হাতীবান্ধায় ধাত্রীর ভুল চিকিৎসায় নব-জাতকের মৃত্যু

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ৪:৪৯ অপরাহ্ণ |

হাতীবান্ধায় ধাত্রীর ভুল চিকিৎসায় নব-জাতকের মৃত্যু
হাতীবান্ধায় ধাত্রীর ভুল চিকিৎসায় নব-জাতকের মৃত্যু

মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা এলাকায় ফিরোজা বেগম নামে এক ধাত্রীর ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় নব জাতকের পিতা নুরে এলাহী বাদী হয়ে গত ১৫ আগষ্ট হাতীবান্ধা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই ধাত্রী ফিরোজা বেগম তার বাড়িতে একটি টিনের চালায় ৩ বছর ধরে মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র খুলে বসেছেন। তার ভুল চিকিৎসার কারণে প্রায় সময় নব জাতকের মৃত্যু হয়ে থাকে।


অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বড়খাতা রেলওয়ে কলোনী এলাকার ফজুল হকের মেয়ে ফিরোজা বেগম নিজেকে একজন দক্ষ ধাত্রী দাবী করে তার বাড়িতে মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র খুলে বসেছে। তিনি তার বাড়িতে নিয়মিত গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসব করা পাশাপাশি বাচ্চা নষ্ট (এমআর) করে থাকেন।

গত ৭ আগষ্ট ওই উপজেলা দোলাপাড়া এলাকার নুরে এলাহীর স্ত্রী জেমি বেগমের প্রসব ব্যাথা উঠলে তারা ফিরোজা বেগমের বাড়ি নিয়ে আসে। এক দিন পর ৮ আগষ্ট একটি ছেলে বাচ্চা প্রসব করেন। জন্মের পর বাচ্চাটি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে যায়। পরে নুরে এলাহী মা ও নবজাতককে প্রথম লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল পরে রংপুর মা ও শিশু হাসাপাতলে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগষ্ট ওই নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।

নুরে এলাহী অভিযোগ করে বলেন, ধাত্রী ফিরোজা বেগমের ভুল চিকিৎসার কারণেই তার বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। তাকে রংপুর মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জন্মের সময় নব জাতক মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার চেয়ে স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগও করেছেন। কিন্তু ৩ দিনেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না। উল্টো একটি মহল বিষয়টি মিমাংশা করতে আমাকে চাপ দিচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধাত্রী ফিরোজা বেগম তার বাড়িতে একটি টিনের চালে মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র খুলে বসেছে। পাশেই নলকুপ ও গরুর মলসহ পঁচা পানির ডোবা। যার দুন্ধ চার দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সচেতনতার অভাবে গ্রামের দুস্থ লোকজন তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসে। তার ভুল চিকিৎসার কারণে প্রায় সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়ে থাকে। অথচ ফিরোজা বেগমের এ মা ও শিশু সেবা কেন্দ্রের বিষয়ে কিছুই জানেন না উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

ধাত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, বিভিন্ন এনজিওতে মা ও শিশু সেবা নিয়ে চাকুরী করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বাড়িতে সন্তান প্রসব করে থাকি। তবে সিভিল সার্জন বা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো অনুমতি পত্র নেই।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রমজান আলী জানান, বিষয়টি অবগত হয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ফিরোজা বেগমের মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নেই।

হাতীবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments



ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com