শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া পদ্মায় বিলীন!

সোমবার, ১৩ আগস্ট ২০১৮ | ৬:৩৭ অপরাহ্ণ |

শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া পদ্মায় বিলীন!
শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয় স্থানান্তর করতে করতে বিলীন হয়ে গেল পদ্মায়

রাজশাহী প্রতিনিধি: এক সপ্তাহ আগেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল রাজশাহীর বাঘার চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপরও প্রিয় প্রতিষ্ঠানের টানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রত্যেক দিন ছুটে আসতেন। সেই সঙ্গে এক কিলোমিটার দূরে কালিদাস এলাকায় একটি জায়গায় চেয়ার-বেঞ্চসহ আসবাপত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলছিল। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছে। এ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এভাবেই বিলীন হলো পদ্মায়।

এরমধ্যে রোববার দুপুরে একেবারে পদ্মা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেল ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন।


জানা গেছে, বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় এক সপ্তাহ আগে ভাঙন থেকে ৩০ মিটার দূরে ছিল। বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিতে নিতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে পাশাপাশি চকরাজাপুর বাজারসহ এলাকায় এক সপ্তার ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের বাড়ি-ঘর পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বাঘার পদ্মাচরের মধ্যে দুটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছে।


অনেক স্মৃতি বিজড়িত ভবনে পড়তে আসা চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জনি সরদার, আবু দাউদ, সাহাদত হোসেন, হাসিবুল ইসলাম, শাকিলা খাতুন জানান, চার এলাকা থেকে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে আসতে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। কখনও নৌকা, আবার পায়ে হেঁটে লক্ষীনগর চর থেকে পড়ালেখার জন্য ছুটে এসেছি। কিন্তু সেই স্কুলের ভবনটি একেবারে নদীর গর্ভে চলে গেল।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, আমরা ভাবতাম নদীর পানি কমলে বিদ্যালয়ের ভবনটি রক্ষা পাবে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধির কারণে আজকে ( রোববার) নদী গর্ভে চলেই গেল। আমরা আগে থেকে বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। এমন সময় চোখের সামনে বিদ্যালয়ের ভবন পানিতে ডুবতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয় স্থানান্তর করতে করতে বিলীন হয়ে গেল।


 

চকরাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিযুল আযম বলেন, গত তিন দশকে ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, রাস্তা-ঘাটসহ হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি। বিভিন্ন সময়ে বসত ভিটা হারিয়ে সর্বহারা হয়েছে প্রায় সহ¯্রাধিক পরিবার। এদিকে ২০১২ সালে ভাঙনের কবলে পড়ায় কালিদাশ খালি মৌজায় সরিয়ে নেয়া হয়েছিল বিদ্যালয়টি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালেও ভাঙনের কবলে পড়েছিল বিদ্যালয় ও বাজার।

এ ব্যাপারে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, ওই এলাকাটি হচ্ছে পদ্মা নদীর অভ্যন্তরে। আমরা ওই এলাকাকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রজেক্ট দাঁড় করিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত একনেকে পাস হয়নি। অনুমোদন হলে ড্রেজিং করে পানির গতিধারা অন্যদিকে প্রভাবিত করলে এলাকাটি রক্ষা পাবে। আশা করছি শিগগিরই প্রকল্প অনুমোদন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও বেশ তৎপর রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী পানির বিপদসামী ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। এরমধ্যে শনিবার রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৪১ মিটার। আর রোববার সন্ধ্যায় রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৩৩ মিটার। সকালে ছিল ১৬.৩৬ মিটার।

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

বালিয়াডাঙ্গীতে কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে ২ বখাটের কারাদণ্ড…

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com