শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, বাসে আগুন

বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ | ২:৩১ অপরাহ্ণ |

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, বাসে আগুন
বাসচাপায় বিইউপি ছাত্র নিহত: শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, বাসে আগুন

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া গতির বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃতু্যর ঘটনার দগদগে স্মৃতি নগরবাসীর মন থেকে মুছে না যেতেই এবার প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষিতে আবরার আহমেদ চৌধুরী নামে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আরেক ছাত্র নিহত হয়েছেন। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে এ ঘটনার পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী ১২ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রগতি সরণিতে বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থী আবরারের নামে দুই মাসের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলের আশ্বাস দেন। তবে তার এ প্রতিশ্রম্নতির পরও শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবরোধ না তুলে বরং আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বেগতিক পরিস্থিতিতে মেয়র ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।

webnewsdesign.com

এদিকে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের দায় প্রাথমিকভাবে বিইউপির শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হলেও পরে পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, শিক্ষার্থীদের ফাঁসতে পরিবহন শ্রমিকরাই ওই বাসে আগুন দেয়। যদিও আগুন মারাত্মকভাবে জ্বলে ওঠার আগে বিইউপির শিক্ষার্থীরা তা নিভিয়ে ফেলে।

বিইউপির শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন জানান, দুই ব্যক্তি বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা ধাওয়া করে একজনকে ধরে ফেলে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এমামুল হকের দাবি, বিইউপির শিক্ষার্থী আবরারের মৃতু্যর ঘটনায় তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় এ আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিক দুজন পরিবহন শ্রমিক সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এদের মধ্যে একজন ওই বাসেরই হেলপার বলে দাবি করেন এনামুল।

যদিও এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে বিইউপি ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিবহন শ্রমিকের আগুন লাগানোর বিষয়টি ধরা পড়লে তাদের মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়। অগ্নিসংযোগের পর শিক্ষার্থীরা দ্রম্নত পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে ফেলায় বাসটির মাত্র দুটি সিট পুড়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

যেভাবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: আবরারের সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শী পথচারীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিইউপির একটি বাস বসুন্ধরা এলাকায় দাঁড়িয়েছিল। সোয়া ৭টার দিকে আবরার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহনে ওঠার সময় পাশে থাকা গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃতু্য হয়।

রাজধানী ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কসংলগ্ন প্রগতি সরণিতে বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী। আবরার নিয়ম মেনেই পথচারী পারাপারের জন্য নির্ধারিত স্থান জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন।

অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অন্য একটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়েই বাসটি আবরারকে ধাক্কা দেয়। তিনি দুটি বাসের মাঝখানে পড়ে যান। পরে সুপ্রভাত বাসের নিচে চাপা পড়েন। আবরার নিয়ম মেনে জেব্রা ক্রসিং দিয়েই রাস্তা পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন। ওই প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, ঘাতক বাসটি আবরারকে চাপা দেয়ার পর তাকে বেশ খানিকটা রাস্তা টেনেও নিয়ে যায়। পথচারী জহিরুল জানান, সুপ্রভাত পরিবহনের ঘাতক বাসচালক একই কোম্পানির অপর একটি বাসকে পেছনে ফেলার জন্য বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এতে আবরার দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় তার সহপাঠীরা বাসটি আটক করেন। তারা পলায়নরত বাসচালক সিরাজুল ইসলামকে ধরে ফেললেও হেলপার দৌড়ে পালিয়ে যান।

এদিকে বাসচাপায় সহপাঠীর মৃতু্যর প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে কুড়িল থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ছয়টি জায়গায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান বিইউপির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের সঙ্গে নর্থ সাউথ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এতে গোটা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ, ওই এলাকার কাউন্সিলর ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন বিকল্প পথে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান। তবে যানজট দীর্ঘ হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা তাদের পক্ষে অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বিইউপি সহকারী রেজিস্ট্রার মাকসুদ জানান, পুলিশ, ওই এলাকার কাউন্সিলর ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা আজকের (মঙ্গলবার) মতো আন্দোলন স্থগিত করেছে। আমরা তাদের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।

