১ম র্পব-তুমি রবে নীরবে

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ৩:২৬ অপরাহ্ণ |

১ম র্পব-তুমি রবে নীরবে
অনলাইন

 

১ম র্পব-তুমি রবে নীরবে



দীপান্বিতা গাঙ্গুলী
(প্রথম পর্ব)

(একটা ঘুমঘুম সকাল, মুঠো ফোনে রিং- তুমি রবে নীরবে )
রাই— উফ্ এতো ভোরে কে ফোন করলো আবার
মা নয়তো —-
হ্যালো , হ্যলো কে আবার।

দেব—আমি – তুমি চিনতে পারছোনা রাই ?

রাই—-হ্যাঁ — বলো ,
হঠাৎ , এতো -দিন পর ,

দেব—-না – না মানে বলছিলাম তুমি কেমন আছো ?

রাই—ভালো আছি ওকে ফাইন-
বেশ আছি ।
দেব—তারমানে আমাকে ব্যতীত
তুমি বেশ থাকতেই পারো।

রাই—-দেখো দেব যে দিন যায় সে যায় ।

দেব—রাই তোমার হাসবেন্ড—– ?

রাই—দিব্বি আছে ,
আস্তে আস্তে অনেকটাই রিকোভার করেছে
সৃষ্টি কর্তার ইচ্ছেয় ।
দেব তোমার মেয়ে—
তৃণা বুঝি খুব দুষ্টু হয়েছে ,
হবেইবানা কেনো তুমিওতো কম ছিলেনা ,
আফটার অল ওতো তোমারই মেয়ে ,
ওর দুটো চোখ যেন সাগরের বুকে নীল আকাশ।
দেব—-কেন রাই তোমার ছেলেওতো ভারী সুন্দর
দেখতে আর স্বভাবের কথা বলতে গেলে
একেবারেই মা ,
আর পড়াশোনায় বেশ এগিয়ে গেছে।

রাই—- দেব , ছারো ওইসব কথা
আমার মাথাটা বেশ টিপ টিপ করছে ,
এই অফিস থেকে ফিরলাম এখন আর ঐসব শোনার মতো মুড আমার অন্তত নেই
ফোনটা তাহলে এবার —-
দেব—- না- না রাই তোমাকে যে আমার অনেক কথা বলার ছিলো —-

রাই—-আচ্ছা দেব তুমি আমার
নাম্বারটা- পেলে কোথায় ?
দেব—-তুমি সত্যি কতোটা পালটিয়েছো এই কয়েকটা বছরে,
আমি কিন্তু নিয়মিতো তোমার লেখাগুলো ফলো করি ।

রাই—-মানে ?

দেব—-এর উত্তরটা অতি সহজ রাই
যে সব পত্রিকা তোমার লেখা ছাপিয়েছে
সেইখান থেকে অতি সহজেই তোমার নাম্বারটা পেয়ে গেছি —
রাই—ও- তাই নাকি —
দেব মনে হচ্ছে তোমার বাড়ির লক্ষীটি আজ বাড়িতে নেই ?
দেব —ওয়াও -তোমার ধারণাটা একেবারেই পারফেক্ট,
কাল ও তৃণাকে নিয়ে ওর মা বাবার কাছে গেছে ।

