যে কারণে বনানীতে এসেছিল শিশু নাইম

শনিবার, ৩০ মার্চ ২০১৯ | ১:৩৭ অপরাহ্ণ |

যে কারণে বনানীতে এসেছিল শিশু নাইম
ফাইল ছবি

বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হওয়া ফায়ার সার্ভিসের পাইপ ধরে রাখা সেই শিশুর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম মো. নাইম ইসলাম। সেই সঙ্গে কী কারণে ঘটনাস্থলে এসেছিলে সেটিও জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমকে জানায়, মানুষগুলোর জীবন বাঁচাতে আমার মতো করে সাহায্য করছিলাম। সবাই সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করছিল যেন মানুষগুলো বাঁচতে পারে। তাই আমিও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসি।

webnewsdesign.com

শুক্রবার দুপুরে বনানীর সেই এফ আর টাওয়ারের সামনে আবার এসেছিল শিশু নাইম। এ সময়ে তার সঙ্গে কথা হয়, জানা যায় অনেক কিছু। সে কড়াইল বস্তিতে বাবা-মা ও এক বোনের সঙ্গে থাকে। স্থানীয় আরবান স্লাম আনন্দ স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। আগুনের খবর শুনে ছুটে আসেন বনানীতে

অনর্থক উৎসাহী জনসাধারণের ভিড়ের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে হাতেগোনা কিছু মানুষ হাত মিলিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে। তারা সার্বক্ষণিক রাস্তা খালি করে পানির গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতে সহায়তা করে গেছেন।

উৎসুক জনতার এত কাণ্ডজ্ঞানহীনতার মধ্যেই একটি ছবি নজর কেড়েছে সকলের। এক শিশু ফায়ার সার্ভিসের ফাটা পাইপ দিয়ে বের হয়ে যাওয়া পানি আটকে রাখার চেষ্টা করছিল। তার চোখেমুখে চরম উদ্বিগ্নতার ছাপ স্পষ্ট। দুইদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই ছবিটি।

নাইম জানায়, তার বাবা রুহুল আমিন বনানীতে ডাব বিক্রি করেন। মা বাসা বাড়িতে কাজ করেন। বাবার বনানীতে ব্যবসা, সেই তাড়নাতেই আগুনের খবর শুনে বনানীতে ছুটে আসে সে। আসার পর ভিড় ঠেলে আগুন লাগা এফ আর টাওয়ারের সামনে চলে আসে। এসে নিজ তাড়নাতেই রাস্তার পাশে পলিথিন নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাইপ ধরে অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা করে।

এরপর যখন ভবনের গ্লাস ভেঙে পড়ে তখন অন্যরা নাইমকে দূরে সরিয়ে নেয়। গ্লাস ভাঙা একটু কমতেই নাইম দেখে একটি পানির পাইপ কেটে তা থেকে পানি বের হয়ে যাচ্ছে। তখন পাশ থেকেই একটি পলিথিন কুড়িয়ে তা দিয়ে পাইপের ফাটা অংশটি চেপে ধরে নাইম।

এদিকে, বনানীর ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা গেছে ২৫ টি তাজা প্রাণ। আগুন লাগার পর থেকেই ভবনে অবস্থান করা মানুষগুলো যখন জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল, তখন নিচে দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন হাজারো মানুষ। অনেকে ছবি তুলে কিংবা ভিডিও করে পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তখন শিশু নাইম নিজেই সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করেছেন কোনো প্রকার ভয় ছাড়াই।

নাইম জানায়, আমি কোনো ভয় পাইনি, ওই সময় আল্লার কাছে সবাই দোয়া করছিল ভেতরের মানুষগুলা যেন বাঁচে। আমিও চাইছিলাম ছোট একটু সাহায্য করে যদি কাউকে বাঁচানো যায়। সে আরো জানায়, বাসায় যাওয়ার পর তার নানী ও এলাকার অন্যরা সবাই তাকে বাহবা দিয়েছে। সবাই জড়িয়ে ধরেছে। তার নানী বলেছেন, ছবিটা দেখেছি, ভালো কাজ করছিল।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানিসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com