তবে শিক্ষার্থীরা জানান, আজকের (মঙ্গলবার) মতো আন্দোলন স্থগিত করা হলেও বুধবার সকাল ৮টা থেকে আবারও আন্দোলন শুরু হবে। একই সঙ্গে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ এলাকা থেকে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহবান জানান তারা।

ঢাকায় সু-প্রভাত বাস চলবে না : বিইউপি শিক্ষার্থী আবরারের মৃতু্যর পর তার সহপাঠীদের দাবির প্রেক্ষিতে সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলের আশ্বাস দেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছে সুপ্রভাত বাস রাস্তায় না চালাতে। আমি বলতে চাই, রাজধানী ঢাকার কোনো রুটেই সুপ্রভাত বাস চলবে না। আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বলেছি, সুপ্রভাতের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। ঢাকায় সুপ্রভাত চলবে না। সেই সঙ্গে চেকিং-কন্ট্রাক্ট সিস্টেম বাতিল করতে হবে।’

এ ছাড়া নিহত আবরারের নামে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রম্নতি দেন মেয়র। এ সময় বিইউপির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী মেয়রের সঙ্গে কথা বলেন এবং লিখিতভাবে ১২ দফা দাবি পেশ করেন।

মেয়র বলেন, আগামী দুই কিংবা সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে এ জায়গায় আবরার চৌধুরীর নামে ফুটওভার ব্রিজ করে দেব। আপনারা আমাকে একটু সময় দিন। এ ঘটনায় আপনাদের মধ্য থেকে দুই থেকে পাঁচজনকে নিয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করব। আপনাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি পর্যায়ক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানোর জন্য পার্কিং করে দেব। এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাসের মালিকদের সংযুক্ত করা হবে, এ ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। এ কাজটি আমরা দ্রম্নত করব।’

মেয়র আরও বলেন, ‘সড়কসংশ্লিষ্ট যতগুলো সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে তোমরা আমাদের সঙ্গে থাকো। আমরা একটি একটি করে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ করব।’

বাসচালকের বিচারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চালকের বিচার করতেই হবে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ বিচার হবে।’

তাহলে আমরা মরছি কেন: আবরারের মৃতু্যর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মের কথা বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করলে তারা আরও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় তারা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আপনারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা) নিয়মের কথা বলছেন, আমরা রাস্তায় মরছি- এ পরিস্থিতির সমাধান কবে?

এ সময় ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তোমাদের মতো আমরাও ব্যথিত। তোমরা জেনেছ, ঘটনার পরই আমরা ঘাতক বাস ও চালককে আটক করেছি। তোমরা নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করছ, আমরাও এতে অনুপ্রাণিত। কারণ, আমরাও নিরাপদ সড়ক ও যানজটমুক্ত রাজধানীর জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের এ আন্দোলন আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং কাজকে বেগবান করবে। তোমরা জানো, রাজধানীর ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা ছিল। আমরা সেখান থেকে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছি। হয়তো আমরা সবকিছু শেষ করতে পারিনি কিন্তু ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা উত্তরণে বেশকিছু সফলতা পেয়েছি। রাতারাতি সব হয় না, আমাদের সময় দাও।’

জয়েন্ট কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই আমরা এখানে আছি। তাদের প্রতি আমাদের বলপ্রয়োগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ডিএনসিসি এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের মোটিভেশনের চেষ্টা করছি। তবে তারা আমাদের অনুরোধ এখনও রাখেনি। তারা রাস্তা অবরোধ করে আছে, আমরাও রয়েছি।’

ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন আবরার: আববারের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। মেডিকেল কলেজে সুযোগ না পেয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফোশনালসে (বিইউপি) ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ (আইআর) বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। আগামী বছর আবারও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা ছিল তার। তার সব স্বপ্নই দুই বাসের রেষারেষিতে নিঃশেষ হয়ে গেল। ছেলের দাফনের সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব বলে মূর্ছা যাচ্ছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আবরার আহাম্মেদ চৌধুরীর মা ফরিদা ফাতেমী। মঙ্গলবার দুপুরে বিইউপির এডিবি গ্রেড গ্রাউন্ড মাঠে জানাজা শেষে বনানী সামরিক কবরস্থানে আববারকে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেল পাস করে বিইউপিতে পড়ছিলেন আববার। তার ছোট ভাই আবীদ আহমেদ চৌধুরী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বসুন্ধরা ডি বস্নকে ভাড়া বাসায় থাকেন তারা।

ছেলেকে শেষ বিদায় দিতে এসে মা ফরিদা ফাতেমী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবাকে কখনো একা ছাড়তে চাইতাম না। ও বলতো, আম্মু তুমি যদি আমাকে একা চলাফেরা করতে না দাও, তবে আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট হব কীভাবে? সবাই আমার বাবাটাকে অনেক পছন্দ করত। পরিবারের মাথার মুকুট ছিলি তুই। আমাদের একা ফেলে চলে গেলি কীভাবে? আমি কীভাবে তোকে ছাড়া থাকব? তুই একবার ফিরে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে মা বলে ডাক বাবা।’

ছেলেকে কবরে শুইয়ে দেয়ার সময় আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফ আহাম্মেদ চৌধুরী বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক কষ্টের সময় পার করেছি। ছেলেকে কবরে শুইয়ে দেয়ার মতো কষ্ট আর কিছুর সঙ্গে মিলবে না। জীবনের সকল সফলতা যেন একটি ঘটনায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। আমার বাবাটা আর আমার কাছে আসবে না, কোনো দিন আর আমি তার মুখে বাবা ডাক শুনতে পারব না।’

শোকে বিহ্বল শিক্ষক-সহপাঠীরা: আবরারের এ মর্মান্তিক মৃতু্য কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা। শোকাতুর সহপাঠীরা জানান, সকাল সাড়ে আটটায় বিইউপিতে ক্লাস ছিল তার। তাই যথাসময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেতে বিইউপির গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন। তবে বেপরোয়া গতির বাস তার প্রাণপ্রদীপ নিভিয়ে দেবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি সঙ্গে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা। তাই তার মৃতু্য নিশ্চিত হওয়ার পর মুহূর্তে সবাই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

বিইউপির শিক্ষার্থীরা জানান, খুব শান্ত ও অমায়িক স্বভাবের ছিলেন আবরার। কারও সঙ্গে কখনো মনোমালিন্য হতো না তার।

আবরারের শিক্ষক বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শায়লা সুলতানা বলেন, ‘সোমবার দুপুরে আবরারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার। অথচ আজকে সে আর আমাদের মধ্যে নেই। এটা ভাবতেই পারছি না।’ প্রিয় এই ছাত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এক কথায় মনে রাখার মতো ছাত্র ছিল আবরার। যেমন পড়াশোনায়, তেমনি আচার-আচরণে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতাতেও তার সরব উপস্থিতি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব প্রতিযোগিতায় আবরার প্রথম হতো।’

ছাত্র বিক্ষোভে ভিপি নুর: বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্‌বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এই আন্দোলনে আঘাত করা হলে ‘দাতভাঙা’ জবাব দেয়া হবে।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত হন। বাসচালকের বিরুদ্ধে আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়াসহ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তবে তার আশ্বাসেও শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছাড়েননি।

এ পরিস্থিতিতে বিকাল পৌনে ৫টায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানকে নিয়ে সেখানে যান নুর। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলনে রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হয়েছে। ছাত্রসমাজকে সচেতন থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বানচালে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আঘাত করা হলে ছাত্রসমাজ দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

আপনার মুল্যবান মতামত দিন......

comments

প্রধান কার্যালয়: শিমুল লজ, ১২/চ/এ/২/৪ (২য় তলা), রোড নং ৪, শেরেবাংলা নগর,শ্যামলী,ঢাকা‌.
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

আঞ্চলিক কার্যালয়: বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com