রাই—–ও সেটা আমি আগেই ধরেছিলাম।

দেব —–রাই মনে পরে হঠাৎ তোমার সাথে আমার প্রথম পরিচয়,
রাশি রাশি ফোনে ভালোবাসার চড়াই উতরাই পার হওয়া ।
স্বপ্নের শিড়ি গুলো কতো দ্রুতই টপকে টপকে দুজন দুজনকে ছুঁয়েছি আশ্লেষের সুরে ।
সেই একটু একটু করে মাধবী ভোরের ভাঁজে ভাঁজে উজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরণ।
উদ্ভাসিত হয়ে ওঠা এক একটা বিকেল
কবিতায় আচ্ছন্ন রাত ।
তোমাকে আমাকে কতো গান শুনিয়ে যেতো গভীর রাতের অনুরাগের আবির ।
আমাদের অনুভূতি গুলো আচ্ছন্ন করে রাখতো ওই ভোরের দোয়েল তার নরম পালক দিয়ে ।
রাই— দেব আর নয়
প্লিজ- প্লিজ স্টপ ।
এইসব আর ভালো লাগছেনা-
জাস্ট ডিসগাস্টিং ,
দেব—রাই , রাই তুমি কি শুনছো
লক্ষীটি আমার–
তুমি এতোটাই পালটিয়েছো ।
এ যেন একেবারেই অচেনা তুমি
এতো রাগ ,এতোটাই অভিমানের অন্ধকার কূপে বন্দি করে রেখেছো নিজেকে।
তবে আমিও কিন্তু একদমই ভালো নেই রাই
শুন্য পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি তোমারি অপেক্ষায়।
হ্যাঁ – হ্যাঁ একদম পালটিয়ে ফেলেছি নিজেকে,
দেব—- রাই সত্যি করে বলতো তবে কি পরন্তু বিকেলের উষ্ণ ঠোঁটের নিবিড় স্পর্শ আর তোমাকে বিমুগ্ধ করেনা ।

রাই—না করেনা দেব
একেবারেই করেনা
ইউ ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড।

দেব—-তবে কেনো রাই বারেবারে
ফিরে আসো আমার স্মৃতিতে !
নিশাচরের মতো ধস্ত স্মৃতি নিয়ে একান্তে তোমার শুভ কামনা করি নিজেরি অজান্তে।
ফিরে এসো রাই সকল বিপন্নতা কাটিয়ে এই শূন্যতার গভীরে।
নীল সমুদ্রের বুকে ঢেলে দাও এক গন্ডুস অমৃত ,
ক্যানভাসের নতুন পাতার অক্ষরে শুধু তুমি আর আমি
হাতধরে এগিয়ে যাবো যেখানে নীল দিগন্ত ছুঁয়েছে পাহাড়ের কোল।
ওই শামুকের খোলস ভেঙে ফেলো রাই
অপার্থিব ভালোবাসার বিমুগ্ধ জ্যোৎস্নায় ধরা দাও শুধু নিজেকে একান্ত আমার করে ।
এ কেমন বিপন্নতার ঝর ভেঙে দিলো নীলকন্ঠ পাখির সুর ।
রাই তুমি চুপ করে আছো
কেনো—?
বলো ?
কেনো কেনো
উত্তর দাও রাই—???
আজ আমার কোন কথার উত্তর নেই বুঝি তোমার কাছে ।
(রাইয়ের কান্নার আওয়াজ)
রাই – রাই তুমি কাঁদছো -কেনো বলো
বলো কেনো ?
তোমার চোখের এক বিন্দু জল যে আমার বুকের ক্ষতকে রক্তাক্ত করছে ।
কথা বলো – কথা বলো
আমিতো আছি এই দেখো
একান্তই তোমারি করে ;
নির্জন সন্যাস ভেঙে ফেলো
পৌঁছে যাও সেই মন্দিরে
যেখানে তোমার কূল ছাপিয়ে ভালোবাসার
তরঙ্গে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের প্লাবনে হারিয়ে যাবে
সকল দুঃখের স্মৃতি।
আমি অনেক আশা করে শিশিরে ভেজা রক্ত করবী এনেছি।
এনেছি ভোরের সদ্য ফোটা শিউলি
তোমার দুটো হাত ভরিয়ে তুলব বলে!
উত্তর দিচ্ছোনা কেনো রাই
এতো নিষ্ঠুর হলে,
(বলতে বলতেই ফোনটা কেটে গেলো )তবে কি ?
না – রাই কেটে দিলো।
সব শেষ——-

মন্তব্য করতে পারেন...

comments



ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ…

প্রধান কার্যালয়ঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, আধুনিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও-৫১০০
বার্তা বিভাগ-01763234375 অথবা 01673974507, ইমেইল- sangbadgallery7@gmail.com

2012-2016 কপি রাইট আইন অনুযায়ী সংবাদ-গ্যালারি.কম এর কোন সংবাদ ছবি ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথায় প্রকাশ করা আইনত অপরাধ

Development by: webnewsdesign.com