রাণীশংকৈলে আবু সুফিয়ানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের আত্ম প্রকাশ

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ | ৫:১০ অপরাহ্ণ |

রাণীশংকৈলে আবু সুফিয়ানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের আত্ম প্রকাশ
প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ডেস্ক রিপোর্ট

আবু সুফিয়ান একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৬৬ সালের ১০ ফেব্রæয়ারী সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীকার যুদ্ধের জন্য রাণীশংকৈল ডাকবাংলোতে এলাকার যুবকদের নিয়ে অস্ত্র ক্যাম্প গঠন করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময় ট্রেনিং প্রাপ্ত যোদ্ধাদের নিয়ে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে উপজেলার সিংপাড়া নামক স্থানে কুলিক নদীতে পিস কমিটির সদস্যদের সহায়তায় পাক সেনাদের গুলিতে গুরুত্বর আহত হন। আহত অবস্থায় তিনাকে বস্তবন্দি করে রংপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এ সময় বহু নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল তিনাকে। সেখান থেকে নভেম্বরে মুক্তি পেয়ে যুদ্ধকালীন কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের দলে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন তিনি। দেশ স্বাধীকার আন্দোলনের সময় ৩ ডিসেম্বর রাণীশংকৈলকে হানাদার মুক্ত ঘোষনা করেন ভান্ডারা গ্রামের মজিব উদ্দিনের ছেলে যুদ্ধকালীন কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম। আবু সুফিয়ান ১৯৮৫ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান এবং তিনাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রাদন করা হয়।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান ১৯৭৩ সাল থেকেই ইচ্ছা করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও যোদ্ধাদের নিয়ে একটি বই প্রকাশ করার। এমনকি তিনি “ রাণীশংকৈলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ” নামক একটি বইয়ের আত্মপ্রকাশ করেছেন ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বইটি সম্পাদনা করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম. হায়দারুজ্জামান। বইটিতে যুদ্ধকালীন ঘটনাবলী তুলে ধরা হয়েছে যেভাবে। ঠিক তেমনিভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ও জীবনী সংক্ষিপ্ত আকারে পরিচয়ের পাতায় আনা হয়েছে। বইয়ের পাতায় স্থান পেয়েছে একাত্তরের স্বাধীনতা ও প্রতিরোধ যুদ্ধের সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির আলোকিত মুখ শহীদ মফিজ উদ্দিন মাষ্টার, আলী আকবর এমপি, মরহুম মিজানুর রহমান, আলহাজ ইমরান আলী, মরহুম মইনুদ্দীন বিশ্বাস সহ অনেকের নাম। বইটি ছোট আকারে প্রকাশ করার কারনে যাদের জীবনী তুলে ধরা সম্ভব হয়নি তাদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

আবু সুফিয়ান অর্থাভাবে লেখাপড়া এগিয়ে যেতে না পারায় নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেই ১৯৬৬ সালে সেনা বাহিনীতে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইটি প্রকাশ করতে গিয়ে দির্ঘ সময় পার করতে হয়েছে তাও আবার অর্থাভাবের কারনে। তিনি উপজেলার পদমপুর গ্রামের মৃত বেসারত আলীর ছেলে। ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনার প্রকাশিত “ রাণীশংকৈলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ” বইটি অবসর প্রাপ্ত সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, সংবাদকর্মী, সুধিমহলের হাতে সৌজন্য কপি তুলে দেন। পাঠক কুল বইটি পড়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পেরে মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় আগামী প্রজন্ম এগিয়ে যাবে, দেশের নেতৃত্ব দেবে এই দাবি তুলেন আবু সুফিয়ান। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ নয় মাস দেশ স্বাধীকার আন্দোলনের জলন্ত চিত্র আমার স্মৃতিপটে ভেসে আসে সব সময় তাই বইটি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত থাকতে পারিনি। আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠুক বইটির লেখক এই প্রত্যাশা কামনা করেন।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

পঞ্চগড়ে সম্পত্তির বিরোধে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন..

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com