রাজশাহীতে শুরু হয়েছে পদ্মার ভাঙন, আতঙ্কে চরবাসী

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ |

রাজশাহীতে শুরু হয়েছে পদ্মার ভাঙন, আতঙ্কে চরবাসী
জেলার গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াতে উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আমিনপাড়া গ্রামের ৩৫টি বাড়ি-ঘর বিলীন ও ১৫ টির অধিক বাড়ীঘর আংশিক ভাঙনের ফলে বিলিন হতে বসেছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী অঞ্চলে বর্ষা ধরেনি এবার। বৃষ্টিও হয়নি পর্যাপ্ত। তবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে প্রতিদিন পানি বাড়ছে। আর পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙতে শুরু করেছে নদীর পাড়। এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন রাজশাহীর বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ। যদিও নদীর পানি এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে এভাবে পানি বাড়তে থাকলে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
রাজশাহী পবা উপজেলা হরিয়ান মধ্যচরে বসবাস করে ১০০টির মত পরিবার। চরখিদিরপুরে রয়েছে প্রায় ৪০০টি পরিবার। প্রতিবারই মধ্যচর ডুবে আর চরখিদিরপুরে ভাঙ্গে পাড়। এতে পদ্মার নদীগর্ভে বিলিন হয় খেত, গাছপালা ও বাড়িঘর। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। বৃষ্টিপাত না হলেও উজানের পাহাড়ি ঢলে ভাঙ্গতে শুরু করেছে পদ্মা নদীর পাড়া। বিশেষ করে পদ্মার নদীর ওপারে চরখিদিরপুর, খানপুর ও চরমাঝারদিয়াড়ে পাড় ভাঙায় এলাকাবাসির মধ্যে দেখা দিয়েছে অজানা আতংক। এরই মধ্যে নদীতে নেমে গেছে কয়েকশ’ বিঘা আবাদি জমি এবং অনেক গাছপালা। প্রতি মুহূর্ত কাটছে আবাস হারানোর আতঙ্কে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। গত সোমবার পবা উপজেলার মধ্যচর ও চরখিদিরপুর পরিদর্শন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ নেওয়াজ ৫০টি পরিবারের মাঝে প্রত্যেককে নগদ দুই হাজার টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
এদিকে জেলার গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াতে উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আমিনপাড়া গ্রামের ৩৫টি বাড়ি-ঘর বিলীন ও ১৫ টির অধিক বাড়ীঘর আংশিক ভাঙনের ফলে বিলিন হতে বসেছে। এতে করে ওই গ্রামের বসবাসকারী লোকজন ভাঙনের আতংকে দিনযাপন করছে। গরু, ছাগল, হাস-মুরগিসহ অন্যান্য গবাদি পশু সরাতে পারলেও অন্যত্র খোলা আকাশের নিচে বসাবস করায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ রানা উজ্জ্বল বলেন, গত ১৫ দিনে টানা পদ্মার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে চর বয়ারমারী আমিনপাড়া গ্রামের ৩৫টি বাড়িঘর পুরোটাই পদ্মায় ভাসিয়ে নিয়ে চলে গেছে। ১৫ টির অধিকবাড়ী বিলিনের পথে রয়েছে। যে হারে পদ্মার পানি অব্যাহত রয়েছে তাতে করে যে কোন সময় ওই গ্রামটি বিলিন হয়ে যেতে পারে বলে জানান। শুধু বাড়ি-ঘর না এই গ্রামের একটি বড় জামে মসজিদ ও প্রায় ৫০ বিঘার আবাদি জমি পদ্মার বুকে চলে গেছে। ফলে গ্রামটির ৫০টির অধিক পরিবারের প্রায় ৩০০ জন লোক চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ জানান, আমার ইউনিয়নের পদ্মার পানি বৃদ্ধি হয়ে বন্যার কথা গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ করবে বলে নিবার্হী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতার জানান, চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বন্যার কথা অবগত হয়েছে। চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্থদের সঠিক তালিকা করতে বলেছি এবং তাদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।
অপরদিকে দিন দিন পানি বৃদ্ধির ফলে চারঘাট উপজেলার হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর। যে কোন সময় তলিয়ে যেতে পারে এসব প্রতিষ্ঠানসহ বাড়ি-ঘর। উপজেলার ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিউল আলম রতন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বেশিরভাগ অংশ পদ্মার ভাঙনে বিলিন হয়ে গেছে। আবার নতুন করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে দেখা দিয়েছে ভাঙন। দেখা দিয়েছে ভিটে মাটি হারানোর আশঙ্কা। তিনি বলেন, যেভাবে পদ্মায় গত কয়েক দিন ধরে অসাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে টাঙ্গন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাহাপুর এলাকার একটি মসজিদসহ কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর এখন রয়েছে হুমকির মুখে। এছাড়াও উপজেলার রাওথা এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এখনও তেমন বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে উঠেনি।
রাজশাহী পাউবোর গেজ রিডার এনামুল হক জানান, প্রতিদিনই পদ্মার পানি তিন-চার সেন্টিমিটার করে বাড়ছে। শনিবার দুপুর ১২টায় রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ০৪ মিটার। এটি ভোর ৬টার চেয়ে এক সেন্টিমিটার বেশি। এর আগে শুক্রবার ভোরে পানি ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ মিটার। সোমবার বিকালে ছিল ১৭ দশমিক ১৪ মিটার। রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। এখন প্রতিদিন পানি বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এখনই পদ্মার বুকের জেগে ওঠা বেশিরভাগ চর তলিয়ে গেছে।


আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

বালিয়াডাঙ্গীতে কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে ২ বখাটের কারাদণ্ড…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com