নওগাঁর

রাণীনগরে বসত ঘর গুড়িয়ে দেওয়ায় মেয়েকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে এক অসহায় নারী…

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৪:৪০ অপরাহ্ণ |

রাণীনগরে বসত ঘর গুড়িয়ে দেওয়ায় মেয়েকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে এক অসহায় নারী…
প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ডেস্ক রিপোর্ট

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর রাণীনগরে ভাইদের নির্যাতন আর অত্যাচারে এক কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে স্বামী পরিত্যাক্তা অসহায় সাহারা খাতুন মেওয়া নামের এক নারী।


মেওয়া উপজেলার একডালা ইউনিয়নের গুয়াতা গ্রামের মৃত-নবীর উদ্দীনের মেয়ে। বাবার দেওয়া ৩ শতাংশ জমির উপর মেওয়ার নির্মিত ঘর গুড়িয়ে দিয়েছে প্রভাবশালী ভাইয়েরা। এছাড়াও বছরখানেক আগে ভাইদের মারপিটের কারণে বর্তমানে অনেকটাই পঙ্গু হয়ে মেয়েকে নিয়ে অসহায় জীবন-যাপন করছে মেওয়া।

ভুক্তভুগি সাহারা খাতুন মেওয়া জানান আমি ভাগ্যের পরিহাসে প্রায় ১৬বছর আগে ১বছর বয়সের মেয়ে আশামনিকে নিয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা হই। এরপর চলে আসি বাবার কাছে। এদিকে আমার দুই ভাই নাছির ও হানিফ এবং সৎ (অপর মায়ের ছেলে) বড় ভাই শহিদুল কৌশলে বাবার কাছ থেকে কিছু জমি বাদে সবকিছু লিখে নিয়ে বাবা-মাকে ত্যাগ করেন। এরপর থেকে আমি মেয়েকে নিয়ে সেলাইয়ের কাজ করে অসুস্থ্য মা-বাবাকে দেখাশোনা করতাম।

ভাইয়েরা ভালো নয় বলে বাবা মৃত্যুর আগে আমাকে বাড়ি করার জন্য রাস্তার পাশে ভাইদের বাড়ির সঙ্গে মাত্র ৩শতাংশ জমি লিখে দেন। এরপর প্রথমে মা পরে বাবার মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর ভাই ও ভাবীরা আমাকে সেই জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করতে বাধা দেয়। এভাবে অনেক দিন কেটে গেলে আমি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা আমার পাওনা জমি বের সেখানে জঙ্গলের মধ্যে বাবার পুরনো বাড়ি ভেঙ্গে জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি প্রদান করেন। সেই মতে বাড়ি ভেঙ্গে পুরনো টিনসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে জমিতে ঘর নির্মাণের সময় প্রভাবশালী ভাইয়েরা ঘর নির্মাণ বন্ধ করে জমি জবর-দখল করার লক্ষ্যে শুরু করে নানান পায়তারা। আমি একা হওয়ার কারণে ওদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারি না। এরপর থেকে মেয়েকে নিয়ে আমার এক ভিক্ষুক বড় চাচার বাড়িতে অসহায় দিন যাপন করে আসছি।

সর্বশেষ পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে ওই জমিতে উপস্থিত থেকে ঘর নির্মাণ করার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু চেয়ারম্যানের সময় না হওয়ায় গত মঙ্গলবার চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে আমার কিছু আত্মীয়দের নিয়ে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ভাই ও ভাবীরা আমাকে অন্যায় ভাবে মারপিট করে শ্লীলতাহানী করেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করা নিয়ে বছর খানেক আগে ভাইয়েরা আমাকে দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে বেদম মারপিট করার কারণে আমি আর তেমন কোন ভারী কাজ করতে পারি না।

তখন থেকে আমি কাপড় কেটে দিলে আমার মেয়ে কাপড় সেলাই করে যে আয় হয় সেই আয় দিয়ে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছি। এরমধ্যে আবার মারামারির ঘটনায় ভাইয়েরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়েছে। এতে করে আমি ও আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে পালিয়ে রয়েছি। আমার মেয়ে কলেজেও যেতে পারছে না।

তিনি আরো বলেন আমি ও আমার মেয়ে অনেক কষ্টে আছি। আমাদের মাথা গোঁজার একটি কুঁড়ে ঘরও নেই। আমি কি সুবিচার পাবো না। নির্মিত ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার পর থানা পুলিশের দ্বারস্থ হলে রাণীনগর থানার ওসি আমার কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। এছাড়াও জানতে পেরেছি যে আমার ও ঘর নির্মাণ করতে আসা আত্মীয়দের নামে ভাইয়েরা থানায় মিথ্যে মামলা করেছে। কোথায় গেলে আমি আমার অধিকার ফিরে পাবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান মেওয়ার ভাইয়েরা খুবই খারাপ মানুষ। গ্রামের সকল মানুষরা সম্মানের ভয়ে প্রভাবশালী এই ৩ ভাইদের ভয় করে। মেওয়া একজন অসহায় মহিলা। ভাইদের নির্যাতন আর অত্যাচারে মেওয়া একবারেই নাজেহাল। বর্তমানে কলেজ পড়ুয়া এক মেয়েকে নিয়ে মেওয়া পথে পথে ঘুরছে। গ্রামবাসীরাও দীর্ঘদিন যাবত এই ৩ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ।

কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম বলেন মেওয়ার বিষয়ে গ্রামবাসী ও কালীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করে দিলেও কয়েকদিন পর ভাইয়েরা তা উল্টে দেয়। আশ্রয় নেয় নানান রকমের মিথ্যে পায়তারার। মেওয়ার মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই বলেই ওই জমিতে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু মেওয়ার ৩ ভাই ও ভাবীরা অন্যায় ভাবে মেওয়ার নির্মিত ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে ও মেওয়াকে মারপিট করেছে। এখন প্রশাসন আর আদালতই পারে অসহায় একজন মহিলার অধিকার ফিরে দিতে এবং এই বিষয়ের সঠিক সমাধান করে দিতে।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন মেওয়ার নির্মিত ঘর ভেঙ্গে দেওয়া ও মারপিটের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রদান করা অভিযোগের কোথাও কাউকে গাছে বেঁধে মারপিট করার কথা পাওয়া যায়নি। পরে অভিযোগ দুটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আমি উভয় পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে হানিফ নামের একজনকে আটক করে বুধবারে আদালতে সোপর্দ করেছি। বাকিদের আটক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments



ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকায় সন্তুষ্ট মানুষ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com