রাবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগ : তদন্ত কমিটি গঠন

শুক্রবার, ০৩ আগস্ট ২০১৮ | ১২:২২ অপরাহ্ণ |

রাবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগ : তদন্ত কমিটি গঠন

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দোকান থেকে কম্পিউটার ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম মার্কেটে এ ছিনতাই চেষ্টাকালে বাধা দেওয়ায় ওই দোকানের কর্মচারি, পাশের দোকানদার ও স্টেডিয়ামের প্রহরীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ছিনতাই চেষ্টা ও মারধরে অভিযুক্তরা হলেন, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদসহ ৬/৭ জন।

webnewsdesign.com

এর আগে মারধরের শিকার ওই দোকান ‘এমই কম্পিউটার’র কর্মচারি শরিফুল ইসলামের পক্ষ থেকে দোকানের মালিক ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অর্ডালী পিয়ন মাজদার হোসেন, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের প্রহরী শফিকুল ইসলাম, বিশ^বিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সিনিয়র সহকারি কাম টাইপিস্ট নূরে আলম সিদ্দিকী (বাবু) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুলাই সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্টেডিয়াম গেটে হঠাৎ হৈচৈ শুনতে পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায় ইমতিয়াজ আহমেদ ও সারোয়ার হোসেনসহ ৬/৭ জন শিক্ষার্থী ‘এমই কম্পিউটারের’ দোকান থেকে কম্পিউটার ছিনতাই চেষ্টা করছে। বাধা দিলে ওই দুই শিক্ষার্থীসহ ৬/৭ জন দোকানের কর্মচারি শরিফুল, পাশের দোকানদার নূরে আলম সিদ্দিকী ও প্রহরী শফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

লিখিত অভিযোগ থেকে এ ঘটনায় জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এদিকে গতকাল বুধবার বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্যরা হলেন- ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবু জাফর মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম ও চারুকলা বিভাগের প্রভাষক হুমায়ুন কবির।

জানতে চাইলে এমই কম্পিউটারের কর্মচারি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত সোমবার সন্ধ্যায় ওই দুই শিক্ষার্থী দোকানে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি হ্যাপি নামের কাউকে চিনি কিনা। চিনি বললে তারা আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর শুরু করে। পরে আমি পাশের দোকানদার ও প্রহরীকে ডাক দিলে তাদেরও মারধর করা হয়।’

এ বিষয়ে মারধররের শিকার নূরে আলম সিদ্দিকী ওরফে বাবু বলেন, ‘দোকানে বসে ছিলাম। পাশের দোকানে হৈচৈ শুনে ছুটে গিয়ে দেখি, ছাত্রলীগের দুই নেতা ইমতিয়াজ ও সারোয়ারসহ ৬/৭ জন দোকানের কম্পিউটার নিয়ে টানাটানি করছিল। এসময় এগিয়ে গিয়ে বাধা দিলে তারা গালিগালাজ করে। পরে চড়-থাপ্পড়, কিলঘুষি মারে।

প্রহরী শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্টেডিয়াম মার্কেটে হৈচৈ শুনে ছুটে যায়। এসময় দেখি ছাত্রলীগের নেতা ইমতিয়াজ ও সারোয়ারসহ বেশ কয়েকজন দোকানের কর্মচারি শরিফুলকে মারধর করছে। এসময় কয়েকজন দোকানের কম্পিউটার নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাটানি করছে। মারতে নিষেধ করি। আমি স্টেডিয়ামের প্রহরী পরিচয় দেয়। তারপরে তারা আমাকে গালিগালাজ করে কিল-ঘুষি মারে।

দোকানের মালিক মাজদার হোসেন জানান, আমি নির্বাচনের কারণে দোকানে ছিলাম না। আমার পাশের দোকানদার বাবু আমাকে ফোনে জানায় কর্মচারী শরিফুলকে মারধর করে কম্পিউটার নিয়ে যাচ্ছে। শুনে আমি দোকানে আসি। কে বা কারা মারধর করেছে আমি জানি না। তবে তারা আমার কম্পিউটার নিয়ে যেত। বাবু ও শফিকুল বাধা দেওয়ায় নিতে পারিনি।

তিনি আরো বলেন, শরিফুলের কাছে ২ হাজার টাকা পাইতো। তারা টাকা নিতে এসেছিল। টাকা না দেওয়ায় তারা শরিফকে মারধর করে কম্পিউটার ছিনতাই করতে চেয়েছিলো। এ ঘটনায় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিবে তা মেনে নিবো।

অভিযুক্ত রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন কম্পিউটার ছিনতাই ও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে কোন মারধর করিনি। শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে। ইমতিয়াজের মামাতো ভাইয়ের পাওনা দুই হাজার টাকা নিতে সেখানে গিয়েছিলাম।’

অভিযুক্ত রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমি ওই দোকানের কর্মচারি শরিফুলের কাছ থেকে পাওনা দুই হাজার টাকা নিতে যায়। টাকার কথা বললে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি স্থানীয় মাদকসেবী ও কয়েকজন লোক নিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেন। সেখানে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা সেখান থেকে চলে আসি। পরে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ভাই গিয়ে বিষয়টি মিমংসা করতে চাইলে তারা রাজি হয়নি। উল্টো তারা আমাদের হুমকি দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কর্মচারি শরিফুলের বাড়ি আমার বাড়ির পাশে দূর্গাপুর। দূর্গাপুরের লোকজনের কাছ থেকে ওই কর্মচারি টাকা ধার নিয়ে আর বাড়ি ফিরে না।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মিমাংসা করার জন্য বসা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বিবিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

চৌমুহনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানার ওসির বদলি…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com