বিরোধ লাঘবে রাজশাহীর আ.লীগ নেতাদের কেন্দ্রে তলব

বৃহস্পতিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫:৩৭ অপরাহ্ণ |

বিরোধ লাঘবে রাজশাহীর আ.লীগ নেতাদের কেন্দ্রে তলব
ফাইল ছবি

রাজশাহী প্রতিনিধি: কাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করছে। মহানগর আওয়ামী লীগে তেমন দ্বন্দ্ব না থাকলেও জেলায় নেতাদের মধ্যে দুইটি বলয় তৈরি হয়েছে। একটি বর্তমান সংসদ সদস্যদের এবং অপরটি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। দলীয় কর্মসূচিতে দুই গ্রুপের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে দলের ভাবমূর্তিই ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই রাজশাহীর নেতাদের তলব করেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। নেতাদের অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া শুনবেন। পরদিন শুক্রবার এই সভার ফলাফল জানানো হবে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে। সেদিন সকালে শেখ হাসিনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে সভা করবেন। আসছে নির্বাচনের আগেই নেতাদের অর্ন্তদ্বন্দ্ব মেটাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। ওমর ফারুক চৌধুরী রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাত নেতা আসছে নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চান। এদের সঙ্গেও ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরোধ। আবার আসাদের সঙ্গে ওমর ফারুক চৌধুরীর মতবিরোধ থাকায় মনোনয়নপ্রত্যাশী ওই সাত নেতা আসাদের অনুগত।
এভাবে রাজশাহী-৫ ও ৬ আসনেও বর্তমান সংসদ সদস্য ও আসাদুজ্জামান আসাদের দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। রাজশাহী-৪ আসনেও একই অবস্থা। তবে এই আসনটির সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সঙ্গে আসাদের ভালো সম্পর্ক। আসাদ নিজে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন থেকে নির্বাচন করতে দলের মনোনয়ন চান। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে তার তুমুল বিরোধ। আবার ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে আয়েনের সম্পর্ক ভালো।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। শরীক দলের সংসদ সদস্য থাকায় এখানে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই। বিরোধ নেই ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাদের সাথেও। তবে দুয়েকজন এই আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। অবশ্য সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-ওয়ার্কার্স পার্টি একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। মেয়র পদে বিজয় নিশ্চিত হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের। এই নির্বাচনে আসাদুজ্জামান আসাদও বড় ভূমিকা রাখেন।
রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হকের সঙ্গে বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদের বিরোধ। সান্টু ও কালাম এমপি এনামুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজেদের নাম দিয়েছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সান্টু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান। কিন্তু সান্টু-কালামসহ তাদের অনুসারিরা এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে যাচ্ছেন।
রাজশাহী-৫ আসনেও বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী সাত নেতা। সম্প্রতি জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তারা ওয়াদুদ দারাকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান আসাদ সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারাকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, আপনাদের বলে দিতে চাই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বিক্রি করে কেউ যদি টাকার মালিক হন, আর যাই হোক তাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন দেবেন না। মাঠে-ময়দানে বক্তৃতা করার দরকার আছে বলে মনে করি না, শেখ হাসিনা এই অপদার্থদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। আপনারা যেভাবে রায় দেবেন, আপনারদের মনের কথা নিয়েই শেখ হাসিনা প্রার্থী দেবেন।
রাজশাহী-৬ আসনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে লড়তে চান বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি ছাড়াও এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রায়হানুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলীসহ কয়েকজন। তারা আসাদুজ্জামান আসাদের অনুসারি হিসেবে পরিচিত। নেতাদের অন্তর্কলহ ও পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এ আসনেও ক্ষয় করছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি।
দলীয় নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় বিভিন্ন আসনের নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিরক্ত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। হাইকমান্ড মনে করে, এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে এসব নেতার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলাটাও প্রয়োজন মনে করেছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল। আর এ জন্য কোন্দলে জর্জরিত রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মান-অভিমান ভাঙানো ও নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করার ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে তাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করার জন্য জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে ডাকা হয়েছে। সংগঠনের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান নেত্রীকে দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনের আগে এটা রুটিন ওয়ার্ক। ইতোমধ্যেই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সবাইকে ঢাকার মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার জন্য বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেছেন, কেন্দ্র থেকে জেলা ও মহানগরের কার্যকরী কমিটিকে ঢাকায় যেতে বলা হয়েছে। দুই কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের নেতারাও সভায় উপস্থিত থাকবেন। আসছে নির্বাচন উপলক্ষেই বৃহস্পতিবার এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভার ফলাফল পরদিন শুক্রবার দলের সভানেত্রীকে জানাতে হবে। সেদিন তিনি শুধু বিভিন্ন জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে বৈঠক করবেন।


আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

বালিয়াডাঙ্গীতে কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে ২ বখাটের কারাদণ্ড…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com