে ২৫টি গোখরা উদ্ধার এলাকাবাসী। পরে সবগুলোকেই মেরে মাটির নিচে পুতে দেয়া হয়।
এদিকে সাপের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে কার্বলিক এসিড তেমন গুরুত্ব বহন করে না বলে জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দান। তিনি জানান, সাপের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে, নিজেদের বাসস্থলের আশেপাশে যতোটা সম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে। বাড়ির আশেপাশে যদি কোন গর্ত থাকে তাহলে তা ভরাট করতে হবে। এ কাজের মাধ্যমেই যতোটা সম্ভব সাপের উৎপাত থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।
তিনি বলেন, সাপের প্রজননকাল এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। এর মধ্যে তারা ডিম পাড়ে। একটি সাপ ৩০ থেকে ৩৫টি ডিম পাড়তে পারে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফোটায়। সাপের বাচ্চা ফোটাতে ডিমের উপর মা সাপ বেঁড়ি পাকিয়ে বসে থাকে। অনেক সময় মা সাপ ডিম পেড়ে চলে গেলেও মাটির মধ্যে একটু উষ্ণতা পেলে এমনিতেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
বাচ্চা ফোটার পরে সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত মা সাপ তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে থাকে। এরপরে তারা চলে যায়। বর্ষাকালে সাপের দেখা বেশি মেলে। তাই বিশেষ করে বাড়ি পানি বের করার যে নালা থাকে সেটিকে বর্ষার সময় নেট জাল দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে। সাপ নালা দিয়ে মাঠ-ঘাট দিয়ে উঠে আসে। বিশেষ করে মাটির ঘরে ইঁদুরের গর্ত সাপের পছন্দের আবাসস্থল। তাই ঘরের ভেতরে থাকা আলমারি, খাটসহ আসবাবপত্র ভালভাবে দেখতে হবে। যাতে সেগুলোর ভেতরে ইঁদুরের গর্ত না থাকে। যদি থাকে সেগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ করে ফেলতে হবে। যাদের বাড়িতে মাটির বা পাকা ড্রেন আছে সেসব জায়গায় সাপ থাকার শঙ্কা আরো বেড়ে যায়। এছাড়া সাপের উৎপাত থেকে বাঁচতে বাড়ির কোন জায়গায় যদি খড়ি বা খড় স্তুপ করে রাখা হয় তাহলে সেগুলোও সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন তিনি।

রিজভী/রাজশাহী

webnewsdesign.com

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com